তালাকে শিশুরা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত

আগের সংবাদ

লকডাউন ও তরুণ প্রজন্মের স্নায়ুযুদ্ধ

পরের সংবাদ

ইসলাম প্রসারে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান

মো. মহসিন খান

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২১ , ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২১ , ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে একদিকে যেমন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে মনোযোগ দেন, অন্যদিকে ইসলাম প্রচার, প্রসার এবং গবেষণার জন্য সরকারিভাবে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখন সরকারি অর্থে পরিচালিত অন্যতম একটি বৃহৎ ইসলামিক সংস্থা। ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত।দ্বীনিশিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য বঙ্গবন্ধু মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেন। পূর্বে মাদ্রাসা বোর্ড স্বায়ত্তশাসিত ছিল না। বঙ্গবন্ধুই প্রথম মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে এর নাম রাখেন ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড’। ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষার দ্বার উন্মুক্তকরণ এবং মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করেছিলেন। একবার মাদ্রাসার জন্য সরকারি অনুদান বন্ধের একটি প্রস্তাব সংবলিত নথি বঙ্গবন্ধুর কাছে উপস্থাপন করা হলে বঙ্গবন্ধু ফাইলে লেখেন যে, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য যে বরাদ্দ ছিল, সেটাই থাকবে। তবে ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ আরো বাড়ানো যায় কিনা এবং কতটা বাড়ানো যায়, তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
পাকিস্তান আমলে হজযাত্রীদের কোনো সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা ছিল না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রথম হজযাত্রীদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে অনুদানের ব্যবস্থা করেন। বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম স্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে তুরাগ নদীর তীরবর্তী জায়গাটি প্রদান করেন। সে হতে অদ্যাবধি তাবলিগ জামাত ওই স্থানে বিশ্ব ইজতেমা পালন করে আসছে। এছাড়া তাবলিগ জামাতের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাকরাইল মসজিদের সম্প্রসারণের দরকার হলে তখন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু নির্দ্বিধায় কাকরাইল মসজিদকে সরকারি জায়গা বরাদ্দ দিয়ে এর সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করে দেন।
বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের উন্নয়নে পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম ও মুসলমানদের কল্যাণে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আল কুরআন ডিজিটালাইজেশনের ঘোষণা দেন। মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের বহুদিনের স্বপ্ন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দেশের ৩১টি কামিল মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু করে শেখ হাসিনার সরকার। যোগ্য আলেমদের ফতোয়া প্রদানের ঐতিহাসিক রায় আসে এই সরকারের আমলেই। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্যবর্ধন, সম্প্রসারণ, মসজিদের সুউচ্চ মিনার নির্মাণ, মহিলাদের নামাজকক্ষ সম্প্রসারণসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ সরকার। ইসলামী মূল্যবোধ, ইসলামী শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতিতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আলেম-ওলামাদের যাতে অর্থ সংকটে ভুগতে না হয় সেজন্য মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থান ও বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়। শিশু ও গণশিক্ষা এবং কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমে মহিলাদের নিয়োগ দেয়া হয়। এ উদ্যোগ নারী কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মসজিদভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ, একটি গ্রাম একটি মক্তব চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ সরকার। বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, হজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জেদ্দা হজ টার্মিনালে ‘বাংলাদেশ প্লাজা স্থাপন’, আশকোনা হজক্যাম্পের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ রেকর্ডসংখ্যক হজযাত্রী প্রেরণ করা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই।
দীর্ঘকাল অস্বীকৃতিতে ভুগতে থাকা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করেছেন শেখ হাসিনা। ইসলাম প্রচার, প্রসার ও উন্নয়নে দেশব্যাপী ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের বিরল রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ইতোমধ্যে কিছু মসজিদ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। তা ছাড়া মাদ্রাসা, মসজিদ নির্মাণ এবং মাদ্রাসা মসজিদে অনুদান বৃদ্ধি করে এ দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দেখিয়ে দিয়েছে ইসলামের উন্নয়ন আসলে কোন সরকার করে। কোন সরকারের আমলে মসজিদ মাদ্রাসা বেশি নির্মাণ হয়। কোন সরকারের আমলে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়।
এরপরও আওয়ামী লীগ সরকারকে ইসলাম বিদ্বেষী বলে বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে। আজকে নারী কেলেঙ্কারি, টেন্ডারবাজির অভিযোগসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে অভিযুক্ত কথিত ছাত্রনেতার কাছে কারা মুসলমান কারা অমুসলমান সেই পরিচয় শুনতে হচ্ছে। তবে এমন অপপ্রচার নতুন নয়। ১৯৭১ সালে তাদের পূর্বসূরিরাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়া জনসাধারণকে কাফের বলে ফতোয়া দিয়েছে। তাদের পূর্বসূরিরাই ইসলামের নাম দিয়ে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। অসংখ্য নারীকে ধর্ষণ করে ধর্ষণের মেগা সিরিয়াল তৈরি করেছে তাদের পূর্বসূরিরাই। শেখ হাসিনা শুধু দেশেই নয় আজ বহির্বিশ্বে অন্যতম সফল, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে উন্নয়ন চলছে, চলুক…।

মো. মহসিন খান : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়