টিকার জন্য দৌড়ঝাঁপ, অস্বস্তি

আগের সংবাদ

জেবুন্নেসা বিরোধী সংবাদ ঠেকাতে স্বাস্থ্যের চিঠি তথ্য মন্ত্রণালয়ে

পরের সংবাদ

রাজনৈতিক দাবা খেলা

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২১ , ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২১, ২০২১ , ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

পরাধীন ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের কালো অধ্যায় পেরিয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের। এই মহান অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো নানা ঘটনা, যার কারিগর হিসেবে কেউ আখ্যায়িত হয়েছেন নায়কের অভিধায়; কেউবা আবির্ভূত হয়েছেন খলনায়কের চরিত্রে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সেসব ঘটনা ও তার নায়ক-খলনায়কদের কার কী ভূমিকা, তাই নিয়েই অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গ্রন্থ ‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’। সম্প্রতি ভোরের কাগজ প্রকাশন থেকে বের হয়েছে বইটি। এ বই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন কিছু অংশ তুলে ধরা হচ্ছে ভোরের কাগজের পাঠকদের জন্য-

কট্টর মুসলিম নেতা জিন্নাহ হিন্দু-মুসলমান মিলনের সমুদয় ব্যর্থতার জন্য কংগ্রেসের অনড় মানসিকতাকেই দায়ী করলেন।

লাহোর। মিন্টো পার্ক। ২২ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ, ১৯৪০। অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে হয়ে দাঁড়াল এক ঐতিহাসিক মহাসম্মেলন। সভাপতি মুহম্মদ আলী জিন্নাহর মুসলিম সমস্যা সমাধানে প্রারম্ভিক বক্তব্য ছিল, ‘ভারতের সমস্যা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে নয়, দুই জাতির মধ্যে। তার মতে, হিন্দু আর মুসলমানের দূরত্ব এতটাই বেশি যে এক ছাতার নিচে আনতে গেলে খুব বড় ঝুঁকি নিতে হবে। তারা দুটি স্বতন্ত্র এবং পৃথক জাতি। তাদের জন্য আলাদা আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দেয়াই হবে সমাধানের একমাত্র পথ।’

তিনি আরো বললেন, ‘জাতি কথাটার যে কোনো সংজ্ঞা অনুসারে মুসলমান একটি জাতি। আমরা চাই, মুসলমান জাতি নিজস্ব আদর্শ, বিচারবুদ্ধি ও সামর্থ্য অনুসারে নিজেদের আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণতম বিকাশ সাধন করুক।’

তিনি পরোক্ষভাবে কংগ্রেস সভাপতি জওহরলাল নেহেরুর বক্তব্যের জবাব দিলেন। নেহেরু বলেছিলেন, ‘ভারতবর্ষ নানা ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার দেশ হলেও তারা এক জাতি।’

বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক প্রকাশ্যে বলতেন, তার পাণ্ডিত্য, অভিজ্ঞতা, মেধা জিন্নাহর চেয়েও অধিক। তার জনপ্রিয়তা, গণ-বাগ্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি সারা ভারতবর্ষের মুসলমানদের কাছে তখন শীর্ষ পর্যায়ে।

লীগ সভাপতি জিন্নাহ তাকে দিয়ে লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপন করালেন। এই প্রস্তাবে ঘোষণা করা হলো- ‘ভৌগোলিকভাবে পরস্পর সন্নিহিত এলাকাগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট করে না দিলে কোনো পরিকল্পনাই মুসলমানদের কাছে গ্রাহ্য হবে না। ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব অঞ্চলে যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেই এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, সেই রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বশাসিত এবং সার্বভৌম।’ এই প্রস্তাবে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান রাষ্ট্রের অবয়ব দৃশ্যমান হলো। ফজলুল হক লাহোরের ওই অধিবেশনে শের-ই-বাংলা উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
২৪ মার্চ প্রস্তাবটি লীগ কাউন্সিলে অনুমোদিত হলো। একটি নয়, দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এক বছরের মাথায় এই প্রস্তাব ১৯৪১-এ অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ সংবিধানের একটি অঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হলো। পাকিস্তান প্রস্তাব পাস করার মধ্য দিয়ে ভারতের মুসলমানরা তাদের লক্ষ্য পাল্টালেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে তারা যে পথে পাড়ি দিলেন তার শেষ পরিণতি ছিল ভারতের মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র। লাহোরে গৃহীত প্রস্তাব সম্পর্কে জিন্নাহ পরবর্তীতে বললেন, এটা ছিল রাজনৈতিক কৌশল, মূল লক্ষ্য নয়।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে
‘জিন্নাহর চতুর ক্রোধ’
‘যেভাবে স্বাধীনতা পেলাম’- বইটি পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনে (ভোরের কাগজ কার্যালয়, ৭০ শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা)। এছাড়া সংগ্রহ করা যাবে নযড়ৎবৎশধমড়লঢ়ৎড়শধংযধহ.পড়স থেকেও।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়