রাজস্ব আদায়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি নয়, এফবিসিসিআই সভাপতি

আগের সংবাদ

বিশ্ববিবেকের মানবাধিকার এখন কোথায়!

পরের সংবাদ

রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিন

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২১ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২০, ২০২১ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন- এমন ঘটনা নতুন নয়। প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সাংবাদিক মহল ক্ষুব্ধ। দুদিন ধরে রোজিনার মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিক নেতারা আন্দোলন করছেন। তারা রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও করছেন। সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পাশাপাশি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরাও এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে হেনস্তা করে কারাগারে প্রেরণ সত্যি দুঃখজনক। গত সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হেনস্তার শিকার হন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। তাকে প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রাখার পর শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং মামলা করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার পর তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তিনি সরকারের গোপন নথির ছবি তুলেছেন এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে চেয়েছেন। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মূলত একটি ঔপনিবেশিক আইন। ব্রিটিশ শাসনামলে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য কিনা সেটা সামনে আসছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগের নজির নেই। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট করছিলেন। এসব রিপোর্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। যার মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির রিপোর্ট ছিল। এসব রিপোর্টে তিনি মন্ত্রণালয়ের আক্রোশের শিকার হতে পারেন। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া যায়। কারণ সাংবাদিকরা আইনের ঊর্ধ্বে নন। গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে আমরা দেখলাম, রোজিনাকে টেনেহেঁচড়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা আইনগত ভিত্তি কি? জনগণ, সরকার ও রাজনীতির মধ্যে একটা সেতুবন্ধ রচনাই হলো গণমাধ্যমের কাজ। সেই কাজটি করতে গিয়ে স্বার্থান্বেষী, দুর্নীতিবাজ, ক্ষমতালোভী, দুর্বৃত্তগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ছেন গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীরা। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রীর অর্জনগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। দেশ ও জনগণের সার্বিক মঙ্গলের স্বার্থেই সাংবাদিক ও সংবাদপত্র দমননীতির মনোভাব প্রকাশ থেকে সবারই দূরে থাকা উচিত। আমরা অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তার মুক্তি দাবি করছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়