বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী আর নেই

আগের সংবাদ

আমূল পাল্টে যাচ্ছে ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনা

পরের সংবাদ

যুক্ত বাংলা স্বাধীন-সার্বভৌম হবে

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২১ , ৮:২০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৫, ২০২১ , ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

পরাধীন ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের কালো অধ্যায় পেরিয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের। এই মহান অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো নানা ঘটনা, যার কারিগর হিসেবে কেউ আখ্যায়িত হয়েছেন নায়কের অভিধায়; কেউবা আভির্ভূত হয়েছেন খলনায়কের চরিত্রে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেসব ঘটনা ও তার নায়ক-খলনায়কদের কার কি ভূমিকা, তাই নিয়েই অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গ্রন্থ ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’। সম্প্রতি ভোরের কাগজ প্রকাশন থেকে বের হয়েছে বইটি। এ বই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য।

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ দেশ ভাগের ফর্মুলা মেনে নেয়। স্বাধীন সার্বভৌম যুক্ত বাংলা গঠনের প্রস্তাব দেন নেতারা। জনসাধারণের ভোটে হবে যুক্ত বাংলার গণপরিষদ।

১৯৪৭ সালের জুন মাসে ঘোষণা করা হলো ভারতবর্ষ ভাগ হবে। কংগ্রেস ভারতবর্ষকে ভাগ করতে রাজি হয়েছে এই জন্য যে, বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগ হবে। আসামের সিলেট জেলা ছাড়া আর কিছুই পাকিস্তানে আসবে না। বাংলাদেশের কলকাতা এবং তার আশপাশের জেলাগুলোও ভারতবর্ষে থাকবে।
কলকাতা ছিল এক সময়ে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। পূর্ববঙ্গের মানুষের শ্রম ও অর্থে তা গড়ে উঠেছে। কলকারখানা সব এখানে। ভারতের রাজধানী ছিল শত বছর। বাংলায় পূর্ববঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাহলে কলকাতা কেন পূর্ববঙ্গ পাবে না?
জটিল রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে কেন্দ্রীয় কংগ্রেস ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ মেনে নিয়েছে দেশ ভাগের ফর্মুলা। বাংলায় মুসলিম সংখ্যাগুরু জেলাগুলো কেটে হিন্দুস্থানে দেয়া হলো। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে বাংলা সরকারের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী ঘোষণা করেছিলেন, কলকাতা তাদের রাজধানী চাই।

স্বাধীন যুক্ত বাংলা গঠনে বাংলার কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতারা প্রস্তাব দেন-
ক. যুক্ত বাংলা একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে।
খ. জনসাধারণের ভোটে একটা গণপরিষদ হবে।
গ. গণপরিষদ ঠিক করবে বাংলা হিন্দুস্থান না পাকিস্তানে যোগদান করবে, নাকি স্বাধীন থাকবে।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘বাংলা বিভক্তি হিন্দুদের জন্যও আত্মহত্যার শামিল হবে।’ এ অভিমত ব্যক্ত করে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে, ‘অর্থনৈতিক ঐক্য, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং একটি কার্যকর শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের আবশ্যকতা’ বিবেচনায় বাংলা সর্বদাই অবিভাজ্য।
তিনি বাঙালি-অবাঙালি প্রশ্ন তুলে কীভাবে এক শ্রেণির অবাঙালি কর্তৃক বাংলা শোষিত হচ্ছে তার উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাকে সমৃদ্ধিশীল হতে হলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে… বাংলাকে অবশ্যই তার ধনসম্পদ এবং নিজ ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হতে হবে।’
বাংলা ঐক্যবদ্ধ ও স্বাধীন হলে এর ভবিষ্যৎ চিত্র কেমন হতে পারে তার ইঙ্গিত দিতে গিয়ে সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘এটা বস্তুত একটি মহান দেশে পরিণত হবে, ভারত উপমহাদেশে যা হবে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। এখানে জনগণ উন্নত জীবন ধারণের সুবিধা নিয়ে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জন করে কালক্রমে এ দেশ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করতে সমর্থ হবে।’
সোহরাওয়ার্দী বলেন যে, ‘হিন্দু ও মুসলমানরা সম্মিলিতভাবে বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হলে এক সময়ে বাংলার সঙ্গে তৎসংলগ্ন ও বিহার প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত মানভূম, সিংভূম ও পূর্ণিয়া জেলা এবং আসাম প্রদেশের সুরমা এলাকার সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশবিভাগকে কেন্দ্র করে দুসম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবসান হলে আসামের বাকি অংশ বাংলার সঙ্গে একীভূত হয়ে একক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ করেন। এটাই ছিল সোহরাওয়ার্দীর ‘বৃহত্তর বাংলা’ রাষ্ট্রের ধারণা।

স্বাধীন বাংলার এই ফর্মুলা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী ও শরৎ বসু দিল্লিতে জিন্নাহ ও গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে যান। শরৎ বসু নিজে লিখে গেছেন যে, ‘জিন্নাহ তাকে বলেছিলেন, মুসলিম লীগের কোনো আপত্তি নেই, যদি কংগ্রেস রাজি হয়।’

আগামীকাল প্রকাশিত হবে ‘জিন্নাহর মনোভাব’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০, শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এ ছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়