কবিতা

আগের সংবাদ

রবীন্দ্র সমাজভাবনা

পরের সংবাদ

পারমিতার জগৎ

প্রকাশিত: মে ৭, ২০২১ , ১২:১২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ৬, ২০২১ , ১০:০৭ অপরাহ্ণ

ফরিদ আহমদ দুলাল

স্যার ওয়াশরুমে ছিলেন, ফিরে এসে আমায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন, “তুমি জানো না এখন তোমার প্রতিটি ক্লাস ফলো করা কতটা জরুরি? তোমার সমস্যা ছিলো, তুমি জানালে না কেনো কর্তৃপক্ষকে?” আমি চুপ রইলাম। স্যারের কণ্ঠ এবার চড়ে গেলো, “উত্তর না দিয়ে চুপ থাকলেই কী সমস্যার সমাধান হবে?” এবার আমি কথা বললাম, “যা-কিছু সমস্যা হয়েছে, তার সবটাই আমার অজানা ছিলো স্যার। জরুরি বার্তায় বড় ভাই এসে বাড়ি নিয়ে গেলেন। বাড়ি গিয়ে এতোটাই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লাম, একটা খবর দেবার সুযোগও পাইনি।” কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না, সত্যটা বললে কি সবাই সহজভাবে মেনে নেবেন? এ প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে তখন। স্যারের কণ্ঠে কিছুটা সহানুভূতির আবহ এলো, “তোমার তো উচিৎ ছিলো গার্ডিয়ানের একটা চিঠি নিয়ে আসা।” এবার আমি মিথ্যার আশ্রয় নিলাম, “স্যার আমার আব্বা হঠাৎ স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী হলেন; পরিবারের সবাই দিশাহারা! আমার কী করা উচিৎ কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। অসুস্থ বাবাকে রেখেই চলে এসেছি। জানি না স্যার আমার জন্য কোন নিয়তি অপেক্ষা করছে। বাড়ির সবাই ভেঙে পড়েছে, এ অবস্থায় আপনি যদি স্যার আমার প্রতি সদয় থাকেন তবু কিছুটা স্বস্তি পাই।” মনে হলো আমার কথায় মির্জা স্যার কিছুটা সদয় হলেন, “তোমার বাবার চিকিৎসা হচ্ছে কোথায়?” আমি নরম সুরে বললাম, “জামালপুরে। ক’দিন পর এখানে আনা হবে।” স্যার অবাক কণ্ঠে বললেন, “কী আশ্চর্য! তুমি এখানকার ছাত্রী, তোমার বাবা অসুস্থ, তাকে এখানে আনবে না? জামালপুরে কী ভালো চিকিৎসা হবে?” আমি কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না, ভয়ে আমার তখন কান্না পেলো, দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়ালো। আমায় কাঁদতে দেখে স্যারের মনে মায়া হলো, স্নেহমাখা মৃদু ভর্ৎসনায় বললেন, “আচ্ছা ঠিক আছে এখন যাও! দেখি প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কথা বলে। এখন আর কেঁদে কী লাভ! হোস্টেলে যাও। দেখি চিঠিটা ফেরাতে পারি কি-না। আর তোমার আব্বকে এখানে শিফট করার ব্যবস্থা করো।” কোন কথা না বলে আমি মাথা নিচু করে বেরিয়ে এলাম। হোস্টেলে ফিরে তাড়াতাড়ি খেয়ে দু’দণ্ড বিশ্রাম নিয়েই বেরুবার প্রস্তুতি নিচ্ছি, পারভিন বললো, “তুই কি কোথাও বেরুবি?” বললাম, “মেজ’পার বাসায় যাবো, দেখি সবুজের সাথে দেখা করতে পারি কি-না। ও কেমন আছে সে খোঁজটাও নেয়া দরকার।” পারভিন কোন ভূমিকা ছাড়াই বললো, “আমায় সাথে নিবি? আমারও কি একবার কবিকে দেখতে যাওয়া উচিৎ নয়?” মনে মনে আমি দ্বিধান্বিত হলাম, জানি না মেজ’পার বাসায় এখন আমায় নিয়ে কী আলোচনা চলছে, পারভিনকে সাথে নিয়ে গেলে যদি ওর সামনেই কেউ অপ্রিয় কিছু বলে ফেলে? মনের ভাবনাটা আড়াল করে বললাম, “আজ তোর না যাওয়াই ভালো। আমি আগে পরিস্থিতিটা বুঝে আসি, তাছাড়া বাসায় গিয়ে খোঁজ নেয়াটা কবির বাসায় কীভাবে নেয় বুঝে এসে না-হয় তোকে নিয়ে যাবো দু’দিন পর।” পারভিন চুপ করে গেলো, আমি যেনো ওর আগ্রহের আগুনে জল ঢেলে দিয়েছি। একটু পরেই আবার বললো, “কী আর ভাববে ওরা! এতোদিন তো কবির দেখাশোনা আমিই করেছি। আজ তার খোঁজ নিতে গেলে ভিন্নকিছু ভাববার অবকাশ কোথায়? আমি না গেলেই বরং আমাকে ওরা দায়িত্বহীন ভাবতে পারে।” আমি বিষয়টাকে সহজ করতে বললাম, “না-না আমি কবির বাসার কথা ভাবছি না, আমি ভাবছি মেজ’পার শ্বশুড়বাড়ির কথা। আজ আমি একাই যাই, পরশু না হয় তোকেও নিয়ে যাবো।” পারভিন কিছু না বলে চাদর গায়ে জড়িয়ে শুয়ে পড়লো। পলকেই আবার উঠে বসলো। ওর আচরণে আমি একটু অবাক হলাম। ও তখন গভীর কণ্ঠে বললো, “তুই কখনো কাজলরেখা পালাটা পড়েছিস? অথবা কারো মুখে শুনেছিস?” আমি অবাক কণ্ঠে বললাম, “না-তো! কে কাজলরেখা?” পারভিন যেনো একটু হাসলো, ওর হাসির অর্থ আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। এবার ও বললো, “আচ্ছা ঠিক আছে, তুই যা। রাতে তোকে কাজলরেখার কাহিনিটা শোনাবো আজ।” ওর কথায় আমার বুকের ভিতর খচখচ করে উঠলো। বললাম, “এখন বললে সমস্যা কী?” ও আবার হাসলো, “সমস্যা কিছু নয়, সময়টা সমস্যা। এখন গল্প শুনতে বসলে সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবে; তোর আর যাওয়া হবে না। তারচেয়ে তুই গিয়ে ঘুরে আয়, রাতে গল্পটা শুনিস।”

বুকে সংশয়ের কাঁটা নিয়েই বেরিয়ে গেলাম মেজ’পার বাসার উদ্দেশে। বাসায় সবার ব্যবহারে কী যেনো এক শীতলতা লক্ষ করলাম। যখন মেজ’পাকে বললাম, “কি-রে মেজ’পা সবুজ ভাইকে দেখতে গিয়েছিলি? কেমন আছে এখন?” মেজ’পা “ভালোই আছে মনে হয়।” বলেই অন্যঘরে চলে গেলো। আমি অবাক হয়ে বসে রইলাম। একটু পর ফিরে এলো মেজ’পা। আবার প্রশ্ন করলাম, “তুই গিয়েছিলি দেখতে?” মেজ’পা বিষণ্ন মুখে বললো, “দেখতে যাবার মতো কী হয়েছে? সামান্য অপারেশন সেরে যাবে দু’দিনেই!” বুঝলাম, এ বাড়ির লোকজন সবুজের প্রতি আমার আগ্রহের বিষয়টি ভালো ভাবে নেয়নি। আমার ভেতরের গোঁয়ার স্বভাবটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। বললাম, “আচ্ছা ঠিক আছে। আমি যাবো তাকে দেখতে!” মুহূর্তে মেজ’পা হই হই করে উঠলো, “না-না ওদের বাসায় গিয়ে কাজ নেই, তুই ওখানে গেলে আমার সংসারে খামকা অশান্তি হবে।” এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বললাম, “আমারই ভুল হয়েছে তোর বাসায় এসে। সরাসরি সবুজ ভাইকে দেখতে গেলেই পারতাম! আমি তো আসলে তাকে দেখতেই এসেছি। তাকে দেখতে যাওয়া আমার কর্তব্য। হাসপাতালে আমি তাকে আমার আত্মীয় হিসেবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে আমি বাড়ি চলে গেলাম। এখন আমি যদি তার খোঁজ না নিই, আমার টিচাররা কী ভাববেন আমাকে? বন্ধুরাই বা কী ভাববে?” মেজ’পা ছাড়বার পাত্র নয়, তর্ক জুড়লো, “এখানে ভাববার কী আছে? সবুজ কি অনাথ কেউ? ওর আত্মীয়-স্বজন আছে। হাসপাতালে ছিলো, তুই খোঁজ-খবর করেছিস! হাসপাতাল থেকে চলে এসেছে, তোর দায়িত্ব শেষ! বাড়াবাড়ি কখনোই ভালো নয়।” আমি কিছুক্ষণ গ্যাঁঁট হয়ে বসে রইলাম। হঠাৎ উঠে বললাম, “আচ্ছা আমি আসছি। কালকে আমি সরাসরি সবুজ ভাইকে দেখতেই আসবো!” বেরিয়ে আসছিলাম; মেজ’পা আমার হাত টেনে ধরলো, “কী পাগলামী করছিস! তোর দুলাভাই শুনলে মন খারাপ করবে।” আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো, “দুলাভাই তোর বর আমার নয়! আমি কী করবো তা আমাকেই বুঝতে দে! মেজ’পাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সোজা বেরিয়ে এলাম। রাস্তায় এসে রিক্সায় উঠতে যাবো, এমন সময় মাসুম কোত্থেকে ছুটে এলো, “কী ব্যাপার পারু, তুমি কি চলে যাচ্ছো না-কি? আমি গিয়ে পৌঁছে দিতাম?” আমার কণ্ঠে ক্ষোভ ঝরে পড়লো, “পৌঁছে দিতে হবে কেন! আমি একাই চলে যেতে পারবো!” মাসুমকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রিক্সায় উঠে বসলাম। রিক্সা চালককে তাড়া দিয়ে বললাম, “চলুল ভাই চরপাড়া হাসপাতালে!” রিক্সা চলতে শুরু করলো। একটু এগিয়ে বাঁয়ে মোড় ঘোরার সময় চোরা চোখে দেখলাম, মাসুম পথের পাশে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে।

হোস্টেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে এসে চাদর মুড়ি দিয়ে আমায় শুয়ে পড়তে দেখেই অস্থির হয়ে উঠলো পারভিন। পাশে বসে মুখের উপর থেকে চাদরটা সরিয়ে প্রশ্ন করলো, “কী হলো? এসেই শুয়ে পড়লি যে? কবির সাথে দেখা হলো? কেমন আছে কবি? কোনো কমপ্লিকেশন নেই তো?” আমি চোখ বন্ধ রেখেই মাথা নাড়ালাম। পারভিনের কণ্ঠে অস্থিরতা বড়লো, “মানে কী? কী হয়েছে আমায় বল!” আমায় টান দিয়ে বসিয়ে ফেললো ও। আমি ওর প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারলাম না; দু’চোখ থেকে দু’ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো নিজের অজান্তে। পারভিন আমায় ঝাকুনি দিয়ে বললো, “কী হলো কাঁদছিস কেনো? কবির কী কিছু হয়েছে?” আমি এবার কথা বললাম, “জানি না! ওর সাথে আমার দেখা হয়নি।”

: কেনো? কবি কি বাড়িতে নেই?

: জানি না। আমি ওদের বাসায় যেতে পারিনি।

: কেন? সমস্যা কী?

: মেজ’পার বাসায় কেউ চায় না আমি কবির বাসায় যাই। তাতে না-কি মেজ’পার সংসারে অশান্তি হবে। ওদের মহল্লায় না-কি আমার সাথে কবির সম্পর্ক নিয়ে নানান কথা হচ্ছে!

: আশ্চর্য কথা!

: তুই একবার যাবি কাল? কবির সাথে একবার দেখা করে আসবি?

: নিশ্চয়ই। কিন্তু তোর মেজ’পা বা মাসুম ভাই কিছু বলতে পারলো না কবির কথা?

: না-রে ওদের কাছে কবির কথা জিজ্ঞেস করতে আমার রুচি হলো না। মানুষ হিসেবে ওদের চেয়ে কবি কতটা ভালো, তা বুঝবার শক্তিই ওদের নেই।

: বাদ দে ওদের কথা! আগামীকাল সকালে নাস্তা খেয়েই চলে যাবো কবির খোঁজ নিতে।

: সকালে ক্লাস আছে না আমাদের?

: জ্বি-না ম্যাডাম, কাল-পরশু দু’দিন ছুটি। কালকে চৈত্রসংক্রান্তি, পরশু নববর্ষ। মন তোর থাকে কোথায়?

: ওহ তাই তো! যাক ভালোই হলো।

পারভিনের সাথে কথা বলে মনটা হালকা হলো একটু। রাতেই ওকে সবুজের বাসার ঠিকানা, বাসায় যাবার নির্দেশনা কাগজে এঁকে বুঝিয়ে দিলাম। নির্দেশনায় মেজ’পার বাসাটাও চিহ্নিত করলাম। ওকে সতর্ক করে বলে দিলাম, ও বাসার কারো সাথে কথা না বলতে; এমন কি মাসুমের সাথে দেখা হয়ে গেলেও যেনো অচেনার মত আচরণ করে, তা-ও বলে দিলাম। মুখে শুধু বললাম, “ওদের সাথে কোনো সম্পর্কই রাখতে চাই না আমি!” পারভিন মৃদু হাসলো, “আচ্ছা সে দেখা যাবেখন।”

পরদিন সকালে পারভিন বেরিয়ে যাবার পর থেকেই অস্থিরতা বাড়লো। পৃথিবীতে আমার যেনো সবুজের খবর জানা ছাড়া কোনো কাজ নেই। কখনো শুয়ে থাকি, উঠে পায়চারি করি, আবার একটু বই নিয়ে বসি; কোনোকিছুতেই মন বসে না। হোস্টেলের আয়া এসে পারভিনের খোঁজ করলো, ও নেই শুনে চলেও গেলো; একটু পরেই ফিরে এলো আবার, “কয়জন ছাত্র আসছে খালা; আপনেরে ডাকে।” আমি অবাক হয়ে বললাম, “আমাকে! আমাকে কেনো ডাকবে?” খালা এক গাল হেসে বলে, “না গো খালা, ডাকছিলো তো পারভিন খালারেই; যহন গিয়া কইলাম, পারভিন খালা নাই, তহন আপনের কতা জিগাইলো, আমি কইছি, আপনে আছুইন।” একটু চিন্তিত হলাম, “তাইলে তো হইলোই! যাও, গিয়া কও আইতাছি।” খালা চলে গেল, আমি নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে হোস্টেল গেইটের উদ্দেশে বেরুলাম।

গেইটে গিয়ে দেখি ক’জন সহপাঠীর সাথে অন্য ইয়ারের দু’চারজন অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে ওরা পারভিনের কথা জিজ্ঞেস করলো, বললাম, “পারভিন একটা জরুরি কাজে বাইরে গেছে, ফিরতে দুপুর হবে। কিছু বলতে হবে?” একজন বললো, “তোমাকে বললেও হবে। আগামীকাল তো ১লা বৈশাখ, আজ চৈত্রসংক্রান্তি; এ উপলক্ষে আমরা কিছু আয়োজন করতে চাই, আমরা চাই তোমরা সবাই আমাদের সাথে যোগ দাও উৎসবে।” আমি একটু অবাক হলাম, তবু প্রশ্ন করলাম, “উৎসব মানে কী আয়োজন হবে?” একজন বললো, “না-না আয়োজন তেমন কিছু না; এই ধরো রাত বরোটা থেকে সাড়ে বারোটা; বর্ষবিদায় আর নববর্ষ বরণ; সামান্য বাজি পোড়ানো আর মিষ্টিমুখ।” আমি সামান্য ইতস্তত করে বললাম, “আমার তো শরীরটা ভালো নেই, তাই রাতে হয়তো আমি জাগতে পারবো না; পারভিন এলে সবাইকে অবশ্যই বলবো উৎসব-আমন্ত্রণের কথা। কিন্তু আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগলো। তোমরা তো চৈত্রসংক্রান্তি আর নববর্ষ বরণ করবে, সেটা রাত বরোটায় কেনো? আমি তো যদ্দুর জানি খ্রিস্টিয় বর্ষে দিন গণনা যেমন রাত বরোটার পর থেকে পরদিন রাত বারোটা পর্যন্ত হয়, তেমনি বাংলা মাসের দিন গণনা সূর্যোদয় থেকে পরদিন সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত দিনের হিসাব হয়।” একজন শব্দ করে হাসলো, “আরে সে-সব মান্ধাতা আমলের কথা! আমরা কি বাংলাসন নিয়ে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলবো না? মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে বাংলা-বাংলা করে আমরা কি নিজেদের পুরোনো নিয়মেই আটকে রাখবো!” ওদের সাথে আমার আর তর্ক করতে ইচ্ছা হলো না, বললাম, “ঠিক আছে পারভিন ফিরলে আমি সবার সাথে কথা বলবো। আর কিছু?” এবার একজন হেসে বললো, “আর কী, খরচাপাতি তো আছে, সবাই মিলে শেয়ার করলে ভালো হয়।” আমি ওদের আশ্বস্ত করে বললাম, “সবাই মিলে আলোচনা করেই যা করবার করবো।” ওরা বিদায় নিয়ে চলে গেলো, আমিও ঘরে ফিরলাম।

ঘরে এসে আবার শুয়ে পড়লাম। মন থেকে অস্বস্তি কাটছিলো না; ভাবলাম গল্প-উপন্যাস কিছু-একটা পড়ি। পারভিনের টেবিলে গল্প-উপন্যাস-কবিতার বই থাকে; একটা বই টেনে নিলাম হাতে। ছোট্ট বই, বুদ্ধদেব গুহ’র ‘মাধুকরী’। শুয়ে শুয়ে বুকের উপর বইটা মেলে ধরে পড়ছি। হঠাৎ বই থেকে ভাঁজ করা একটা কাগজ বুকের উপর পড়লো। কাগজটা আমি আবার বইয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখলাম। পড়তে পড়তে হঠাৎ কী মনে করে কাগজটা বের করে চোখের সামনে মেলে ধরলাম। মনে হলো কবিতা। পড়লামÑ

পাহাড়-দুহিতা

পাহাড়ের সাথে সখ্য পাথর-প্রতীমা সে যে পাহাড়ের মেয়ে

আমি ভাবি মেঘ গুন টেনে উজান-সন্ধানে যাই ডিঙা বেয়ে

নৈঃশব্দ্য মৌনতা তার কৃষ্ণকলি পাহাড়-দুহিতা

চোখে তার মেঘের বিষাদ ঠোঁটে মৃদুহাসি প্রজ্ঞাপারমিতা……

কবিতার নাম ‘পাহাড় দুহিতা’, কবির নাম লেখা নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়