করোনাকালে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর ১ মে’র ভাষণ ও প্রাসঙ্গিক কথা

পরের সংবাদ

আশ্বাসে বিশ্বাস করা বন্ধ হোক!

জুবায়ের আহমেদ

শিক্ষার্থী, বিজেম, ঢাকা

প্রকাশিত: মে ১, ২০২১ , ১২:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১, ২০২১ , ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

মানুষের মানবিক গুণাবলির মধ্যে অন্যতম অন্যের কথা বিশ্বাস করা। বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই মানুষে মানুষে সম্পর্ক তৈরি হয়। বিশ্বাস ছাড়া মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। যে বিষয়গুলোতে অবিশ্বাস মনে বাসা বাঁধে সেসব বিষয়ে সফলতা অর্জনের হার খুবই কম। ধর্ম বিশ্বাসের বাইরে বহমান জীবনে বিশ্বাসের ব্যাপারটি তখনই সামনে আসে, যখন কেউ আশ্বাস দেয়। আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বাস জন্মানোর পেছনেও কারণ থাকে, তা অবশ্যই স্বার্থজনিত। নিজের লাভ হবে না, এমন কোনো আশ্বাসে বিশ্বাস করে না কেউ কিংবা আশ্বাস যে ব্যক্তি দেয়, তিনিও স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন। আশ্বাস প্রদানকারী ব্যক্তিটি যদি সাময়িক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আশ্বাস দিয়ে থাকেন, তাহলে বিশ্বাস স্থাপনকারী ব্যক্তিটির ক্ষতি বৈ উপকারের কিছু হয় না, সাময়িক কিছু পাওয়ার থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য তা ভয়াবহ হয়ে যায়। বিশেষ করে বিয়ের আশ্বাসে নারীর বিশ্বাস অর্জন করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশে। যেখানে পুরুষ যৌন স্বার্থ চরিতার্থ করে, আর নারী অর্থলোভে কিংবা স্বাভাবিক বিশ্বাসের বিপরীতে চরমভাবে প্রতারিত হয়ে সর্বস্ব হারায়। মানুষের মাঝে বিভিন্নভাবে প্রেম হয়। তবে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাগুলো থেকে দুটি বিষয় লক্ষণীয়। তার মধ্যে প্রথমত নারীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার শরীর ভোগের জন্য প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক করা, দ্বিতীয়ত দুজনের মধ্যে সত্যিকার ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার পর ‘ভবিষ্যতে আমরা তো বিয়ে করছিই’ এই বিশ্বাসে স্থির হয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া এবং শেষে ছেলের পরিবারের অমতের কারণে বিয়ে না হওয়ায় মেয়েটি প্রতারিত হওয়া। এ দুটি বিষয়ই বাংলাদেশে অহরহ ঘটছে। শারীরিক সম্পর্ক না হলেও আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে প্রতারিত হচ্ছে নারী, তা ‘প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন’ কিংবা ‘প্রেমিকের প্রতারণার কারণে প্রেমিকার আত্মহত্যা’Ñ এ ধরনের খবরগুলোর মাধ্যমেই সহজে প্রতীয়মান হয়।
সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে কুমিল্লা শহরের পিতা-মাতাহীন তরুণী মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনা। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে। মুনিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তাকে বিয়ে করা এবং বিদেশে সেটেল করার কথা বলে তাকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাসের এক পর্যায়ে বিষয়টি আনভীরের পরিবারে জানাজানি হয়ে গেলে মুনিয়ার ওপর মিথ্যা অর্থ চুরির অপবাদ দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় মুনিয়ার। শুধু কি মুনিয়ার ঘটনাই দেশে প্রথম, তা নয়। মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে কদিন পরপরই পুরুষ কর্তৃক মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে প্রতারিত হওয়ার ঘটনা আমরা দেখতে পাই। যেখানে নারী সর্বস্ব হারায়, সম্মান হারানোর পাশাপাশি মূল্যবান জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়, না হয় ঘৃণা-লজ্জা আর কলঙ্কের অপবাদ নিয়ে সমাজে বাঁচতে হয়।
কাউকে বিশ্বাস করা মানবিক গুণাবলির অংশ হলেও অর্থ লোভে অন্ধ হয়ে যাওয়াও কাম্য নয়। প্রেমের কোনো বয়স না থাকলেও বাস্তবতার দিকে খেয়াল রাখতে হয়। অবিবাহিত দুজনের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও অসম বয়সের এবং সংসারী পুরুষের মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করা নিজের পায়ে কুঠারাঘাতের শামিল। এছাড়া বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাওয়ার পর তাতে বিশ্বাস করে সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়া উচিত নয়। দেশে একের পর এক আশ্বাসে সর্বস্ব লুটে নেয়ার পর বিশ্বাস ভঙ্গের ঘটনা ঘটা এবং প্রকাশের পরও এসব ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে এবং সতর্ক না হওয়া ভালো কিছুর ইঙ্গিত বহন করে না। আমাদের অর্থ লোভ, প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লোভে পড়ে শারীরিক সম্পর্ক পরিহার করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে মূল্যায়ন করতে হবে। যেখানে বিয়ে পবিত্র বন্ধন এবং বিবাহের পূর্বে শারীরিক সম্পর্ক গড়া হারাম, সেখানে হারাম সম্পর্কের পর ‘জীবনে সুখী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ’Ñ এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠা করে দেয়ার আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে চাওয়া পুরুষকে পরিহার করতে হবে, লোভ সংবরণ করতে হবে। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতি আটকানো সম্ভব হবে না।

জুবায়ের আহমেদ : শিক্ষার্থী, বিজেম, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়