রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে মানবতাবাদী ভাবনা

আগের সংবাদ

কবিতা

পরের সংবাদ

বারবার সুন্দরবনে আগুন কেন?

প্রকাশিত: মে ৭, ২০২১ , ১২:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ৬, ২০২১ , ১০:০৫ অপরাহ্ণ

আবারো সুন্দরবনে আগুন লেগেছে। গত সোমবার সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি এলাকায় আগুন লেগে প্রায় ৫ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলো সুন্দরবন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে আগুন লেগে বনের ৩ একরের বেশি এলাকা পুড়ে বিরান হয়ে যায়। সে সময়ে আগুন লাগার ঘটনাকে নাশকতা বলেই দাবি করা হয়েছিল। যথারীতি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে তদন্ত রিপোর্ট আর আলোর মুখ দেখেনি। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন কতটা অরক্ষিত তারই প্রমাণ বহন করে এই সুন্দরবনের অভ্যন্তরের নদীতে বারবার কার্গো জাহাজডুবি, সুন্দরবনে প্রায় প্রতি বছর আগুন লাগার এ ঘটনাগুলোতে। স্পর্শকাতর এই বনভূমিতে বড় রকমের আগুন লাগার ক্ষয়ক্ষতি শুধু কিছু গাছপালা পুড়ে যাওয়াই নয়, আরো ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারি। এই আগুনের তীব্র তাপ পুড়ে যাওয়া এলাকার বাইরেরও বিস্তৃত এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করে, বিপন্ন করে প্রাণিকুলকে। আমরা লক্ষ করছি, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন অনেক দিন থেকেই নানামুখী আক্রমণে অস্তিত্বের হুমকির মধ্যে রয়েছে। সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে সরকারের দায়িত্বহীনতার শেষ নেই। সুন্দরবনের ওপর দিয়ে বারবার ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে যাওয়ায় এমনিতেই এর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে রয়েছে। তার ওপর মানবসৃষ্ট নানা দুর্যোগ তাকে সইতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, কিন্তু মানবসৃষ্ট দুর্যোগগুলো থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মনুষ্য সদিচ্ছাই যথেষ্ট। কিন্তু কথা হলো সদিচ্ছা দেখাবে কে? চোর-ডাকাতরা নিশ্চয়ই নয়। সুন্দরবন রক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করার কথা সরকারের। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে উদাসীন। বনের অভ্যন্তরের নদ-নদীতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ দ্রব্য নিয়ে জাহাজ বা কার্গো চলাচল করছে। জাহাজডুবির ঘটনা ঘটলে যে দ্রুত উদ্ধার করা হবে বা নদীর পানি থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হবে সেটিও দেখা যায় না। গত দুই দশকে ২৩ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের ২২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ‘৭১ একর’ বনভূমির নানা গাছ, গুল্ম-লতা পুড়ে গেছে। এসব ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নাশকতা, অসচেতনতা, অবহেলায় ফেলে দেয়া বিড়ি বা সিগারেট থেকে আগুনের উৎপত্তি বলে উল্লেখ করেছে। এভাবে আগুন সন্ত্রাস ঠেকাতেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিগত বছরগুলোতে যেসব অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেসবের পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। নাশকতা হয়ে থাকলে নাশকতাকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। সুন্দরবনে বছর বছর আগুন লাগার ঘটনাকে হেলাফেলা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়