সচেতনতাই আপনি বাঁচবেন

আগের সংবাদ

তালাকে শিশুরা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত

পরের সংবাদ

রমজানে মানবিকতা প্রসঙ্গে

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২১ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২১ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

অসহায় মানুষের প্রতি পারস্পরিক সমবেদনা, সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রমজান মাসের রোজার ভূমিকা অপরিসীম। সমাজে ধনী-গরিব, দুঃখী-অসহায়, অনাথ-এতিম বিভিন্ন ধরনের মানুষ বসবাস করেন। রমজান মাসে রোজাদার ব্যক্তি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার পরিহার করার ফলে গরিব-দুঃখীদের অপরিমেয় দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখেন। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনায়রত রোজাদার পুরোটো দিন পানাহার বন্ধ রাখে। ফলে তার এ সময়কার ক্ষুধার জ্বালা অপরের ক্ষুধার জ্বালা অনুভব করার সুযোগ করে দেয়। আর এ কারণে রোজাদার ব্যক্তি গরিব-দুঃখীদের প্রতি দরদি হয়ে থাকে। এভাবে ধনী লোকেরা অতি সহজেই সমাজের অসহায় গরিব-দুঃখী, এতিম-মিসকিন ও নিরন্ন মানুষের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের জন্য সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের দান-খয়রাত, জাকাত-সাদকাদানসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। এটি মাহে রমজানের বদৌলতে একটি উজ্জ্বল মানবিকতা।
এই রমজানে সবসময় সব অবস্থায় ধৈর্যধারণ ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানুল মোবারক পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার বিশেষ করুণা ও দয়া লাভের উত্তম সময়। কুরআন নাজিলের মাস হিসেবে রমজান অতি ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ। মাহে রমজানের মধ্যে জাগতিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির বার্তা রয়েছে। এ মাসে ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে ও সর্বশক্তিমান আল্লার নৈকট্য লাভের সুযোগ হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অপরিচিত ব্যাধি ও মহামারি থেকে বাঁচতে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদত করতে বলেছেন।
মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাসের জন্য অপেক্ষা করে দীর্ঘ একটি বছর। কিন্তু এবারের রমজানের পরিবেশে সংক্রমণের আশঙ্কা মসজিদগুলোতে তারাবির সালাত আদায়ে আরোপ করা হয়েছে বিধি নিষেধ, ফলে আমাদের চিরচেনা দৃশ্য আর দেখা যাবে না। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়, এমনকি পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ওমরা পালনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, হয়েছে ইফতার ও সেহরির মতো আয়োজন বন্ধ। খাবার ভাগাভাগি করে নেয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পবিত্র বন্ধন এর যোগসূত্র গড়ে ওঠে। তা আর প্রকাশ্যে দেখা যাবে না। রমজানে প্রতিটি ইফতার হয়ে ওঠে মুসলমানদের মধ্যে সহমর্মিতা ও পাশে দাঁড়ানোর আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হিসেবে। আর এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি খাদ্য চিকিৎসা তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি এগিয়ে আসা দরকার। এই রমজানে যারা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সেসব মানুষের পাশে বাংলাদেশি সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের জন্য খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে। আর এসব সংগঠনের মাধ্যমে এমন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করতে হবে।
রমজান মাসে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে যুবসমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। মানবধর্মের কাছে যে ধর্মীয় রীতিনীতিও সামান্য, তা সবাইকে প্রমাণ করে দিতে হবে। এই রমজানে সোশ্যাল ডিস্টেন্স মেনে করোনা বিধ্বস্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়ার আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। রমজান ও এই দুর্যোগকালীন সময়ই মনুষ্যত্ববোধের পরিচয় দেয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। অসহায় প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনের বাসায় খাদ্যসামগ্রী তথা বাজার আছে কি না খোঁজ নিন। রাস্তায় পড়ে থাকা ছিন্নমূল, কর্মহীন, অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ান। এ রমজান মাসে মুসলিম সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা আরো বৃদ্ধি করে সর্বাবস্থায় পরহেজগারি অবলম্বন করা উচিত। পাশাপাশি এই রমজানে মানবিক হয়ে উঠুন।

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়