ভোলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ৫০ গ্রাম প্লাবিত

আগের সংবাদ

ছাগলকে জরিমানা করলেন ইউএনও!

পরের সংবাদ

থানায় গিয়ে হোটেল বয়ের প্রাণে বাঁচার আকুতি!

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২১ , ১১:২৮ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৬, ২০২১ , ১১:২৮ অপরাহ্ণ

কথা কথায় অশ্লীল গালমন্দ। এর থেকে একটু বেশি হলেই বব্ধকক্ষে নিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধম মারধর। এমন কী গরম লোহার ছ্যাঁকা! নিত্যদিন এভাবেই হোটেল বয়দের উপর এমন নির্যাতন চলছে বান্দরবানের লামা বাজার চৌরাস্তা মোড় ‘হোটেল চৌরঙ্গিতে’। এই বিষয়ে মঙ্গলবার (২৫ মে) দিনগত রাতে প্রাণে বাঁচার আকুতি নিয়ে লামা থানায় হাজির হন ওই হোটেলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা মো. সাইফুল ইসলাম (২২) নামের এক তরুন।

ওই তরুন থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দারিদ্রতার কারণে এই হোটেলটি বয়ের চাকরি নেন তিনি। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দোকানের মালিক রতন ঘোষের ছেলে রুবেল ঘোষ ও তার ভাই সোহেল ঘোষ কথায় কথায় অশ্লীল গালমন্দ আর শরীরিক নির্যাতন করতে থাকে। তাদের এই নির্যাতনের কারণে যে কেউই এই হোটেলে বয়ের চাকরিতে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে যায়।

এই হোটেলে বয়ের চাকরি শুরুর প্রথম অবস্থায় অসহায় মা ও ভাই-বোনের কথা চিন্তা করে অসহায় হয়ে আত্মসমর্পন করে চাকরিতে টিকে থাকার চেষ্টা করেন সাইফুল। তবে এই নির্যাতন আরও বেড়ে যাওয়ায় সে ও বাঁচতে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা আলীকদমে গিয়ে অন্য একটি হোটেলে চাকরি নেয়। সেখানে গিয়েও ওই বাজারে জনসম্মুখে চোর আখ্যায়িত করে মারধরের পর হাত-পা বেধে এই হোটেলে নিয়ে আসে। এরপর থেকে টানা নয়দিন মোটা বেত, লাঠি ও লোহাড় রড দিয়ে বেধম মারধর করা হয় তাকে। এমন কী গরম লোহার রড দিয়ে মুখে ও শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া তার।

অবশেষে গত ১৭ মে ওই দোকানের পার্শ্ববর্তী এক ব্যক্তি বিষয়টি টেরপেয়ে গোপনে সাইফুলের হাত-পায়ের বাধন খুলে দেয়। এরপর এক সপ্তাহ প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আত্মগোপনে থেকে ২৫ মে দিনগত রাতে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। অভিযোগ দায়ের করেন হোটেল মালিকের ছেলে রুবেল নাথ ও তার ভাই সোহেল নাথের বিরুদ্ধে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চৌরঙ্গী হোটেলের মালিক রতন ঘোষের ছেলে রুবেল ঘোষ বলেন, ও হয়তো অন্য কোথাও গিয়ে মার খেয়েছে। এখন এসব আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। কিন্তু আমরা তার কাছে টাকা পাই। কিছু বাজে চলাফেরার কারণে তাকে ধমক টমক দিয়েছি, এবং বলেছি বদ অভ্যাস ছেড়ে দিয়ে ঠিক হতে পারলে থাকতে। আর না হয় আমাদের পাওয়া টাকা দিয়ে চলে যেতে। কিন্তু এখন জানতে পারলাম সে এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে থানায় গেছে।

এই বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ওই তরুনের লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওসি বলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিষয় খতিয়ে দেখতে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়