ঢাকায় ফিরে কোয়ারেন্টাইনে জেমি-ক্লেভারলি

আগের সংবাদ

কিম কার্দাশিয়ানের নামে গরুর নামকরণ

পরের সংবাদ

হেফাজতের নেতাদের নির্দেশেই দেশব্যাপী নাশকতা-তাণ্ডব

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২১ , ১০:৩৮ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১১, ২০২১ , ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের পরিকল্পিত নির্দেশেই দেশব্যাপী নাশকতা-তান্ডব সংঘটিত হয়েছিল। হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জী নিজেই নাশকতা-সহিংসতার ঘটনায় মদদ ও জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলায় গ্রেপ্তার নোমান ফয়জী মঙ্গলবার (১১ মে) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ খন্দকারের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে জবানবন্দিতে কি স্বীকার করেছেন তা জানা যায়নি। এদিকে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জাকারিয়া নোমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য মঙ্গলবার আবেদন করেছে হাটহাজারী থানার পুলিশ। আদালত আজ বুধবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ) আবদুল্লাহ আল মাসুম ভোরের কাগজকে বলেন, ‘নাশকতা-তাণ্ডব সৃষ্টি মামলায় জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। রিমান্ড শেষে তাকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়। হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে হাটহাজারীসহ কয়েকটি স্থানে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সহিংসতা চালানোর কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন জাকারিয়া নোমান। হাটহাজারীতে ভূমি অফিস, থানা ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। জবানবন্দিতে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তার কাছ থেকে আমাদের আরো কিছু বিষয় জানার আছে। বুধবার আরও একটি মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।’

গত ৪ মে বিকেলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের একটি দল জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে গ্রেপ্তার করে। তিনি হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তার বাবা প্রয়াত নোমান ফয়জী সংগঠনটির নায়েবে আমীর ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে গত ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতের সহিংস তান্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ মে আদালতের মাধ্যমে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি পায় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া নোমান ফয়জী হাটহাজারীতে যেসব নাশকতামূলক কর্মকান্ড হয়েছে, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ, থানা ভাংচুর, ডাকবাংলো ভাংচুর, ভূমি অফিসে আগুন দেওয়াসহ যেসব ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে- প্রত্যেকটিতেই তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এসব ঘটনার ঘটানোর নেপথ্য মাস্টারমাইন্ডদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তাদের ইন্ধনে, তাদের নির্দেশে এবং তাদের অর্থের যোগানে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে। শুধু হাটহাজারী নয় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হিসেবে জাকারিয়া নোমান ফয়জী সারাদেশে সংঘটিত প্রত্যেকটি তান্ডবের ঘটনায় কমবেশি সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া গত ৬ মে দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় এক নারী বাদী হয়ে নোমান ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি মামলা দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগসহ প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়। মামলা দায়েরের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়