হেফাজত নেতা আবদুল কাদের কারাগারে

আগের সংবাদ

যে কারণে লাল কার্ড দেখলেন কোম্যান

পরের সংবাদ

দুই সপ্তাহ পর মুখ খুললেন হিথ স্ট্রিক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২১ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০২১ , ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ও কোচ হিথ স্ট্রিক একসময় ছিলেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট কিংবদন্তি নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তাই অনেকের জন্যই ছিল বিস্ময়ের। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধির কয়েকটি ধারা ভেঙে সব ক্রিকেট থেকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর তার কৃতকর্মের জন্য পুরো দায় নিজের কাঁধে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হিথ স্ট্রিক কিন্তু ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আইসিসি জানিয়েছিল খেলোয়াড়ি জীবনের পর কোচ হিসেবে দুর্নীতিতে জড়ান স্ট্রিক। যার বেশির ভাগই ২০১৭ ও ২০১৮ সালে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচসহ আইপিএল, বিপিএল ও আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যেসব দলে তিনি কোচ হিসেবে কাজ করেছেন, সেখানে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এক জুয়াড়ির প্রস্তাব সহজ করার কাজ করেছেন স্ট্রিক। ১২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৫৫ উইকেট নেয়া স্ট্রিক স্বীকার করেছেন, জিম্বাবুয়েতে টি-টোয়েন্টি লিগ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জুয়াড়ির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর ব্যাপারে আইসিসির বক্তব্য ঠিক আছে। কিন্তু তিনি জানতেন না ওই ব্যক্তি অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত। স্ট্রিক বলেছেন, ‘২০১৭ সালে আমি একজনের সঙ্গে দেখা করেছিলাম যিনি আফ্রিকায় ক্রিকেটে বিনিয়োগ করতে চান, বিশেষ করে জিম্বাবুয়েতে একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে স্পন্সর করতে চান যার নাম হতো সাফারি ব্লাস্ট। ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার একধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি হতে শুরু করেছিল। সব সময় আমাদের সম্পর্কটা ছিল বেশ ভদ্রোচিত। আমার বিশ্বাস ছিল সবকিছু ঠিক আছে। আশা করছিলাম যে এই সম্পর্ক শুধু আমার ও একাডেমির জন্যই নয়, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য উপকারী হবে।’

মাসখানেক পর স্ট্রিক বুঝতে পারেন সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাকে বিপদে ফেলছেন ওই ব্যক্তি, ‘একটা সময় গিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য দল তৈরিতে সহায়তার জন্য আমাকে বিট কয়েন দেয়া হলো। দুবাইয়ে একটা দলও কিনতে সফল হলাম। আমাদের বন্ধুত্বের খাতিরে আর শুধু এক বোতল হুইস্কি ও আমার স্ত্রীকে একটি ফোন উপহার দেয়া হয়। কয়েক মাস পরে আইসিসি আমাকে এই ব্যাপারে নজরে আনে এবং জানতে চায় কার সঙ্গে আমি লেনদেন করছি। জানতে পারলাম বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে আমি যেসব তথ্য তাকে দিয়েছি তা সে অনলাইন বেটিংয়ে ব্যবহার করেছে।’
২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ে ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচ থাকার সময় তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ মেনে নিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সি স্ট্রিক। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আমার পরিবার, বন্ধু, ক্রিকেটানুরাগী ও সব জিম্বাবুয়ানদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, যারা এই বিচারকার্যের সময় আমার প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন জানিয়েছে।’

স্ট্রিক আরো বলেছেন, ‘আমি একটা কথা বলতে চাই, ম্যাচ চলার সময়ে আমি কখনো ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং কিংবা ম্যাচ প্রভাবিত করা অথবা ড্রেসিংরুমের তথ্য পাচারের মতো কাজে আমি জড়িত ছিলাম না। আমি আশা করি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে করা ভুল কর্মের স্বীকারোক্তি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্টেকহোল্ডারদের কাছে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।’

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়