অসাম্প্রদায়িক আধুনিক মানুষ

আগের সংবাদ

আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে এক উজ্জ্বল বাতিঘর

পরের সংবাদ

শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২১ , ১২:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২১ , ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

ফরিদ হোসেন

সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এর একটির শিরোনামÑ ‘যার শেষ ভালো তার সব ভালো’। এটি একটি বাংলা প্রবাদ। তার পুস্তকের নামকরণ কেন এই প্রবাদ দিয়ে করেছিলেন তা কখনো তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারিনি। এখন আর পারব না। আমাদের অতি প্রিয়জন শাহরিয়ার ভাই চলে গেছেন তাঁর অন্তিম ও অনন্যকালের ঠিকানায়। ১০ এপ্রিল, শুক্রবার। অতিমারি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন। কয়েকদিনে জ¦র ও পরবর্তীতে শ^াসকষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে তাকে কিছুটা জোর করেই হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল হয়ে শেষ পর্যন্ত একটিতে সোনার হরিণের মতোই দুষ্প্রাপ্য একটি আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা শয্যা পাওয়া যায়। নানা পরীক্ষা ও ভর্তিজনিত আনুষঙ্গিকতা শেষ করে শেষ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা শুরু হতে হতে বৃহস্পতিবার রাতের গভীরতা শুক্রবারের ভোরের দুয়ারপ্রান্তে। সেদিন দুপুর গড়ানোর আগেই চোখ বুজলেন তিনি চিরতরের জন্য। তাঁর জীবনের শুরুটা হয়েছিল ২৫ এপ্রিল ১৯৪৬ সালে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায়। এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ রাজত্ব অবসানের এক বছর আগে। তাঁর শরীরে সাংবাদিকতার রক্ত নিয়েই তিনি এই ধরায় এসেছিলেন। তাঁর পিতা মকবুল হোসেন চৌধুরী ছিলেন একজন ক্ষুরধার সাংবাদিক ও একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। মকবুল হোসেন চৌধুরী সিলেট থেকে প্রকাশিত যুগবাণী, যুগভেরী ও কলকাতার দৈনিক পত্রিকা ছোলতান সম্পাদনা করেন। তিনি তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, তবে তাঁর দল মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবির আন্দোলনে সিলেটে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বাবার সাংবাদিকতার উত্তরাধিকারী হাসান শাহরিয়ার বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বেশ দাপটের সাথে। ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু করে বর্ণাঢ্য জীবনের ৫৭টি বছর তিনি কাটিয়েছেন সাংবাদিকতায়। সক্রিয় রাজনীতি তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের একটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রস্তাবও এসেছিল। বিনয়ের সাথে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমৃত্যু তিনি সাংবাদিকতায় থেকেছেন। সাংবাদিকতা দিয়ে শুরু, সাংবাদিকতাতেই শেষ। মহান এই পেশার প্রতি তিনি ছিলেন অবিচল নিষ্ঠাবান। সাংবাদিকতার সূত্রে ক্ষমতার করিডোরে ছিল তার অবাধ বিচরণ। কিন্তু এই পেশাকে পুঁজি করে নিজের ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি বা বলা যায়, ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’Ñ হওয়ার পথ তিনি সযত্বে পরিহার করেছেন।

সাংবাদিকতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি হিসেবে। ১৯৬৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য করাচি গিয়েছিলেন। সেখানেই দৈনিক ‘ডন’ পত্রিকার কাজ শুরু করেন একজন শিক্ষানবিশ সাংবাদিক হয়ে, কাজ করেছেন, এই পত্রিকার সান্ধ্যকালীন সংস্করণ ‘দি ইভনিং স্টার’-এ। এই শুরুর সময়ে তিনি মনিং নিউজ দৈনিকেও হাত পাকিয়েছেন। তাই বলা যায়, শুরু থেকেই তিনি বাংলা ও ইংরেজি দুটি ভাষায় সাবলীন সাংবাদিকতা করেছেন। সেই ধারা অব্যাহত ছিল তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। বিখ্যাত মার্কিন সংবাদ সাপ্তাাহিকী নিউজ ইউকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছিলেন তিন দশক ধরে। সাময়িকীটির প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত। কাজ করেছেন দুবাই থেকে প্রকাশিত খালিজ টাইমস, ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও পরবর্তীতে দি ডেকান হেরাল্ডে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আটকে পড়েন পাকিস্তানে আরো হাজার হাজার বাঙালিদের সাথে। ফিরে আসেন ১৯৭৩ সালে। এবার করাচি থেকে নয়, ঢাকা থেকেই শুরু করলেন ইত্তেফাকের নতুন অভিযাত্রা। এখানেই তিনি প্রধান প্রতিবেদক, বিশেষ প্রতিনিধিÑ এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করতে করতে শেষ অবধি নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইত্তেফাক থেকে পদত্যাগ করার পর তার কাছে প্রস্তাব আসতে থাকে নতুন পত্রিকা প্রকাশে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠান থেকে। তখন তিনি ঝুপ করে কোনো কিছুতে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাননি। নতুন প্রস্তাব পেলে বেশ যাচাই-বাছাই করতেন। ঘনিষ্ঠজনের সাথে আলোচনা করতেন। আমার সাথেও আলোচনা করতেন। সেই সময়ে এ ধরনের প্রস্তাব, ভালো-মন্দ খুঁটিনাটি বিশ্লেষণে আমার মতো আরো কয়েকজনের পরামর্শ নিতেন। এখানে বাংলাদেশের আরেকজন তারকা সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধূরীর কথা বলতে পারি। সে দিনগুলোতে আমি শাহরিয়ার ভাই ও জগলুল ভাইর সাথে বাংলাদেশের অনেক জেলা চষে বেড়িয়েছি। বিশেষ করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে। জগলুল ভাই হবিগঞ্জের সন্তান। তবে শাহরিয়ার ভাইর জন্ম জেলা সুনামগঞ্জ কম যাওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, জেলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ধরনের অনুষ্ঠান, গণমাধ্যম, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার ও দায়িত্ব এ ধরনের বিষয়ে আলোচনা ও কর্মশালা ছিল আমাদের সফরের মূল উদ্দেশ্য। চলার পথে, হাসি-তামাশা, নানাজনের নানা গল্প, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (সিজেএ) নিয়ে চিন্তাভাবনা কী করে এই সংস্থাটিকে আরো কার্যকর করা যায় ইত্যাদি সব গুরু ও লঘু আলোচনা হতো। আমার গুরুজনসম বন্ধু শাহরিয়ার ও জগলুল ভাই দুজনেই ছিলেন খুব আমুদে। জগলুল ভাই, একটি সাধারণ বিষয়কে তার গল্প বলার বর্ণিল কৌশলে অসাধারণ করে তুলতেন। তাঁরা ছিলেন বক্তা, আমি শ্রোতা।

২০১৩ সালে ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বাস থেকে নামতে গিয়ে মাথায় আঘাতজনিত রক্তক্ষরণে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মারা যান জগলুল ভাই। শাহরিয়ার ভাই ও জগলুল ভাই এক সময় বন্ধুত্বের যুগলবন্দি রচনা করেছিলেন। এই শাহরিয়ার ভাইকে নিয়েই তিনি সম্পাদক পদে যোগ দিয়েছিলেন প্রকাশিতব্য এক ইংরেজি পত্রিকায়। কাজ শুরু করেছিলেন বেশ ঘটা করে। উপরের দিকের পদগুলোতে নিয়োগ হয়েছে, আরো নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। সম্পাদক হিসেবে শাহরিয়ার ভাই আরো বেশ কয়েকজন ইংরেজি সাংবাদিকতার অভিজ্ঞদের সাথে কথা বলছেন। ঠিক তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাত। একদিন সকালে পত্রিকায় প্রকল্প কার্যালয়ে বসে আছেন, কথা বলছেন জগলুল ভাই, নিয়োগপ্রাপ্ত রওশনউজ্জামান ভাইসহ কয়েকজনের সাথে। খবর এলো, তার পরামর্শে নিয়োগকৃত দু’একজনকে পত্র-পাঠ বিদায় জানানো হয়েছে। তিনি সম্পাদক, অথচ তিনি কিছুই জানেন না। মুহূর্তেই তিনি কম্পিউটারে তার সংক্ষিপ্ত পদত্যাগপত্র লিখে কোম্পানির দেয়ার নতুন আইফোন ও গাড়ি রেখে চলে আসেন। আর সে দিকে ফিরে তাকাননি।

সম্পাদকের মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা, মালিকের সাথে সম্পাদকের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে থাকবে, মালিক সম্পাদকের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করবে নাÑ এই নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন শাহরিয়ার ভাই। এটা তিনি শুধু কথায় নয়, কাজেও প্রমাণ করেছেন। এখানেই ছিল আমাদের মতো আপসকামী অনেকের সাথে তাঁর পার্থক্য। তিনি আত্মম্ভরী ছিলেন না, তবে সাংবাদিকতা প্রশ্নে তার ছিল পরম আত্ম অহংকার। অর্থ, পদবি, বিদেশ ভ্রমণ, জায়গা-জমি ইত্যাদি দিয়ে সাংবাদিক কেনা যায় না, এই পেশার এই অহংকারের মর্যাদা আমরা কেউ কেউ না পারলেও শাহরিয়ার ভাই রক্ষা করতে পেরেছিলেন। তাঁকে অনুসরণ করে জগলুল ভাই ও রওশন ভাইসহ আরো কয়েকজন সে প্রকল্প ছেড়ে চলে এসেছেন।

শাহরিয়ার ভাইর সাথে আমার পরিচয়-গোড়াপত্তন ৮০’র দশকের শুরুতে। অবশ্যই সাংবাদিকতার সূত্রে। এরপর সম্পর্ক গাঢ় হয়েছে। ঘনীভূত হয়েছে, পেশার অঙ্গন পেরিয়ে পারিবারিক পর্যায়ে গড়িয়েছে। ২০১৬ সালে মিনিস্টার (প্রেস) পদে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত আমরা দুজনে ছিলাম প্রায় নিত্যসঙ্গী। বিশেষত এক সাথে ঢাকা ক্লাব ও উত্তরা ক্লাব গমন। শাহরিয়ার ভাই সম্পর্কে লিখতে গেলে স্মৃতির গহিন থেকে উঠে কত যে কথা। এই বিশাল ভাণ্ডার থেকে আজ শুধু কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (সিজেএ) নিয়ে বলব। এরশাদ সরকারের পতনের পর কোনো এক সময় মৌচাক-মালিবাগ মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি কার্যালয়ে তিনি সিজেএ বাংলাদেশ শাখা গঠনের প্রসঙ্গটি আলোচনা করেন তৎকালীন এপি ব্যুরো প্রধান হাসান সাঈদ (প্রয়াত) ভাইসহ আরো কয়েকজনের উপস্থিতিতিতে। আমিও ছিলাম। পরবর্তীতে শাখা যখন গঠন হলো, তখন এলেন ইউএনবির শামসুদ্দিন ভাই, বাসসের জগলুল ভাই, চপল বাশার ভাই, বর্তমানে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম ও আমাদের সকলের প্রিয় সাংবাদিক বেবী মওদুদ আপাসহ (প্রয়াত) আরো নবীন ও প্রবীণ সাংবাদিকবৃন্দ। এ সাথে প্রিয় ব্যক্তিত্ব সালেহ আহমেদ ভাই’র কথা বলতেই হয়। তিনি সিজেএ বাংলাদেশ শাখার সভাপতি থাকাকালীন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন চিরতরে।

শাহরিয়ার ভাই আন্তর্জাতিক সিজেএর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন পরপর দুবার। এরপর তিনি আমৃত্যু কমনওয়েলথ সাংবাদিকদের এই মর্যাদাপূর্ণ সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট এমিরেটারস ছিলেন।

শাহরিয়ার ভাইয়ের উদ্যোগে গঠিত সিজেএ বাংলাদেশ শাখা সংগঠনটির সবচেয়ে কর্মপ্রবণ ও সচল হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করে। এখনো সেই ধারা অব্যাহত আছে। প্রথমে বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে শাহরিয়ার ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। প্রত্যক্ষ করেছি তার সৃজনশীল সাংগঠনিক দক্ষতা ও এর সফল প্রয়োগ। সিজেএর আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলন হয় ২০০৩ সালে, ঢাকায়। ১৯৯৭ সালে হংকং, ২০০১ সালে নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজা, ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ার পর্যটন শহর কুচিং ও ২০১২ সালে মাল্টা ও ২০১৬ সালে লন্ডনÑ এ সম্মেলনগুলোর মধ্যে ঢাকা সম্মেলন সবচেয়ে বেশি চাকচিক্যময়, জাঁকজমকতা ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় বৈচিত্র্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। সম্মেলন করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। সত্যি বলতে, সিজেএর কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থভাণ্ডার প্রায় শূন্য। তাই সম্মেলন আয়োজনকারী দেশগুলোকেই খরচের মূল জোগান দিতে হয়। ঢাকা সম্মেলনের অর্থ সংগ্রহ তো বটেই, এমনকি হংকং, আবুজা, কুচিং ও মাল্টা সম্মেলনের আয়োজন সফল করতে বাংলাদেশ শাখা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তা সম্ভব হয়েছে শাহরিয়ার ভাইয়ের নিপুণ নেতৃত্বে। বাংলাদেশ শাখার প্রতি সদস্য তাঁকে সাহায্য করেছে। তবে সাইদ ভাই, বেবী আপা, জগলুল ভাই, শামসুদ্দিন ভাই, শ্যামল দত্ত (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক) ও নঈম নিজামের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। পঁচিশে এপ্রিল শাহরিয়ার ভাইয়ের জন্মদিন। এবারের জন্মদিনে তিনি নেই, তবে তার জীবন ও কর্ম উজ্জ্বল এক নক্ষত্র, যা দ্যুতি ছড়াবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়