পুঠিয়ায় প্রেমিকার ধর্ষণ মামলায় কারাগারে প্রেমিক

আগের সংবাদ

সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং অভিনন্দিত

পরের সংবাদ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বর্বরতা, দ্বিধাবিভক্ত বিশ্ব

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২১ , ১১:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১৭, ২০২১ , ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

টানা সাতদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল। রবিবারও (১৬) বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নতুন করে আরও ৩৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত সাত দিনে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮৩ জনকে হত্যা করেছে। আলজাজিরা ও এপির কার্যালয় বলে পরিচিত একটি ভবনসহ কমপক্ষে দুটি বহুতল আবাসিক ভবন বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের এই বর্বরতায় তুমুল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে দেশে দেশে। এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে সারা বিশ্ব।

আত্মরক্ষার অধিকারের নাম করে ইসরায়েলের সহিংসতার পক্ষাবলম্বন করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজ দলেই রোষের মুখে পড়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিন্দা ও সমালোচনায় এখন গোটা বিশ্বই মুখর। জো বাইডেনের তীব্র সমালোচনা করেছে পরাশক্তিধর দেশ চীন। দেশে দেশে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ অনেক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, জানিয়েছে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান। এই সংঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার জরুরি বৈঠকে বসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠক করেছে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগঠন ওআইসি। বৈঠকে বসছে ইউরোপের বড় রাজনৈতিক অর্থনৈতিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইসরায়েলি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের নেতারা। অনেকে মনে করছেন, ইসরায়েলের এই সহিংসতা আসলে গণহত্যারই শামিল।

গাজায় ইসরায়েলি হামলা

ইসরায়েলকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে বাইডেন বলেন, হামাস ও অন্যান্য সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর রকেট হামলা ঠেকাতে নিজেকে রক্ষা করার অধিকার ইসরায়েলের আছে। তাদের এই অধিকারের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে গাজায় নির্বিচারে বোমা হামলা বন্ধের কথা বলেছেন বাইডেন। অন্যদিকে তিনি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গাজা থেকে রকেট হামলা বন্ধ করতে বলেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব জোরদারে নিজের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন। উভয়পক্ষকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতন থাকতে বলেছেন বাইডেন।

যে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে সেখানে নারী ও শিশুসহ ১৮৩ জন নিহত হয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। সেই গাজার শাসক দল হামাস। আর এই দলের কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি বাইডেন। ফলে আব্বাসের সঙ্গে তার ফোনালাপ কোনও কাজে আসবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই দুই ফোনালাপের মাধ্যমে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সমর্থন স্পষ্ট করেছেন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রেসিডেন্ট।

গাাজায় ইসলায়েলের হামলা। ছবি: রয়টার্স

হামাস বলছে, ফিলিস্তিনিদের বলপূর্বক তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে তারা। তবে নিজ বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বাইডেন। গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচারে বিমান হামলায় নারী, শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়েও কোনও কথা বলেননি। এসব উপেক্ষা করে ইসরায়েলের তথকথিত ‘আত্মরক্ষা’র বয়ানই হাজির করেছেন জো বাইডেন।

এদিকে বাইডেনের নগ্ন সমর্থন পেয়ে আরও বেপোরোয়া হয়ে ওঠেছেন নিজের মসনদ ধরে রাখতে মরিয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, একটা হেস্তনেস্ত না হওয়া পর্যন্ত হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। আমরা কোনো অপরাধ করিনি। যারা আমাদের আক্রমণ করে চলেছে, সব দায় তাদেরই নিতে হবে। নেতানিয়াহু বলেন, এখনও অভিযান চলছে। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন পর্যন্ত চলবে। নিরীহ নাগরিকদের এড়িয়ে সন্ত্রাসীদের ওপরই আঘাত হানছি। তবে বিশ্ব গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, ইসরায়েলি হামলায় মারা যাচ্ছে ফিলিস্তিনের শিশুসহ সাধারণ নীরিহ মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন ইসরায়েল-প্রীতি ক্ষুব্ধ করেছে চীনকেও। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে উদ্যোগ নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদ এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

১৫ সদস্যের নিরাপত্তা কাউন্সিল গত সপ্তাহে দুইবার ব্যক্তিগতভাবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আলোচনা করেছে। তবে প্রকাশ্য কোনো বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। সম্মতির ভিত্তিতে এসব বিবৃতি প্রদান করতে পারে পরিষদ। তবে এই বিবৃতি উত্তেজনা নিরসনে কাজে আসবে বলে মনে করছে না যুক্তরাষ্ট্র। কূটনীতিকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আশংকা করছে, এই বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতবিক্ষত গাজা। ছবি: রয়টার্স

এদিকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন চলমান সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে অবস্থান নিয়েছেন তাতে নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টিতেই রোষের মুখে পড়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটরা বাইডেনের মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। ইসরায়েলের ওপর আরও চাপ সৃষ্টির দাবিও জানাচ্ছেন তারা। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থি উদারনৈতিক ডেমোক্র্যাটরা ক্রমেই বাইডেনের তীব্র সমালোচনায় সরব হচ্ছেন। সামাজিক অন্যায়-অবিচার রুখে দাঁড়িয়ে জনগণকে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাইডেনের দল। কিন্তু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের সরকারি বিবৃতিতে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে কথা বলার সেই পুরোনো ধরন ফিরে আসায় এবং মানবাধিকার উপেক্ষিত হওয়ায় দল এখন নিমজ্জিত হয়েছে কুৎসিত কোন্দলে। উদারনৈতিক ডেমোক্র্যাটরা এখন চান যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতেও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন ঘটুক, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্ণবাদী নিপীড়নই দেখতে পাচ্ছেন অনেকে। নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি অ্যালেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ এক ভাষণে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের কি বাঁচার অধিকার আছে? বাইডেন প্রশাসন যদি এক মিত্রকেই রুখে দাঁড়াতে না পারে তাহলে কার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবে? তারা তাহলে কিভাবে মানবাধিকারের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার দাবি করে? মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি রাশিদা তালিব গত শনিবারেই গাজায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভবনে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, “ইসরায়েল গণমাধ্যমকে হামলার নিশানা করছে, যাতে বর্ণবাদের হোতা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধাপরাধ বিশ্ব দেখতে না পায়।” মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, ইসরায়েলের পরিকল্পিত ফিলিস্তিন উচ্ছেদ অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ হচ্ছে। তাছাড়া, সর্বোপরি বাইডেন প্রশাসনের মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুরোদস্তুর ইসরায়েল ঘেঁষা পদক্ষেপ না নিলেও ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই মনে করেন, কেবল ট্রাম্পের মতো না হওয়াটাই বাইডেনের জন্য যথেষ্ট নয়।

এদিকে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিঠি লিখে জানিয়েছেন, সঙ্কটময় এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের পাশে আছেন তিনি। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে বলেন, ‘শেখ জারাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং বেসামরিক জনগণকে দখলকৃত এলাকায় স্থানান্তরের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি লঙ্ঘনের চরম প্রকাশ; যা সারা বিশ্বের মানুষের অনুভূতিকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে।’ ভ্রাতৃপ্রতীম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীর যে কোনো স্থানে এমন ঘটনার ইতি টানতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ‘সুস্পষ্টভাবে লংঘন করার’ অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গাজায় সামরিক আগ্রাসন বন্ধে জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতেও আহ্বান জানান। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সপ্তম দিনে ৫৭ দেশের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তৃতায় ফয়সাল এ আহ্বান জানান। তিনি মুসলিমদের কাছে পবিত্র হিসেবে পরিচিত স্থাপনাগুলোর ‘পবিত্রতা লংঘন’ এবং পূর্ব জেরুজালেমে নিজস্ব ঘরবাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘জোর করে উৎখাতেন’ নিন্দা জানান। তিনি গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংঘাত বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠনের যে প্রস্তাব বিদ্যমান তার ভিত্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতেও অনুরোধ করেন।

ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওআইসির নির্বাহী কমিটির জরুরি বৈঠকে ফিলিস্তিনে চলমান নৃশংসতার জন্য এককভাবে ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন। সংস্থাটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থিত। এক টুইট বার্তায় তুকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু বলেন, ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের রক্ষার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব পদক্ষেপে নেতৃত্ব অব্যাহত রাখব।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ ইস্যুতে জরুরি ভার্চুয়াল সভায় বসছেন ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেন, কীভাবে চলমান সহিংসতা থামানোর জন্য সর্বোত্তম চেষ্টা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

ইসরাইলি হামলা বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি

২০১৪ সালে গাজা যুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিক্ষোভ হয়েছে দোহা, লন্ডন, প্যারিস ও মাদ্রিদসহ বিভিন্ন বড় শহরে।

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। তারা ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উপস্থিত হয়েছিলেন। বাগদাদ ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্যাবিলন, দাই কার, ডিওয়ানিয়েহ ও বসরাতেও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচের দেশ কাতারের রাজধানী দোহাতে কয়েক হাজার মানুষ ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে সংহতি জানান। শহরটিতে বসবাসরত এক ফিলিস্তিনি বলেন, আমাদের দেশে ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমি অবস্থান নিচ্ছি। দেশের স্বাধীনতার জন্য যা প্রয়োজন তা আমরা করব।

ফ্রান্সের উত্তর প্যারিসের বার্বস এলাকায় কয়েকশ’ মানুষ জড়ো হয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানান। ইহুদিবিদ্বেষের আশঙ্কায় সেখানে চার সহ্রসাধিক পুলিশ মোতায়েন করেছিল কর্তৃপক্ষ। সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জল কামান নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

স্পেনের মাদ্রিদে প্রায় আড়াই হাজার তরুণ ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে সংহতি সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। এসময় তারা স্লোগান দেন, এটি যুদ্ধ নয়, এটি গণহত্যা।

গাজায় ইসরাইলি হামলা

লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে কয়েকশ’ লেবানিজ ও ফিলিস্তিনি জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। অনেকে সীমান্ত দেয়াল টপকানোর চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ছোড়ে। এতে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শনিবার কয়েকজন বিক্ষোভকারী পেট্রোলবোমা ও পাথর ছোড়েন দেয়ালের ওপর দিয়ে। সীমান্তের ওদায়সেহ গ্রামের এই বিক্ষোভে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর পতাকা নিয়েও অনেকে অংশ নেন।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ফিলিস্তিনের সমর্থকদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। পুলিশ অন্তত ২০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার শ্রীনগরে জুমার নামাজের পর বেশ কয়েকজন মানুষ ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে রাজপথে মিছিল করেছেন।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে কয়েকশ’ বিক্ষোভকারী ‘গাজায় বোমা নিক্ষেপ বন্ধ করো’ প্ল্যাকার্ড হাতে ও ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’ স্লোগানে জড়ো হয়েছিলেন। তারা মিছিল করে ইসরায়েলি দূতাবাসের দিকে এগিয়ে যান। আয়োজকদের দাবি, লন্ডনজুড়ে অন্তত ১ লাখ মানুষে বিক্ষোভে অংশ নেন।

জার্মানিতে ফিলিস্তিনিদের একটি সংগঠনের ডাকে কয়েক হাজার মানুষ বার্লিন ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলকে বয়েকটের আহ্বান জানায়। ফ্রাঙ্কফুর্ট, লেইপজিগ ও হ্যামবুর্গেও বিক্ষোভ হয়েছে।

ইসরাইলি বিমান হামলায় জ্বলছে ফিলিস্তিন

ফিলিস্তিনের গাজায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়ার ইসলামিক সংস্থা দুনিয়া মেলায়েউ দুনিয়া ইসলাম (ডিএমডিআই)। ডিএমডিআই নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে গাজায় শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা উচিত।

পূর্ব জেরুজালেম থেকে কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদে ইসরায়েলের আদালতে চলা একটি মামলা নিয়ে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনা এবং রোজার মধ্যে আল আকসা মসজিদের কাছে ইসরায়েলি পুলিশ ও ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় সোমবার গাজার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। হামাসের রকেটের পাল্টায় ইসরায়েলও জনবহুল গাজায় বিমান হামলা ও কামানের গোলা ছুড়তে শুরু করে।

গত এক সপ্তাহে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১৮৩ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ জনই শিশু। অপরদিকে আহত হয়েছে আরও ৯৫০ জন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে কমপক্ষে ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদিকে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার নতুন করে দুই ইসরায়েলি নিহত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন নামের যে এলাকা, সেটি ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন ফিলিস্তিনে যারা থাকতো তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল আরব, সেই সঙ্গে কিছু ইহুদি, যারা ছিল সংখ্যালঘু।

ইহুদিরা এই অঞ্চলকে তাদের পূর্বপুরুষদের দেশ বলে দাবি করে। কিন্তু আরবরাও দাবি করে এই ভূমি তাদের এবং ইহুদিদের জন্য সেখানে রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টার তারা বিরোধিতা করে।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে এবং ১৯৮০ সালে পুরো শহরকে সংযুক্ত করে। তবে তাদের এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কখনও স্বীকৃতি পায়নি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়