মৃত্যুপথযাত্রী মুসলিম রোগীকে পবিত্র কলমা শোনালেন হিন্দু চিকিৎসক

আগের সংবাদ

ভারতীয় বিমান সংস্থায় হ্যাকিং, ৪৫ লক্ষ যাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

পরের সংবাদ

জিন্নাহর চতুর ক্রোধ

প্রকাশিত: মে ২২, ২০২১ , ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২২, ২০২১ , ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

জিন্নাহ রাজনীতি করেছেন ভারতের হিন্দু-মুসলিমসহ সব ভূস্বামী ও ধনীর পক্ষে। যে কারণে রাজনীতির খেলায় শ্রেণিস্বার্থের ফাঁকিটা বুঝতে পারেনি মুসলমানরা।

১৯৪০ সালের ৮ আগস্ট। ভারতবর্ষের ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল কর্তৃক বিশ্বযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ডিফেন্স কাউন্সিল গঠনে লীগ সমর্থন করে। এক বছর পরে ’৪১ এর জুলাই প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীদের ভাইসরয় এই কাউন্সিলে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। তারাও নির্দ্বিধায় সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন। তাদের ধারণা ছিল, প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন ভাইসরয়, মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে নয়। মুসলিম লীগের মন্ত্রীরা বিশ্বযুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরকারি কাজ চালিয়ে যাবেন, সরকারকে অযথা বিড়ম্বনায় ফেলবেন না এ রকম সিদ্ধান্ত লীগ আগেই নিয়েছিল। ফলে প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীদের মনেও কোনো সংশয় ছিল না। ভাইসরয় লীগ সভাপতি জিন্নাহকেও জানালেন, ডিফেন্স কাউন্সিলে তিনজন মুসলিম প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। পাঞ্জাবের সিকান্দার হায়াত খান। বাংলার ফজলুল হক এবং আসামের স্যার মহম্মদ সাদউল্লা।

ভাইসরয় জিন্নাহকে আশ্বস্ত করলেন, এই তিনজন থাকায় কাউন্সিলে নিশ্চয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবিচারের মতো কোনো ঘটনা ঘটবে না। ব্যারিস্টার মুহম্মদ আলি জিন্নাহ আইনের মারপ্যাঁচের ভাষায় বুঝলেন, মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবেই ওই তিনজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তার মনে প্রশ্ন জাগল, তাহলে কি তিনি আর মুসলিমদের একচ্ছত্র মুখপাত্র নন? এর তিন বছর পূর্বে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাকে একক কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছিল।

জিন্নাহ অপমানের ক্রোধে জ্বলছিলেন। জিন্নাহর নির্দেশে ‘ডিসিপ্লিন ভঙের অভিযোগে’ তিন প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রীকে শো-কজের নোটিস পাঠালেন মুসলিম লীগের সম্পাদক লিয়াকত আলী খান। তিনজনকেই জানিয়ে দেয়া হলো, ১৯৪১ সালের ২৪ এপ্রিল বম্বেতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু ফজলুল হকের আত্মসম্মানে এতটাই আঘাত লাগল যে তিনি মুসলিম লীগ ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। রাজনৈতিক ক‚ট চালের খপ্পরে ফজলুল হক ইস্তফা দিলেন ১৯৪২ সালের ২৮ মার্চ। পত্রে তিনি জিন্নাহকে ‘জেদি, স্বৈরাচারী ও একনায়কতান্ত্রিক’ আচরণের অভিযোগ আনলেন। বিবৃতি দিলেন, ‘He could not tolerate the dictatorship style of jinnah.’

তার তিন দিনের মধ্যে বাংলা বিধানসভায় বাজেট পাস হওয়ার কথা, নতুন আর্থিক বছর শুরু। ফজলুল হকের প্রত্যাঘাত ছিল এ রকমই ভয়ঙ্কর! বাংলা, পাঞ্জাব আর আসাম লীগের মধ্যে এভাবেই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি চলছিল। পাঞ্জাব অবশ্য এ সবে ঢোকেনি, নিষ্পৃহ ভঙ্গিতে দূরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু মুসলিম লীগ ছেড়ে ফজলুল হক ১৯৪১ সালে কংগ্রেস আর হিন্দু মহাসভার সঙ্গে জোট বেঁধে গঠন করলেন মন্ত্রিসভা।

জিন্নাহ ক‚টচালে জয়ী হলেন। লাহোর প্রস্তাব অর্থাৎ পাকিস্তান প্রস্তাব যাকে দিয়ে পাস করালেন, তাকেই ছুতো ধরে বের করে ছিলেন। জিন্নাহর এই স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে লীগ সাধারণ সম্পাদক বরাবর পত্র লিখে ফজলুল হক বিষয়টি আরো জটিল করে তোলেন।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে ‘নাটকীয়তার আরেক ধাপ’ ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এছাড়া সংগ্রহ করা যাবে bhorerkagojprokashan.com থেকেও।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়