কেনাকাটা ও ঈদযাত্রায় ভূলুণ্ঠিত স্বাস্থ্যবিধি

আগের সংবাদ

ভয়াবহ সংক্রমণের আশঙ্কা

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২১ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১০, ২০২১ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

করোনার সংক্রমণ রোধে এবারের ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান। গতকাল রবিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেছেন। করোনা ভাইরাসের নতুন আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট এসেছে যেটা আরো মারাত্মক। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আমাদের জন্য জরুরি। কিন্তু কয়েকদিনের অবস্থা দেখলে মনে হয় ঠিক উল্টোপথে আমরা হাঁটছি। ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যে ঢল নেমেছে তাতে শঙ্কা বেড়ে যায়। গত বছর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরেছিলেন। এবারো তার ব্যতিক্রম হলো না। ঈদের ছুটি কমিয়ে, দূরপাল্লার পরিবহন বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে মানুষের গ্রামে যাওয়া আটকে দেয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছিল, তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিকল্প পথে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ছুটছেন। কোনোভাবেই ঘোষিত লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব নির্দেশনা মানানো যাচ্ছে না। চিকিৎসা বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ বিপর্যয় নামতে পারে। পোশাক কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট, শপিংমল চালু রাখার কারণে সড়কে মানুষের চলাচল বেড়ে গেছে। আমরা বুঝতে পারছি, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও পোশাক কারখানা, দোকানপাট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনীতির ক্ষতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু এটা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা ভাবার বিষয়। দূরপাল্লার গণপরিবহন, লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ রেখে আন্তঃজেলা পরিবহন চালু করা হলো। এতে মানুষ ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের ভারতীয় একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। ভারতের কোভিড পরিস্থিতি এখন এক প্রকার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশেও। বাংলাদেশেও ভারতীয় এ ধরন ব্যাপক সংক্রমণ ও প্রাণঘাতী রূপ নিলে দেশের সামাজিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভেবে আতঙ্কিত হতে হয়। ভারতীয় ধরন ঠেকাতে বাংলাদেশ এর আগে দুই সপ্তাহের জন্য সীমান্তে পণ্যবাহী যান ছাড়া সব ধরনের যাতায়াত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এর মধ্যেও অনুমতি নিয়ে অনেকেই দেশে ফিরেছেন। আমরা বলব, নিজে সতর্ক না হলে, সচেতন না হলে ভারতীয় এ ধরন দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। ভারতের মৃত্যুর মিছিল দেখে তো আমরা শিক্ষা নিতে পারি? বিজ্ঞান অসহায়ের মতো লক্ষ করছে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। এ মৃত্যুর মিছিল কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা আমরা এ মুহূর্তে বলতে পারব না। জীবন রক্ষা ও অর্থনীতির ক্ষতি ন্যূনতম মাত্রায় রাখাÑ এই উভয় কূল রক্ষার চ্যালেঞ্জে সবাইকে বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়