সরকার ও গণমাধ্যম মুখোমুখি নয় পাশাপাশি পথ চলতে হবে

আগের সংবাদ

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিনের আদেশ আজ

পরের সংবাদ

এই আগ্রাসন থেকে মুক্তির পথ খুঁজুন

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২১ , ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৩, ২০২১ , ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

করোনা মহামারির মধ্যেও নিত্যনতুন কৌশলে রাজধানীতে মাদক ব্যবসা চলছে। রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি অভিজাত আবাসিক হোটেলে জমজমাট সিসাসহ নানা মাদক ব্যবসা চলছে। এক সময় অভিজাত শ্রেণির ছেলেমেয়েরা সিসা সেবন করে থাকলেও এখন এটি সব শ্রেণির কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত মঙ্গলবার গুলশানে তারকা দম্পতি ওমর সানি ও মৌসুমীর ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীনের মালিকানাধীন ‘মন্টানা লাউঞ্জ’ নামে সিসা বারে অভিযানে ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। এরপর গণমাধ্যমে সিসা বারের বৈধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮’ কার্যকর হয়েছে। ওই নতুন আইনে সিসাকে মাদকদ্রব্যের ‘খ’ শ্রেণির তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন আইনে মাদক সম্পর্কিত অপরাধ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীরা আইনের তোয়াক্কা করছে না। তারা নানা কৌশলে নিষিদ্ধ সিসা কেনাবেচা অব্যাহত রেখেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, অবৈধভাবে রাজধানীতে ২২টি সিসা লাউঞ্জ চালু রয়েছে। চট্টগ্রামে রয়েছে ১টি এবং পর্যটননগরী কক্সবাজারে রয়েছে ১টি। রাজধানীর সিসা লাউঞ্জগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই অভিজাত গুলশান ও বনানী এলাকায়। ইতোমধ্যে করোনা সংক্রমণের ব্যাপক ঝুঁকির কারণে রাজধানীর সিসা লাউঞ্জগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। সিসা লাউঞ্জের তালিকা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠে নেমেছেন। তারা বলছেন, সিসা সেবনের সময় হুঁকার পাইপ হাতে হাতে ঘোরে। এ কারণে করোনা সংক্রমণের শতভাগ ঝুঁকি তৈরি হয়। কেউ একজন সংক্রমিত থাকলে সবার মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। শুধু সিসা কেন রাজধানীতে নানা রকম মাদকদ্রব্য ওপেনসিক্রেট। ইয়াবা আসক্তি তরুণদের মধ্যে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে ইয়াবার চালান আসছে। সাগর, পাহাড় আর সড়কপথে নানা কৌশলে পাচার হচ্ছে এ ভয়ংকর নেশার ট্যাবলেট। ভারত থেকে ফেনসিডিলের চালান পাচার হয়ে আসছে। তবে অধিকাংশ যানবাহন বন্ধ থাকায় কারবারিদের পক্ষে সহজেই মাদক বহন সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তারা বিভিন্ন জরুরি সেবার আওতায় চলাচলকারী যানবাহনে মাদক বহন করছে। এ ক্ষেত্রে বাহক যাত্রীবেশে ছোট ছোট চালানে মাদক নিয়ে আসছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, এখন সবচেয়ে বেশি ইয়াবা আসছে কক্সবাজার এলাকা দিয়ে। এছাড়া রাজশাহী, কুমিল্লা ও সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের চালান নিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। করোনা সংকটকালেও মাদকের চাহিদা কমেনি। মরণ নেশা ইয়াবা দেশের তরুণ সমাজকে এখন সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে। ইয়াবা, সিসাসহ অন্যান্য মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। আইন প্রণয়নের চেয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ দিকটিতে জোরালো দৃষ্টি দিতে হবে। তারুণ্যগ্রাসী ইয়াবা-সিসা বিস্তার এখন জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে। প্রশাসনিক কঠোর অবস্থান, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতাই পারবে ইয়াবা-সিসার মতো সব মাদকদ্রব্য রুখতে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়