দিলকুশা ক্লাবের নতুন সভাপতি রিয়াজ, সম্পাদক রতন

আগের সংবাদ

চীনের রকেটের আঘাতে ঘুম ভাঙে ওয়ার্নারদের

পরের সংবাদ

আত্মঘাতী বাঙালি, নাকি নীলকণ্ঠ

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২১ , ৯:০০ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১২, ২০২১ , ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

বাঙালি বীরের জাতি সন্দেহ নেই, তার বীরত্বের দৃষ্টান্তও কম নেই ইতিহাসে। কিন্তু একই সঙ্গে বাঙালি যে দারুণ আবেগি ও হুজুগে জাতি সেটিও হাড়ে হাড়ে সত্য। এর বাইরেও বাঙালি গ্রাম ভালোবাসে, পিতামাতা ও ফেলে আসা পরিবার ভালোবাসে এবং সে ভালোবাসা যে কতটা খাঁটি তা প্রতি বছরেই অন্তত এক-দুবার প্রমাণ মেলে। কথাটা উঠছে ভয়ংকর করোনা মহামারিকে তুচ্ছজ্ঞান করে ঈদ উদযাপনে বাঙালির ঘরে ফেরার অসামান্য চিত্র নিয়ে। আমি নিশ্চিত, করোনাকালে স্বদেশের ঈদযাত্রার যে ছবিগুলো গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, সেগুলো বিশ্বকে কেবলই অবাক করবে না, বাঙালির আবেগ নিয়ে নতুন গবেষণার পথও প্রশস্ত করবে।

২০২০ সালেও করোনার গ্রাস ছিল। ঠিক এবারের মতোই ঘটেছিল সেবারের ঈদের আগে। কিন্তু বাঙালির কোনো পরোয়া নেই। লাখো মানুষ ছুটেছে ঘরমুখী। ২০২১ সালের ছবিতেও বিন্দুমাত্র হেরফের কিছু নেই। কী দুঃসাহসী, বেপরোয়া জাতি! চারদিকে মৃত্যুর হাতছানি। সর্বগ্রাসী মহামারি হাজার-লাখো জীবন কেড়ে নিচ্ছে। হাজারো-লাখো মানুষ হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউর ভয়ানক সংকট। ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেনের সংকট। গোটা দুনিয়ায় ৩৪ লাখ মানুষ এরই মধ্যে মারা গেছে। দেশে নিত্যদিন মানুষ মরছে, সে সংখ্যা ১২ হাজারের উপরে। প্রায় ৭ লাখের ওপর দেশবাসী মহামারির তাণ্ডবে জর্জরিত। একের পর এক পরিবার তাদের প্রিয়জন হারাচ্ছে। সে প্রিয়জনকে একবারও চোখে দেখার সুযোই নেই, এমনই ভয়ংকর এই রোগ!

অধিকন্তু পাশের দেশ ভারত ও নেপালে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মানুষ। দিনে প্রায় ৪ হাজারের ওপর মরছে ভারতে। অক্সিজেনের সংকট সীমা ছাড়িয়েছে। কোটি ছাড়িয়েছে শনাক্তের সংখ্যা। শ্মশান ও কবরস্থানগুলোতে গণহারে শেষকৃত্য সারতে হচ্ছে। কান্নার রোল চারদিকে। এদিকে করোনার ভয়ংকর ভারতীয় ধরন বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। কাজেই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কেউ জানে না।

এবারের ঈদপর্ব শুরুর আগে অসংখ্য গুণী চিকিৎসক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী মানুষকে বারবার শতর্ক করেছেন। অনুরোধ করেছেন, অনুগ্রহ করে ঈদ করতে স্বজনকে ঝুঁকিতে ফেলবেন না। ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর মতো গুণী চিকিৎসক বারবার অনুরোধ করে বলেছেন, ‘এ বছর ঈদের আগে সংক্রমণের নতুন পিক বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের সম্মুখীন হয়েছি, তবে এর মাত্রা একটু একটু করে নামতে শুরু করেছে। কিন্তু তাই বলে নিশ্চিন্ত হওয়া বা আত্মতৃপ্তির কিছু নেই, করোনা অতিমারি চলে যায়নি। যে কোনো বড় ধরনের উৎসব, জনসমাগম, গণচলাচলের পরই আবার সংক্রমণের হার বাড়তে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদের এ বছর ঈদ করতে হবে।’

এই বরেণ্য চিকিৎসক আরো বলেছেন ‘করোনা অতিমারির কারণে জগৎজুড়ে মানবজীবন বিপর্যস্ত, ভেঙে পড়ছে অর্থনীতির চাকা।’ কাজেই তিনি সবাইকে নিজ ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ক্রান্তিকালে যে যেখানে আছেন, সেখানেই সীমিত পরিসরে নিজ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সতর্ক করেছেন, ‘বাড়ি গেলে আপনি আপনার মা-বাবা বা স্বজনদের, এমনকি পাড়া-প্রতিবেশী, গ্রামের জনগণকেও ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারেন। গণপরিবহনে, ট্রেন-বাস, লঞ্চ বা উড়োজাহাজে যেভাবেই হোক, এ সময় চলাচল করা বিপজ্জনক। নিজের ও পরিবারের জন্য তো বটেই, যাদের কাছে যাচ্ছেন তাদের জন্যও। তাই করোনাকে শহর থেকে গ্রামে নিয়ে ছড়িয়ে দেয়া কোনো ক্রমেই উচিত নয়।’

অন্যদিকে আছে ঈদের বাজার ও কেনাকাটা : ঈদ উপলক্ষে ফুটপাতে, ছোট-বড় দোকানে, বিপণিবিতানে জনগণের উপচে পড়া ভিড় ঠেকানো যায়নি। কোনো ভয় বাঙালিকে ভীত করেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জনসমাগম মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ঈদের নামাজ বড় খোলামেলা ময়দানে পড়লে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই নিজের এলাকার মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন তারা। ইসলামের ইতিহাস থেকেও জানা যায়, যুক্তিসঙ্গত দুর্যোগের কারণে ঈদের নামাজ মসজিদে পড়া যায়। চিকিৎসকরা করোনার বিপদ ঠেকাতে স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কম মিশতে বলেছেন। কারণ নিজে এবং পরিবার-পরিজন বেঁচে থাকলে, সুস্থ থাকলেই কেবল মঙ্গল। আগামীতে ঈদ উদযাপন করা যাবে। কাজেই প্রয়োজন মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ। আত্মসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

অনেক বিশেষজ্ঞ এও আশঙ্কা করছেন, আমাদের দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে, আর তা হতে পারে আরো মারাত্মক। তাই কোনোভাবেই গা-ছাড়া ভাব, শৈথিল্যতা, উদাসীনতা, খামখেয়ালি করা যাবে না। সুতরাং ঈদ উদযাপন জাঁকজমকভাবে এবার নাইবা হলো। কিন্তু তাতে কী! বাঙালি সাহসী ও বেপরোয়া তার প্রমাণ রাখতে হবে তো! অতএব সব সতর্কতা, আদেশ, অনুরোধ, ভয়ভীতি কিছুই বাঙালিকে রুখতে পারল না! ঈদ এগিয়ে আসতেই লাখো মানুষের স্রোত চলল শহর ছেড়ে গ্রামে। জলযান, স্থলযানগুলো উপচে পড়ল। বাস টার্মিনাল, নদীবন্দর, রেলস্টেশনগুলো উপচে পড়ল। ভেস্তে গেল মানুষের দূরত্ব, দেহের দূরত্ব। পরোয়া থাকল না মুখোসে। পরোয়া থাকল না সামাজিক দূরত্বে! নারীপুরুষ, শিশুবৃদ্ধ, যুবক চলেছে গ্রামের পথে ঈদ উদযাপন করতে। না, মহামারির দাপট বাঙালিকে রুখতে পারল না। মৃত্যুভয় তাকে গ্রামের পথ থেকে আটকাতে পারল না! কোনো ভয়ভীতি, সতর্কতা তাকে বাঁধতে পারল না!!

বাঙালি চরিত্র নিয়ে বহু গুণীজনই বহু কথা লিখেছেন। বাঙালির চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। তবে এই লেখাটি লিখতে বসে বারবার করে আমার মনে পড়ে অসামান্য পণ্ডিত নীরোদ চন্দ্র চৌধুরী এবং বিখ্যাত গুণীজন সৈয়দ মুজতবা আলীর কথা। নীরোদ বাবু জন্মেছিলেন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় ১৮৯৭ সালে। মৃত্যুবরণ করেন ১৯৯৯ সালে অক্সফোর্ডে। দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবন তার। পাণ্ডিত্বপূর্ণ বহু পুস্তক রচনা করেছেন তিনি। ব্রিটিশদের একবাক্যে প্রশংসা করেছেন। প্রায় সারাজীবন অক্সফোর্ডে কাটিয়েছেন। তার ‘বাঙালির জীবনে নারী’ আমাকে আকৃষ্ট করেছিল তরুণ বয়সে। তবে ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ পুস্তকটি অসামান্য। যেভাবে তিনি নিজ জাতির মনমানসিকতা ও চরিত্র তুলে ধরেছেন- তা বিতর্ক সৃষ্টি করলেও রীতিমতো প্রশংসাযোগ্য।

অন্যদিকে সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন অসামান্য গদ্য স্রষ্টা, যার সুদক্ষ রসবোধ তাকে অমরত্ব দান করেছে। তিনি জন্মেছিলেন সিলেটের করিমগঞ্জে ১৯০৪ সালে। মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭৪ সালে। বাঙালি জীবনের বহুবিধ সঙ্গতি-অসঙ্গতি নিয়ে রসাত্মক মন্তব্য করেছেন এই লেখক, শিক্ষক, বহুভাষাবিদ পণ্ডিত। তার ‘দেশে বিদেশে’র একটি উক্তি আজো মনে পড়ে : বাঙালির বই কেনার প্রতি বৈরাগ্য দেখে মনে হয়, সে যেন গল্পটা জানে, আর মরার ভয়ে বই কেনা, বই পড়া ছেড়ে দিয়েছে।

তবে বাঙালি যে মরার ভয়ে ভীত নয় তা বলাই বাহুল্য! যদি তাই হতো তাহলে গেল এক বছরের বেশি সময় ধরে যে মহামারির ঢেউ বিশ্বের প্রতিটি জনপদে, ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে তাণ্ডব চালাচ্ছে, তাতে কমবেশি ভীত হতো বাঙালি। কিন্তু তা হয়নি। যে ‘হার্ড ইম্যুনিটি’র কথা বলা হচ্ছিল, সেটিও তেমন কার্যকর হয়েছে বলা যাবে না। প্রাণঘাতী রোগটি নিত্যনতুন দাপটে এক জনপদ থেকে আরেক জনপদে লাফিয়ে পড়ছে। যত্রতত্র প্রাণ সংহার করছে। ভারত ও ব্রাজিলে নতুন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের অবস্থা গত বছর কোনোমতে সামলে নেয়া গেলেও এবারে পরিস্থিতি বেকায়দার হয়ে উঠেছিল এই ক’দিন আগেও। টিকার অভাবে টিকাদান কর্মসূচিও থমকে গেছে। অতএব একটি ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য যে সাহস দেখাচ্ছে বাঙালি, সে আনন্দ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা যে কেউই অনুভব করতে পারবেন! বিশ্বের মাত্র দুটি দেশ তাদের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষকে পূর্ণ ডোজ টিকা দিতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভুটানসহ কিছু দেশ তাদের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশকে টিকা দিয়েছে। অতএব পরিস্থিতি মোটেও সুখকর বা স্বস্তিদায়ক নয়।

এদিকে মহামারির দাপটে বাঙালির বহু জাতীয় অনুষ্ঠানও বাতিল হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে এবারের ২৫ বৈশাখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মদিনে সাদা শাড়ি ও বকুল ফুলে সেজে, পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে বাঙালি নারী-পুরুষ ঘরের বাইরে যাননি। কিন্তু যে রবীন্দ্রনাথ বাঙালির আত্মার সঙ্গে মিশে আছেন, যে রবীন্দ্রনাথ আমাদের শক্তি জোগান, তবু তাকে স্মরণ করেছেন, বরণ করেছে বাঙালি ভিন্ন রূপে। তারা বিপন্ন সময়েও কবিগুরুকে স্মরণ করেছেন তার গানে, কবিতায়। তারা গেয়েছেন সেসব অসামান্য গান, যা মানুষকে শক্তি দেয়, আশা জাগায় : ‘সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান সংকটের কল্পনাতে হয়ো না ম্রিয়মাণ’, গেয়েছেন, ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার’ এবং আরো গেয়েছেন ‘ভয় করব না ভয় করব না।’ কাজেই রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন। কারণ তিনি মানুষের অশেষ দুর্গতিতে ভরসা জোগান, অন্তর শক্তিতে বলিয়ান হতে বলেন। ভয়ে গুটিয়ে যেতে বলেন না, দুর্যোগে, সাহসে উঠে দাঁড়াতে বলেন।

রবীন্দ্রনাথ প্লেগের ভয়াবহতা দেখেছেন, ম্যালেরিয়ায় আফ্রিকার জনপদে গ্রামকে গ্রাম উজাড় হওয়ার খবর শুনেছেন। দেখেছেন ডিপথেরিয়া, গুটি বসন্তের মতো ভয়াবহ রোগের বীভৎসতা। তাই তার রচনায় বারবার ফিরে এসেছে মহামারির বিবরণ। ‘চতুরঙ্গ’ উপন্যাসে জগমোহনের মৃত্যুর বিবরণ দিয়ে বলেছেন ..‘পাড়ায় প্লেগ দেখা দিল। পাছে হাসপাতালে ধরিয়া লইয়া যায় এজন্য লোকে ডাক্তার ডাকিতে চাহিল না। জগমোহন স্বয়ং প্লেগ হাসপাতাল দেখিয়া আসিয়া বলিলেন, ব্যামো হইয়াছে বলিয়া তো মানুষ অপরাধ করে নাই।’

নিজের পরিবারে মহামারির মৃত্যু দেখেছেন তিনি। মহামারি গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে তাঁকে। কিন্তু শোক আগলে যে বাঁচা যায় না- তিনি জানতেন। তাই আশার আলো দেখিয়েছেন। লিখেছেন ‘আশা ফুরাইলে, সব ফুরাইল’। অতএব আশা জাগিয়ে রাখতে হবে, সাহসে ও সামর্থ্যে মানুষকে টিকে থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। মহামারি শেষে সুদিন আসারও আভাস দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। লিখেছেন : ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহ দহন জাগে, তবু শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত…।’

তিনি লিখেছেন, ‘ম্যালেরিয়া, প্লাগ, দুর্ভিক্ষ কেবল উপলক্ষমাত্র, তাহারা বাহ্য লক্ষণ মাত্র। মূল ব্যাধি দেশের মজ্জায় প্রবেশ করিয়াছে। আমরা এতদিন একভাবে চলিয়া আসিতেছিলাম, আমাদের হাটে বাটে গ্রামে পল্লীতে একভাবে বাঁচিবার ব্যবস্থা করিয়াছিলাম, আমাদের সে ব্যবস্থা বহুকালের পুরাতন। তাহার পরে বাহিরের সংঘাতে আমাদের অবস্থান্তর ঘটিয়াছে। এই নতুন অবস্থার সহিত আমরা এখনো সম্পূর্ণ আপস করিয়া লইতে পারি নাই; এক জায়গায় মিলাইতে গিয়া আর এক জায়গায় অঘটন ঘটিতেছে। যদি এই নতুনের সহিত আমরা কোনোদিন সামঞ্জস্য করিয়া লইতে না পারি তবে আমাদিগকে মরিতেই হইবে।’

ভাবতে অবাক লাগে, আজ থেকে শত বছর আগেও রবীন্দ্রনাথ ‘নতুন ব্যবস্থা’, যাকে কিনা আজ আমরা ‘নিউ নরমাল’ বলার চেষ্টা করছি, তারই কথা বলেছেন। কারণ তা হলে মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো যাবে না। অতএব নীলকণ্ঠি হতে হলে বাঙালিকে বেপরোয়া নয়, পরিস্থিতির সামর্থ্যে নিজেকে টিকাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ‘নতুন ব্যবস্থা’র সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। ‘নিউ নরমাল’-এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে পথ চলতে হবে। নিশ্চয়ই সুদিন আসবে।

হারুন হাবীব : সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়