নারায়ণগঞ্জে পুলিশ বক্সের সামনে রিমোটচালিত বোমা উদ্ধার

আগের সংবাদ

মায়ের স্নেহ দিয়েই শেখ হাসিনা আ.লীগকে ক্ষমতায় এনেছেন: তথ্যমন্ত্রী

পরের সংবাদ

তাহিরপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২১ , ৯:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১৭, ২০২১ , ১০:২৩ অপরাহ্ণ

তাহিরপুরে পুর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারে। উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বালিজুরী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সল আহমেদ (৩৫) এবং বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান দক্ষিণকূল গ্রামের নবাব মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৪৫)।

উভয়পক্ষের আহতরা হলেন, ফাজিলপুর গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে ফয়সল আহমেদ (৩৫), তার বড় ভাই আবুল কাসেম (৪০),ভাতিজা সুজন মিয়া (৩০), দক্ষিণকূল গ্রামের মৃত আ. হান্নানের ছেলে আজির উদ্দিন (২৫), নিজাম উদ্দিন শাহ্’র ছেলে জুবায়েল (২২), হোসেনপুর গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে সুহেল মিয়া (২৫),ফিরিজপুর গ্রামের তাজুদ আলীর ছেলে একরাম হোসেন (৩৫), বড়খলা গ্রামের মৃত আ. খালেকের ছেলে আতিক মিয়া (২৮) ও আনোয়ারপুর বাজারের ব্যাবসায়ী আনোয়ারপুর গ্রামের মৃত গউস আলীর ছেলে মনবুল মিয়া (৬০) ও তার সহোদর ইছাক মিয়া (৪৮)।

গুরতর আহত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সল আহমদ ও মনবুল মিয়াকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ফয়সল ও মনবুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এবং ইছাক মিয়াকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, আনোয়ার পুর বাজারের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী মনবুল মিয়া ও মুদি দোকানী ইছাক মিয়াকে বালিজুড়ি ইউনিয়নের সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সল আহমদ তার সাথে নির্বাচনী প্রচারনায় যেতে বলেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।

এখবর পেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। এবিষয়ে বক্তব্য জানতে ফয়সল আহমেদের বড়ভাই বালি পাথর ব্যাবসায়ী আবুল কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার ভাই ফয়সল আহমদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বাবুল মেম্বারের লোকজন তাকে বিভিন্ন ভাবে হামলাকরাসহ প্রানে মারার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ঘটনার দিন একটি সালিস বৈঠক থেকে ফেরার পথে মনবুলের নেতৃত্বে ফয়সলের পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরতর রক্তাক্ত আহত করেছে।

বালিজুড়ি ইউনয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া পক্ষের আনোয়ারপুরের ইসমাইল মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফসল ও তার লোকজন অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে কিছুদিন পর পর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বাড়িতে এসে হামলা করে। ঘটনার দিনও তারা আমার বাড়িতে এসে এলোপাতারি হামলা শুরু করলে আমার আত্মীয় স্বজনরা তাদের উপর পাল্টা হামলা করে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যাবসায়ী ও এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এ দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে গত ১৬ বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে বছরে একাধিকবার হামলা, মামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ তরফদার জানিয়েছেন, আনোয়ারপুর বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এঘটনায় সোমবার দুপুরে ফয়সল আহমদের বড় ভাই বালি পাথর আবুল কাসেম বাদী হয়ে দক্ষিণকূল গ্রামের গউস আলীর ছেলে মনবুল মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৪০জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০/২০জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাহিরপুর থানার মামলা নং-৮।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়