গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের ওপর গুলি, আহত ৯

আগের সংবাদ

শক্তিশালী আইন থাকলেও, অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ্য ধূমপান

পরের সংবাদ

শ্রমিকদের বিকল্প ছুটির দাবিতে শ্রমিক ফ্রন্টের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২১ , ৩:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১০, ২০২১ , ৩:৫০ অপরাহ্ণ

পোষাক শ্রমিকদের নূণ্যতম ৫ দিনের ছুটি দেওয়াসহ সকল কারখানার শ্রমিকদের বেতন ভাতা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট।

সোমবার (১০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় বক্তারা পোশাক শ্রমিকদের ঈদের ছুটির সঙ্গে বিকল্প ছুটি দেওয়া, অবিলম্বে পর্যটন, রি-রোলিং, দোকান কর্মচারীসহ সকল প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়া, পরিবহন-নির্মাণসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মহীন শ্রমিকদের খাদ্য ও নগদ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, আইন বিষযক সম্পাদক অ্যাড. বিমল চন্দ্র সাহা, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম হোটেলস ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা ২০ রোজার মধ্যে পূর্ণ ঈদ বোনাস এবং এপ্রিল মাসের বেতনসহ বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবি করেছিল। শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিকে উপেক্ষা করে সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় ১০ মে’র মধ্যে সকল কল-কারখানা, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধের নির্দেশনা দেয়। কিন্তু ভহু কারখানায় বেতন বোনাস হয়নি। মাত্র ২ বা ৩ দিন পরে ঈদ কিন্তু এখনো পর্যন্ত রি-রোলিং, পর্যটন, রেস্তোরা-সুইটমিট, দোকান কমচার্রীসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন খাতে কাজ করা লক্ষ-লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এমনকি রপ্তানিমুখি শিল্পের সকল প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ হয়নি।

নেতারা বলেন, গণ-পরিবহন, পর্যটন শ্রমিক, রাইডার, হালকা যানবাহন চালক, নির্মাণ শ্রমিক, রিক্সা-ভ্যান চালক, হকার, পাদুকা শ্রমিক, দিনমজুর, গৃহশ্রমিকসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কোটি-কোটি শ্রমজীবী মানুষ করোনাকালে উপার্জনহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিত্যদিনের ক্ষুধা নিবারণের খাদ্য জোগাড় করায় যখন কঠিন সেই সময় ঈদ উৎসব তাদের যন্ত্রণাকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। সরকার বিভিন্ন ভাবে কর্মহীন অসহায় মানুষদের সহযোগিতার কথা প্রচার করলেও বন্টন প্রক্রিয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাষ, স্বজনপ্রিতি, দূর্নীতির কারণে প্রকৃত ভুক্তভুগী শ্রমিকের হাতে সরকারী সহায়তা পৌঁছায়নি। এ ক্ষেত্রে এই শ্রমজীবী মানুষদের পাশে দাঁড়াতে শ্রম মন্ত্রণালয় গঠিত ২৩ টি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি কোন ভুমিকা রাখেনি।

তারা বলেন, গার্মেন্টস শিল্পের পরিচালনা প্রক্রিয়ার কারণে শ্রমিকরা বছরে দুইটি ঈদের সময় ব্যতিত পরিবার-পরিজনের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়না। এই কারণে ঈদের ছুটিতে তারা পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য উম্মুখ হয়ে থাকে। তাই করোনা সংক্রমণ কমে আসলে বিকল্প ছুটির দাবি জানান তারা।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়