যেভাবে বিল গেটস ও মেলিন্ডার জীবন শুরু

আগের সংবাদ

পদ্মায় নৌ দুর্ঘটনা: স্পিডবোটের মালিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে অনলাইনে ঈদ কেনাকাটার ধুম

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২১ , ১০:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ৪, ২০২১ , ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

এ বছরও ঈদকে সামনে রেখে ঘরবন্দি মানুষ। তবুও ঈদে নতুন কাপড় তো চাই। তাই অনলাইনে পছন্দসই কেনাকাটায় স্বস্তি খুঁজছেন সচেতন ক্রেতারা। তারা মনে করছেন, ঘরে বসে কেনাকাটার সুযোগ থাকার পরও মার্কেটে গিয়ে অহেতুক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার কোনো মানে নেই। অন্যদিকে ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধার কথা চিন্তা করে নামকরা ফ্যাশন হাউসগুলো ফ্রি করে দিয়েছে ডেলিভারি চার্জ। এমনকি পছন্দের সব পণ্যের ওপর দেয়া হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ ভাগ ছাড়ের অফার।

অন্যান্য দেশের মতো এ দেশেও দিন দিন অনলাইন কেনাকাটার ব্যাপকতা ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিক্রেতারা ঘরে বসে নিজস্ব পেইজ খুলে অলনাইন লাইভ করে তাদের পোডাক্টগুলো এত সূক্ষভাবে তুলে ধরছেন যে, ক্রেতারা মার্কেটের মতো যাচাইবাছাই করেই পণ্য কিনতে পারছেন। পছন্দের জিনিস অর্ডার দেয়ার আগে রিভিউ বিভাগে গিয়ে মতামতগুলো পড়ে নেয়ার সুযোগ থাকছে। এমনকি ক্রেতারা একসঙ্গে অনেকগুলো সাইটে গিয়ে পণ্যের দাম যাচাইবাছাই করে নিতে পারছেন। ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য অর্ডার করলে সময়মতো পৌঁছে যাচ্ছে কোনো ঝামেলা ছাড়াই। গত রোজার ঈদের চেয়ে এবার বেচাকেনাও ভালো। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এবার বিক্রি বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।

গ্রামীণ ইউনিক্লোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজমুল হক বলেন, আমরা চাই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাই অনলাইনে কেনাকাটা করুক। এরই মধ্যে আমাদের অনলাইন পেইজ থেকে ক্রেতারা ঈদের কেনাকাটা করছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর ক্রেতাদের অংশহগ্রহণ অনেক বেশি।

তিনি আরো বলেন, বড় বড় পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আছে। যার ফলে অনলাইনে কেনাকাটায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পোশাক কেনার সময় প্রয়োজনে অনলাইন চ্যাটিং মুডে ক্রেতা নানা বিষয় জেনে পছন্দমতো পোশাক কিনতে পারছেন। স্টোরে যেটা সামনা সামনি হতো সেটা চ্যাটিং অপশনের মাধ্যমে হচ্ছে। তবে প্রতিটি পণ্য কেনার আগে যাচাইয়ের বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা বললেন নাজমুল হক।

মেয়েদের নানা ডিজাইনের সেলোয়ার-কামিজ, টপস-কুর্তি বিক্রির ফেসবুক পেজ ‘রিলায়েন্স’। এই পেজের স্বত্বাধিকারী সোনালি নিজেই লাইভের মাধ্যমে ক্রেতা ধরে রাখেন। তিনি দেশীয় ও বিভিন্ন দেশ থেকে কাপড় এনে নিজস্ব ডিজাইনের বুটিকসের ড্রেস তৈরি করেন। মান বেশ ভালো হওয়ায় ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন তার পেজে।

সোনালি জানান, বেচা বিক্রি খুবই ভালো। রিজেনেবল প্রাইসের মধ্যে আমি ড্রেসগুলো রাখার চেষ্টা করি। সারাদেশের ক্রেতাদের এখান থেকে কেনাকাটার সুযোগ আছে। পার্সেলের মাধ্যমে খুব দ্রুত পৌঁছে দিতে পারি। ঈদকে সামনে রেখে সপ্তাহে তিন দিন লাইভ রাখার চেষ্টা করছি। প্রতিটা লাইভে অন্তত ছয় রকমের নতুন ডিজাইনের ড্রেস থাকে। লাইভ শেষ না হতেই আমার ড্রেস শেষ হয়ে যায়। অর্ডার নিতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা।

কাতান, বেনারসি, সুতি কাপড় ও শাড়ি বিক্রেতা পেজ ‘অংশু’। এই পেজের উদ্যোক্তা তানজিলা হক বলেন, গত রোজার ঈদের চেয়ে এবার বেচাকেনা অনেক ভালো।

শুধু ঈদ বলে নয়, ঘরে বসে বছরের প্রায় সব সময়ই কেনাকাটা করেন রাজধানীর বাসাবো এলাকার সোনিয়া নুসরাত। তিনি জানালেন, এবারের ঈদে বাবার এবং শ্বশুড়বাড়ির সবার জন্যই অনলাইন থেকে কেনাকাটা করেছেন। নিজের কিছু পছন্দের পেজ আছে সেখান থেকেই তিনি কেনাকাটা করেন। কারণ তাদের পণ্যের মান বেশ ভালো।

তিনি বলেন, এই করোনা পরিস্থিতিতে মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটার প্রশ্নই আসে না। ঘরে বাচ্চা আছে। ওদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে চাই না। বেঁচে থাকলে নতুন কাপড় না পড়েও ঈদ হবে, কিন্তু একজন সংক্রমিত হয়ে গেলে সবার আনন্দই মাটি হয়ে যাবে। এর চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটার সুযোগ যেহেতু আছে মার্কেটে অযথা ভিড় বাড়িয়ে কি লাভ!

বিভিন্ন অনলাইন ফ্যাশন পেজগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা টানতে এবার অফারটা একটু বেশিই। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো তাদের অনলাইন পেজে প্রায় প্রতিটি পণ্যের ওপর ছাড় দিচ্ছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন শপিং সাইট ‘প্রিয়শপ ডটকম’ প্রতিবারের মতো আয়োজন করেছে মাসব্যাপী ‘অনলাইন ঈদ শপিং ফেস্টিভাল’। ঈদ উপলক্ষে নানা অফারে সাজানো হয়েছে এই ফেস্টিভাল। ৫০০ টাকার বেশি শপিং করলেই নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার, যে কোনো মূল্যের কেনাকাটায় প্রিয়জনসহ হেলিকপ্টারে উড়ার সুযোগ রয়েছে প্রিয়শপে। এছাড়া বিভিন্ন পেমেন্ট মেথডে রয়েছে ছাড় ও ক্যাশব্যাক। এর মধ্যে বিকাশ পেমেন্টে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক, অ্যামেক্স কার্ড পেমেন্টে ১০ শতাংশ ছাড়, মাস্টার কার্ড ব্যবহারকারীদের ১০ শতাংশ ছাড় এবং ইবিএল কার্ড ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন ৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট।

প্রিয়শপের প্রধান নির্বাহী আশিকুল আলম খাঁন বলেন, থ্রি-পিস, গজ কাপড়, শাড়ি, বাহারি পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, বাচ্চাদের পোশাক, ইম্পোর্টেড জুয়েলারি, চশমা, ঘড়ি, ওয়ালেট, ঘর সাজানোর সামগ্রী, ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রসাধনীসহ বাহারি সব পণ্যের পসরা নিয়ে সেজেছে প্রিয়শপ ডটকম। আমাদের প্রায় প্রতিটি পণ্যেই ঈদের বিশেষ মূল্যছাড় আছে। তিনি জানান, পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে ঝামেলাহীন ঈদের কেনাকাটায় পছন্দের পণ্যটি ঘরে বসেই অর্ডার করার নির্ভরযোগ্য সমাধান দিতেই আমাদের এই আয়োজন।

তবে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার বলেন, সব পেজ বা অনলাইন শপের অবস্থা একরকম নয়। অনেক ই-কমার্স সাইটকে কষ্ট করে টিকে থাকতে হচ্ছে। কারণ সাধারণ যে কোনো ঈদের চেয়ে করোনাকালীন ঈদে বেচাকেনা এমনিতেই কম। এখনো অনলাইনে নিত্যপণ্যের চাহিদাই বেশি। চলতি সপ্তাহেই ই-কমার্স সাইটগুলোতে ঈদ পণ্যের কেনাকাটা বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে অনলাইনে ক্রেতাদের ওর্ডার করা পণ্য যথাসময়ে নিরাপদে পৌঁছে দিতে অনলাইনভিত্তিক কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর এখন নাভিশ্বাস অবস্থা। এ প্রসঙ্গে ‘ই-কুরিয়ার’-এর সিইও বিপ্লব রাহুল জানালেন, লকডাউনের এই সময়টাতে কুরিয়ারের কর্মীদের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি। ডেলিভারিম্যান, মানবসম্পদ বিভাগগুলোর ব্যস্ততা শেষ নেই। তাদের অকেটা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। এখন অনেকেই রমজান ও ঈদের কেনাকাটা সারছেন অনলাইনে। ই-কুরিয়ার প্রায় ছয় হাজার প্রতিষ্ঠানের পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। কোনো ধরনের বিপর্যয় না হলে সাধারণত আট ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘণ্টাতেই পণ্য ডেলিভারি করেন। সব পণ্যই স্যানিটাইজ করে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়