রমজানে মানবিকতা প্রসঙ্গে

আগের সংবাদ

ইসলাম প্রসারে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান

পরের সংবাদ

তালাকে শিশুরা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত

কে এম মাসুম বিল্লাহ

ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২১ , ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২১ , ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের তথ্য মতে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন ৩৯টি তালাকের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও প্রতিদিন বেড়ে চলছে তালাকের জন্য আবেদন সংখ্যা। পরিসংখ্যান দেখলে এটা সুস্পষ্ট যে, প্রতি বছর বেড়েই চলছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা। তালাকের জন্য আবেদন করা এসব নারী-পুরুষরা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আলাদা আলাদা কারণ উল্লেখ করেন। পুরুষদের প্রতি নারীদের অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যৌতুকের কারণে নির্যাতন, পারিবারিক অশান্তি, সন্দেহপ্রবণতা, পুরুষত্বহীনতা, পরকীয়া, নেশাগ্রস্ততা ইত্যাদি। এছাড়া নারীদের ক্ষেত্রে পুরুষদের অভিযোগ হলো অবাধ্য হওয়া, ধর্মীয় রীতি মেনে না চলা, পরকীয়া, সন্তান না হওয়া ইত্যাদি।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩ বছরে কেবল ঢাকা শহরেই তালাকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ আর বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাগুলো ৭০ শতাংশ হচ্ছে নারীদের দিক থেকে এবং বাকি ৩০ শতাংশ পুরুষদের দিক থেকে। ঢাকা শহরের পাশাপাশি অন্যান্য শহরের তালাকের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত, যা ভবিষ্যতের জন্য এক অশনিসংকেত।
সংসারে বনিবনা না হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ না হলেও আলাদা থাকার সংখ্যাটাও কম নয়। আর বিবাহ বিচ্ছেদ কিংবা আলাদা থাকার কারণগুলোর মধ্যে সব থেকে বড় কারণ সন্দেহ প্রবণতা। শহরে কাজের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই হয়তো বের হতে হয়, কর্মক্ষেত্রে অন্যদের সঙ্গে মিশতে হয়, এসব ক্ষেত্রেও তৈরি হয় সন্দেহ প্রবণতা। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসহীনতাও হয়ে উঠছে বড় কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়বে কয়েকগুণ। সেক্ষেত্রে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব পরিবারের সন্তানরা। ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানরা সাধারণত সামাজিকভাবে অবহেলা আর অনাদরে বড় হয়ে ওঠে। এ তো তাদের মধ্যে পরবর্তীতে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনায় সামাজিকভাবে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও তাদের পরিবারগুলো সামাজিকভাবে হীনমন্যতার স্বীকার হয়।
পরিবারের নিরপরাধ সন্তানরা।
বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাগুলো দুঃখজনক, ইসলাম ধর্ম মতে তালাক হচ্ছে সব থেকে নিকৃষ্ট হালাল, যার জন্য সৃষ্টিকর্তাও অখুশি হন। তাই বিবাহ বিচ্ছেদের এই সংখ্যা কমিয়ে আনতে প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি। মানুষের নৈতিকতা শিক্ষা পরিবার থেকেই শেখানো হয়, কিন্তু ভেঙে যাওয়া পরিবারের একজন সদস্য কখনোই সে শিক্ষা পায় না। বিবাহের সময় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিগুলো মেনে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসের ভীতকে শক্ত করা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা, সব বিষয়ে সৎ থাকার মানসিকতা, পরস্পরের প্রতি সহনশীল মনোভাব, পারস্পরিক সহযোগিতা-সহমর্মিতা, নিজেদের সময় দেয়া, সন্তানদের প্রতি যত্নবান হওয়া, আর সামাজিক অস্থিরতাগুলো থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। পৃথিবীর সব শিশু সুন্দর একটা পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠুক, সুন্দর হোক সব সম্পর্কÑ এই হোক আমাদের প্রার্থনা।

কে এম মাসুম বিল্লাহ : ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়