নেপালে আস্থা ভোটে হারলেন প্রধানমন্ত্রী ওলি, সরকারের পতন

আগের সংবাদ

ফলে বিষ মেশানো বন্ধে নজরদারি

পরের সংবাদ

টিকা উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে হবে

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২১ , ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১১, ২০২১ , ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

ওষুধশিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি অনেক। গত ৫০ বছরে স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাফল্য আমরা দেখেছি। কিন্তু গবেষণায় পিছিয়ে আছি। অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে গবেষণা করছে। বেশকিছু টিকা আবিষ্কার, উৎপাদন এবং প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা টিকা আবিষ্কার তো দূরের কথা করোনা টেস্ট কিট তৈরির গবেষণায়ও গুরুত্ব দিইনি। সময় এসেছে বাংলাদেশকেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টিকা উৎপাদন ব্যবস্থায় যেতে হবে। টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ইতোমধ্যে রাশিয়া ও চীন বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশও তাতে সম্মতি দিয়েছে। কারণ চীন ও রাশিয়ার টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দুটির নিজের দেশের চাহিদা পূরণ করে অন্যদের চাহিদা অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করার সক্ষমতা কম। সে কারণে তারা বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, তারা টিকা উৎপাদন সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে এবং তার সহায়তায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এ দেশেই টিকা উৎপাদন করবে। বাংলাদেশে ৩টি ওষুধ কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। চীন ও রাশিয়া চাইলে এই ৩টি কোম্পানি উৎপাদনে যেতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জেনেছি। বাংলাদেশি এ ৩টি কোম্পানির বছরে ১ কোটি ডোজের ওপরে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূলত দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে উচ্চমানসম্পন্ন প্রযুক্তি এবং টিকা তৈরির কাঁচামাল। প্রযুক্তিগতভাবে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। কারণ প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য যে গবেষণা ও তহবিল দরকার তা আমাদের নেই। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনই। জানা গেছে, সরকার মোট সাড়ে ১৩ কোটির মতো মানুষকে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে কোভ্যাক্স থেকে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ হারে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এছাড়া ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকার ৩ কোটি ডোজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ পাওয়া গেছে। আর ভারত সরকার ৩২ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠায়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং কাঁচামাল সংকটের কারণে সে দেশের সরকার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে আর টিকা পায়নি বাংলাদেশ। এতে চলমান টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরপরই টিকার বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। দেশে টিকা উৎপাদনের যে প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ তা সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় করুক। উৎপাদনে যেসব ঘাটতি রয়েছে তাও পূরণ করতে হবে। সর্বোপরি আমাদের টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এর বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়