ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনি দুর্বলতা এবং সমস্যার সমাধান

আগের সংবাদ

শক্তিশালী রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় যশ, বহু গ্রাম প্লাবিত

পরের সংবাদ

বিদায় হাবীবুল্লাহ সিরাজী

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২১ , ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৫, ২০২১ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ

চলে গেলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সোমবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হাবীবুল্লাহ সিরাজীর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। ক্যানসারে আক্রান্ত হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে গত ২৫ এপ্রিল রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। কবির প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। হাবীবুল্লাহ সিরাজীর জন্ম ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলায়। ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বুয়েট থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন তিনি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক হাবীবুল্লাহ সিরাজী ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে তাকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেয় সরকার। পেশাগত জীবনে প্রকৌশলী হাবীবুল্লাহ সিরাজী লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি একাধারে কবিতা, উপন্যাস ও শিশুসাহিত্য লিখেছেন। হাবীবুল্লাহ সিরাজীর বিকাশ ষাটের শেষ দিকে। যদিও বাংলাদেশ নিজস্ব কবিদের খুঁজে পেতে শুরু করে পঞ্চাশের দশকে; তবু ষাটের দশকে মূলত এর প্রগাঢ়তা পায়। হাবীবুল্লাহ সিরাজীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দাও বৃক্ষ দাও দিন’ যদিও স্বাধীন বাংলাদেশ-পর্বে প্রকাশিত হয়েছে; তবু পাকিস্তানের শেষপাদ থেকেই তার কবিখ্যাতি বিস্তৃত। প্রথম কাব্যগ্রন্থ থেকেই কাব্যের বিষয় প্রকরণে, সচেতন শব্দপ্রয়োগ, উপমা ও উৎপ্রেক্ষা এবং অলঙ্কার সৃষ্টিতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বাংলা কবিতার বিশাল পরিমণ্ডলে সাবলীল গতিবিধি বিশেষভাবে উল্লেখ্য। বিশ্ব কবিতার কাঁধে হাত রেখে বাংলা কবিতাও ষাট দশকে ইতিবাচক বাঁক নেয়। বিষয়বস্তু আঙ্গিক ও প্রকরণ আরো সৃজনশীল ও ঋদ্ধ হয়ে ওঠে। এই দশকে বাংলা কবিতার উন্নয়ন প্রচেষ্টায় হাতেগোনা যে ক’জন কবি তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাদের মধ্যে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী অন্যতম মননশীল কাব্যশেরপা। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বড় ঘটনা। কবিতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার সমর্থন একজন লড়াকু সৈনিকের মতো বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী তার কবিতায় নিত্য স্বপ্ন রচনা করে আমাদের কবিতামগ্ন হতে প্রাণিত করেন; তার গদ্য পড়েও আমরা পাই কবিতার স্বাদ। হাবীবুল্লাহ সিরাজী ২০১৬ সালে একুশে পদক, ২০১০ সালে রূপসী বাংলা পুরস্কার এবং কবিতালাপ সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৭ সালে বিষ্ণু দে পুরস্কার, ১৯৯১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৯ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। মৃত্যু তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে ঠিকই কিন্তু যে বিপুল সৃষ্টি ভাণ্ডার রেখে গেছেন, অনেক বছর তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। অন্তিম শ্রদ্ধা হে মহাকালের পথযাত্রী।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়