সাড়ে ১৮ কোটি টাকার ইঞ্জেকশনে রক্ষা পেল শিশুটির প্রাণ!

আগের সংবাদ

দ্রুত খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতির দাবি ড্যাবের

পরের সংবাদ

অন্তর্জালিক আয়োজনে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২১ , ৯:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ৮, ২০২১ , ৯:০৬ অপরাহ্ণ

বিশ্বজনীন বাঙালি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বাঙালির মননে চিরন্তন অনুরণন জাগায়। শোকে দুঃখে আনন্দ উচ্ছ্বাসে তার কবিতা আর দর্শন বাঙালির অর্ন্তনিহিত আশ্রয়। বাঙালির এমন পরম আরাধ্যজনের জন্মতিথিতে মঞ্চে মঞ্চে হলো না কোন গান কবিতা নাটক! হলো না কোন ভালোবাসার অর্ঘ্য ঢেলে দেওয়া।

করোনা মহামারীর কারণে এ বছরও দৃশ্যমান কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই উপযাপন হলো এই বিশ্বজনীন বাঙালির ১৬০তম জন্মজয়ন্তী। তবে অন্তর্জালিক বা ভার্চুয়াল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবির জন্মদিনটি উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক ঘণ্টার একটি বিশেষ অনুষ্ঠান নির্মাণ করে যা গতকাল শনিবার বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে একযোগে সম্প্রচারিত হয়।

এছাড়া কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এক বাণীতে বলেছেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে সমগ্র বিশ্বে পরিচিত করেছেন। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তাঁর পদচারণা নেই। বাঙালির অস্তিত্ব ও সংস্কৃতির সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওতপ্রোতভাবে মিশে আছেন। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিতেই আমরা তাঁর রচিত “এসো হে বৈশাখ” গানটির মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নিই।

তিনি বলেন, বাঙালির চিন্তা, চেতনা ও অনুভূতিকে সার্থকভাবে প্রতিফলিত করে বলেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান “আমার সোনার বাংলা” গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিশেষত কবিতা ও গান বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে নিরন্তর উদ্দীপ্ত রেখেছিল। বাঙালির মানসপটে রবীন্দ্রনাথ সদাই বিরাজমান। তিনি যেন বলে গেছেন সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা। বাংলার সাধারণ, মধ্যবিত্ত ও মাটির মানুষকে সাহিত্যে রূপ দিয়ে তাঁদেরকে আড়াল থেকে আলোকবৃত্তে টেনে আনার গৌরব অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রেম-বিরহ, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশা, সুখ-দুঃখ, সংকটে-সাফল্যে রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রেরণার উৎস। তাই এই করোনাকালেও রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।

খালিদ তার বানীতে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিস্তার রোধে সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধের আওতায় বর্তমানে জনসমাগমপূর্ণ সকল অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেজন্য দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঘরে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করার জন্য সকলকে আহবান জানাই। পরিশেষে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে চাই- “নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার”। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মবার্ষিকীতে আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আসুন, আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।

এছাড়া এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বিপন্ন বিশ্ব-সমাজের শুভ কামনায় কবিগুরুর বাণী “ধর’ নির্ভয় গান” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট তাদের ফেসবুক গ্রুপ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি’ শীর্ষক এক অন্তর্জালিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়