কেউ আসেনি

আগের সংবাদ

ঢাকায় পৌঁছাল চীনের উপহার দেওয়া ৫ লাখ টিকা

পরের সংবাদ

শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় টুপি, জায়নামাজ, আতর

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২১ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১২, ২০২১ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

ঈদের সকালে সবাই নতুন পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহে যাবেন। তবে নতুন পোশাকের সঙ্গে আতরের সুবাস আর মাথায় টুপি না থাকলে ঈদের সাজে পূর্ণতা আসে না। এ কারণে নতুন পোশাক কেনার পর ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন টুপি, আতর আর জায়নামাজের দোকানে। রমজানের শুরু থেকেই টুপি-আতর-তসবির বিক্রি বেড়ে যায়। আর কেনাবেচার এই রমরমা ভাব চলবে ঈদের নামাজের আগ পর্যন্ত।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণের গেট-সংলগ্ন ফুটপাতের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায় আতর-তসবির বিক্রি বেশ জমে উঠেছে। বিভিন্ন দাম ও ধরনের সুগন্ধির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে টুপি, তসবি, সুরমা ও জায়নামাজ। প্রায় শতাধিক দোকানে টুপি-জায়নামাজ, তসবি, মেসওয়াক, আতর-সুর্মার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ধনী বা গরিব সবার জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দামের পণ্য।
বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের বরকতি আতর হাউজের মালিক আবদুর গাফফার বলেন, ২০ রমজানের পর থেকে টুপির বাজারে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। আতর টুপি বেশি বিক্রি হচ্ছে। গাফফার জানান, লডকাউনের কারণে এবার বিদেশি পণ্য একেবারেই আসেনি। বিশেষ করে বিদেশি আতর একেবারেই নেই। বাজারে

পণ্য কম থাকার কারণে জায়নামাজ ও সুগন্ধির দামটা একটু বাড়াতে হয়েছে। তবে তসবিগুলো আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সাইজ ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে জায়নামাজ বিক্রি হচ্ছে ৩শ থেকে ৬ হাজার টাকায়। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত ছোট-বড় শিশিতে আতর বিক্রি করছি। দেশি-বিদেশি টুপি রয়েছে ৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকায়। তসবি বিক্রি করছি ৫০ টাকা থেকে ছয় হাজার টাকায়।
টুপি : যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাদের কাছে টুপির বড় সংগ্রহ এমনিতেই থাকে। তারপরও ঈদের আগে নতুন টুপি যোগ করে নতুন আনন্দ। বাজারে নানা ধরন ও মানের টুপি পাওয়া যায়। দেশে তৈরি টুপির সঙ্গে পাওয়া যায় পাকিস্তানি, আফগান, চীনা, ভারতীয় ও দুবাইয়ের টুপিও। এছাড়া মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও আফগানিস্তানের টুপিও পাবেন। দেশে তৈরি সাধারণ একেকটি গোল টুপির দাম ৮০-২৫০ টাকা। সুতা দিয়ে তৈরি টুপির দাম ৬০-২০০ টাকা। বিদেশি টুপি ৩৫০-২ হাজার টাকা পর্যন্ত। টুপির ডিজাইন বৈচিত্র্যের কারণে দামে তারতম্য থাকে। জরির কাজ করা গোল টুপি বা তুরস্কের উঁচু টুপির তুলনায় সুতার জালি টুপি ও উলের টুপির দাম কিছুটা কম পড়বে।
বায়তুল মোকাররমে ৭ বছরের ছেলে আনাফকে নিয়ে আতর তসবি কিনতে আসেন সোহেল হোসেন। তিনি বলেন, করোনার মধ্যেই নামাজ পড়ার সামগ্রী কিনতে এসেছি। এগুলো দেখেশুনে না কিনলে মন খচখচ করে। টুপি কিনতে আসা ফারুক হোসেন বলেন, ঈদের সব ধরনের কেনাকাটা শেষ হয়েছে। এখন টুপি কিনতে এসেছি। আমার নিজের এবং চার বছরের ছেলের জন্য টুপি কিনব। দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতবারের চেয়ে দাম বেশি। তবে ঈদ তো। নতুন টুপি কিনতেই হবে।
আতর : দেশের বাজারের বেশির ভাগ আতরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা। নানা ব্র্যান্ডের আতর পাওয়া যায় বাজারে। যেমনÑ আম্বার, হুগো বস, গুচি, রোমান্স, সিলভার, মেশক আম্বার, জান্নাতুল ফেরদৌস ইত্যাদি। দেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে আছে উদ বা আগর নামের আতর। বাজারে থাকা শতাধিক রকমের আতরের ছোট বোতলের দাম ১শ থেকে শুরু করে ৫শ টাকার মধ্যে। এছাড়া বিত্তবান ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ২ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকার আতরও।
জায়নামাজ : দেশের বাজারে দেশি জায়নামাজের চেয়ে বিদেশি জায়নামাজই পাওয়া যায় বেশি। তুরস্ক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এমনকি বেলজিয়ামের জায়নামাজও পাওয়া যাচ্ছে। দেশীয় রং-নকশায় বৈচিত্র্যপূর্ণ সব জায়নামাজ। কিনতে খরচ করতে হবে ৮৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। দেশীয় জায়নামাজের দাম কিছুটা কম। দেশি একেকটি জায়নামাজের দাম পড়বে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। কাপড়ের কোমলতা, আকার ও ডিজাইনের মানের কারণেই দাম কমবে বা বাড়বে।
তসবি : ঈদের নামাজের পর খুতবা শুনতে শুনতে বা নামাজের আগে অপেক্ষায় বসে তসবির অভাব অনুভ‚ত হতে পারে তাই বাহারি পুথি আর পাথরের সব তসবি পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। কাঠ, নরমাল পাথর ও ক্রিস্টালের তৈরি তসবিও পাওয়া যাচ্ছে। পুথি পাথরের কোয়ালিটি বুঝে একেকটি তসবির দাম পড়বে ৫০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বায়তুল মোকাররম ছাড়াও ঈদের দিনের বিশেষ এসব অনুষঙ্গ পাওয়া যচ্ছে রাজধানীর প্রায় সব মার্কেটেই। তবে সাধারণের নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেটে। সেখানে ভবনের ভেতর ও বাইরে পাওয়া যাবে এসব সামগ্রী। মিলবে সুগন্ধে ম-ম করা আতরও। এছাড়া পাওয়া যাবে কাকরাইল মসজিদ মার্কেট, নিউমার্কেট, চাঁদনি চক, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, গুলিস্তান ও মৌচাক মার্কেটে। তবে এসব সামগ্রীর ব্যাপারে যারা একটু বেশিই শৌখিন তারা এসব কেনার জন্য ছুটছেন বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ অভিজাত শপিংমলগুলোতে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়