পদ্মায় নৌ দুর্ঘটনা: স্পিডবোটের মালিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আগের সংবাদ

বিনা কারণে অক্সিজেনের আবেদন যুবকের, পরে কি করল পুলিশ

পরের সংবাদ

নিঃস্ব হয়ে গেল মিম ও আদুরি

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২১ , ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ৪, ২০২১ , ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও দুই বোনকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বেঁচে ফিরেছে ৯ বছরের মীম। চারজনের মরদেহ দেখে মীমের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। অপর দিকে স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে নিঃস্ব আদুরি বেগম।

জানা যায়, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন মিমের বাবা মনির শিকদার। তিন বোন ও মাকে নিয়ে থাকত মিরপুরে। রোববার রাত ৮টায় খুলনার তেরখাদার বাড়িতে মারা যান মিমের দাদি। আর এই লাশ দেখতে পরিবারের সবাইকে নিয়েই খুলনার উদ্দেশে রওনা হয় তারা। দাদির লাশ দেখেতে গিয়ে সবাইকে হারিয়ে নিঃস্ব মিম। মিম একটি ব্যাগ ধরে পানিতে ভেসে ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এদিকে, মায়ের মৃত্যুর খবরে মাকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকা থেকে স্বামী ও শিশুসন্তান নিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামে যাচ্ছিলেন আদুরি বেগম। স্পিডবোট দুর্ঘটনায় তিনি হারিয়েছেন তার স্বামী আরজু সরদার ও দেড় বছর বয়সী ছেলে ইয়ামিনকে। দুর্ঘটনায় জীবিত যে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আদুরি ও মিম রয়েছে। তারা বেঁচে থাকলেও এ দু’জনের পরিবারে আর কেউ রইল না। লাশ দেখতে গিয়ে লাশ হলো এই ছয়টি তাজা প্রাণ।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার ভোরে পদ্মা নদীর কাঁঠালবাড়িতে বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষে ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৯ বছর বয়সী মীম। এক আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর শুনে মা-বাবা আর দুই বোনের সঙ্গে সে খুলনার তেরোখাদা উপজেলার পারুফল এলাকায় যাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজধানীর মিরপুরে থাকতো মীম। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মা-বাবা ও দুই বোনকে হারিয়ে এখন এতিম শিশুটি।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়