লকডাউন ও তরুণ প্রজন্মের স্নায়ুযুদ্ধ

আগের সংবাদ

করোনায় আক্রান্ত 'রানিমা' খ্যাত অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া

পরের সংবাদ

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় সতর্কতা জরুরি

মো. আশরাফুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ভারতে করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি যে চিতায় দাহ করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতে ডাবল মিউট্যান্ট আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি ট্রিপল মিউট্যান্ট আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ভাইরাস যত ছড়ায়, তার মিউটেশনের হারও তত বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় এই চারটি রাজ্যে নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।
ভারতে যে দুটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে তা সারা বিশ্বে বিরল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসের তিনটি আলাদা স্ট্রেইন মিলে তৈরি হয় নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের ক্ষমতাও তিনগুণের বেশি হয়ে থাকে। তাছাড়া নতুন এই স্ট্রেইনে আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থারও দ্রুত অবনতি ঘটে। নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের চারদিকে সংক্রমণ করার ৩০০ গুণ ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার কারণে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি বাংলাদেশও থাকতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন জিনোম সিকোয়েন্সিং। বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে কাজ করে আইইডিসিআর। আমাদের দেশে ডাবল বা ট্রিপল মিউট্যান্ট ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি রয়েছে কিনা তা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা জরুরি। পাশাপাশি ভারতের এই ভ্যারিয়েন্টটি কতটুকু বিপজ্জনক তাও খতিয়ে দেখা দরকার। এর জন্য পুরো দেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যেতে পারে। পাশাপাশি আমাদের ডাটাবেজ ও ডেভেলপ করা দরকার।
বর্তমানে দ্বিতীয় ঢেউ খুব জোরেশোরে বইছে বাংলাদেশে। প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা। চিকিৎসকরা আক্রান্তদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। আইসিইউসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামের অনেক ঘাটতি রয়েছে। দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ পাওয়া তো দূরে থাক, সাধারণ বেডই পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে যদি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আঘাত হানে তাহলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে যাবে।
নতুন ভ্যারিয়েন্টের ফলে ফের বদলাবে করোনার উপসর্গ। যে উপসর্গ এখন সংক্রমণের ফলে হচ্ছে সেগুলো পরিবর্তিত হতে পারে অথবা এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে একাধিক নতুন উপসর্গ। বর্তমানে বাংলাদেশে যে টিকা দেয়া হচ্ছে এটার বিরুদ্ধে হয়তো সে টিকা কাজ করবে না। ফলে তা খুব দ্রুত ছড়াবে এবং জটিলতা আরো বাড়িয়ে তুলবে।
ভারতীয় নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রবেশ রোধে ইতোমধ্যে সরকার ভারত-বাংলাদেশ স্থলবন্দর ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। যা খুবই ভালো ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে বিমানবন্দর ও অবৈধ যে রাস্তাগুলো রয়েছে সেগুলো বন্ধ করাও জরুরি। সম্প্রতি বেনাপোল সীমান্তে ভারত থেকে আসা ১২ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে কি ধরনের ভ্যারিয়েন্টে তারা আক্রান্ত সে তথ্য পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত এই ১২ জনের জিনোম সিকোয়েন্স করে ভাইরাসের ধরন শনাক্ত করা জরুরি। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা দরকার। মানুষকে তথ্য জানাতে হবে, তথ্য জানালে মানুষ সতর্ক হবে। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকারকে কঠোর হতে হবে। যারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মানবে না তাদের জরিমানার পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। মাঠ পর্যায়ে যারা স্বাস্থ্যবিধি মানানোর দায়িত্বে নিয়োজিত তাদের আরো কঠোর হতে হবে।

মো. আশরাফুল ইসলাম : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়