খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট প্রস্তুত, হাতে পাবেন শনিবার

আগের সংবাদ

আজ থেকে দিনে ফেরি বন্ধ, রাতে চলবে শুধু পণ্যবাহী ফেরি

পরের সংবাদ

আজ রবীন্দ্রজয়ন্তী

দ্বারে আসি দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২১ , ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ৮, ২০২১ , ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সকাল থেকেই শুরু হয়ে যেত কবি বন্দনা। রাজধানী থেকে গ্রাম। সর্বত্র গানে-কবিতায় চলত রবীন্দ্র বন্দনা। ছায়ানটসহ নানা সংগঠনের বহু আয়োজনে থাকত মুখর । তবে গত বছরের মতো এবারও সেই মুখরতা আর দেখা যাবে না। থাকবে না সুরের দৃশ্যমান কোন আবহ। শতাব্দী পেরিয়ে আজ ২৫ বৈশাখ আবারো দুয়ারে। ১৪২৮ সালের আজকের এই দিনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জনসমাগম নিষিদ্ধ। তাই ভক্ত অনুরাগীরা ভিন্ন পরিবেশে তাকে আজ স্মরণ করবেন। ভার্চুয়ালি নানা আয়োজনে উদযাপন করা হবে বিশ্বকবির জন্মদিন।

শান্তিনিকেতনের ছায়া সুনিবিড় প্রান্তরে সরবে নীরবে বহুবার বিশ্বকবির জন্মদিন পালিত হয়েছে। তবে ৬২তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন ছিল অপূর্ব এক প্রাপ্তির। তখন ১৩২১ সন। শান্তিনিকেতনের ছায়ায় গ্রীষ্মের দিনগুলোর সঙ্গে নিমগ্ন কবি উপহার দিয়েছিলেন ‘পঁচিশে বৈশাখ’ কবিতাখানি। জন্মদিনে সেই কবিতায় লিখেছিলেন- রাত্রি হল ভোর/আজি মোর/জন্মের স্মরণ পূর্ণবানী, প্রভাতের রৌদ্রে-লেখা লিপিখানি/হাতে করে আমি/দ্বারে আসি দিল ডাক/পঁচিশে বৈশাখ।

কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, রবীন্দ্রচেতনার আলোকে সাম্য ও শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় করার প্রয়াস চালানোর আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনাদর্শ এবং তাঁর সৃষ্টিকর্ম শোষণ-বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে চিরদিন বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করবে।
রবিঠাকুর বাঙলির মানসপটে সর্বদা বিরাজমান। বাঙালির জীবনের যত ভাবনা, বৈচিত্র্য আছে, তার পুরোটাই লেখনী, সুর আর কাব্যে তুলে ধরেছেন কবিগুরু। তার সাহিত্যকর্ম, সঙ্গীত, জীবনদর্শন, মানবতা, ভাবনা- সবকিছুই সত্যিকারের বাঙালি হতে অনুপ্রেরণা দেয়। বিশ্বব্যাপী মহাদুর্যোগেও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথের কাছে আমাদের আশ্রয় নেয়ার আছে। কবির শেষ জীবনের উপলব্ধি এমন মহাদুর্যোগে আমাদের ঋদ্ধ করে। মহাবিশ্বজীবনের তরঙ্গেতে নাচিতে নাচিতে/ নির্ভয়ে ছুটিতে হবে, সত্যেরে করিয়া ধ্রুবতারা/ কে সে, জানি না কে/ চিনি নাই তারে/ শুধু এইটুকু জানি, তারি লাগি রাত্রি অন্ধকারে/ চলেছে মানবযাত্রী যুগ হতে যুগান্তর পানে/ ঝড়ঝঞ্ঝা-বজ্রপাতে, জ্বালায়ে ধরিয়া সাবধানে/ অন্তর প্রদীপ-খানি।

রবী ঠাকুরের জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের আজকের দিনে। মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা কলকাতার বিখ্যাত জমিদার ও ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৭৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার মায়ের মৃত্যু হয়। বাবা দেশ ভ্রমণের নেশায় বছরের বেশিরভাগ সময় কলকাতার বাইরে কাটাতেন। ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে হয়েও তাই রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছে ভৃত্যদের অনুশাসনে। শৈশবে কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি পছন্দ করতেন। মাত্র ৮ বছর বয়সেই কবিতা লেখা শুরু করেন।

রবীন্দ্রনাথ ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য ইংল্যান্ড যান। সেখানে ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়েই দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালের ভবতারিণীকে বিয়ে করেন। বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নাম হয়েছিল মৃণালিনী দেবী। এসব ঘটনার মধ্যেই চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা।

বাবার আদেশে ১৮৯১ সাল থেকে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। বাংলা ভাষার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখায় তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে।

কর্মসূচি:

করোনা সংক্রমণের এই সময়ে রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে জনসমাগম হয় এমন কোনো আয়োজন থাকছে না। সে অনুযায়ী সংস্কৃতি বিষয় মন্ত্রণালয় ডিজিটালি প্রচারের জন্য একটি অনুষ্ঠান ধারণ করেছে। ধারণকৃত এই অনুষ্ঠানটি আজ সকাল ৯টায় বিটিভিসহ দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হবে।

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির চিরকালের সঙ্গী; উৎসবে-সুখে-দুখে, সংগ্রাম-বিপ্লবে। করোনা মহামারীর দুর্দিনে, বিশ্বকবির জন্মদিবস উপলক্ষে, বিপন্ন বিশ্ব-সমাজের শুভ কামনায় তারই বাণী সকলকে যোগাক অভয় শক্তি। এমন প্রত্যয় নিয়ে ছায়ানটের এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তীতে নিবেদন করছে “ধর’ নির্ভয় গান”। আয়োজনটি আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ছায়ানটের ফেসবুক গ্রুপ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়