রোনালদোকে দলে ফেরাতে তোড়জোড় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

আগের সংবাদ

ভারতীয় ভ্যারিয়েয়েন্টে দেশে করোনা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

পরের সংবাদ

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কাটাখালির অংশীদারত্ব নিয়ে জটিলতা

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২১ , ১১:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২১ , ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কাটাখালি পৌরসভা উভয়ের মধ্যে দাপ্তরিক কার্যকলাপের অংশীদারিত্ব নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। আরডিএর অধীনে সকল প্রকার বাড়ি বা ভবন নির্মাণে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (এনওসি) ও নকশা অনুমোদন দিবে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কিন্ত কাটাখালী পৌরসভা এলাকার কর্তৃত্ব অরডিএকে দিবে না পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

চলমান প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে এনওসি দিচ্ছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এই সূত্রে বিভিন্ন ভবন মালিকদের কাছ থেকে আদায় করছে মোটা অঙ্কের অর্থ। অনুসন্ধানে জানা গেছে পৌরসভার ৬ হাজারের বেশি বাড়ি থেকে এনওসি বাবদ ১০০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কাটাখালি পৌর মেয়র লোকজনের বিরুদ্ধে।

গত ২৮ জানুয়ারি নির্বাচনের পর একতলা ভবন থেকে ১০ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিটি ঊর্ধ্বমূখি তলার জন্য ৫ হাজার টাকা এবং টিনশেড বাড়ির জন্য ২ হাজার টাকা ফি ধার্য করেন মেয়র আব্বাস আলী। অবৈধ ওই সিদ্ধান্তের পর পৌর সচিব প্রত্যেক বাড়ির মালিককে নোটিশ জারি করেন। অপরদিকে আরডিএ থেকে এনওসি ও প্ল্যান অনুমোদনে যারা বাড়ি বানিয়েছে তাদের কাছ থেকেও পুনরায় এনওসি বাবদে টাকা আদায় করা হচ্ছে। কিন্ত যে সকল বাড়ির মালিক এনওসির টাকা দিতে অস্বীকার করছে তাদের বাড়ি বা ভবন ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কাটাখালী পৌরসভা কোন আইনে এনওসি ফি আদায় করছে জানতে চাইলে পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল আজিজ বলেন, পৌর পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে তিনি ফি আদায় করছেন। এই বিষয়টি নিয়ে কাটাখালী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রৌউফ বলেন, তাদের পৌরসভার আইনে এ ধরনের ফি নেওয়ার বিধান রয়েছে। এরই মধ্যে ৩২ জনের কাছ থেকে এনওসি’র ফি আদায় করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে বলে জানান তিনি।

কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী গণমাধ্যমকে জানান, “পৌর এলাকায় কেউ বাড়ি বা ভবন নির্মাণ করতে চাইলে নির্ধারিত ফি আদায়ের লক্ষে তাদের ভূমির ছাড়পত্র (এনওসি) দেওয়া হচ্ছে। পৌরসভা সকল বিষয় জরিপ করার পর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কাটাখালী পৌরসভার ইমারত নির্মাণে এনওসির অনুমোদন দেওয়ার বিধান নিয়ে মেয়র বলেন, এই বিষয় নিয়ে আরডিএর সঙ্গে দাপ্তরিক জটিলতা চলমান রয়েছে। তবে দ্রুতই আরডিএর সঙ্গে সভার মাধ্যমে জটিলতা নিরশনের চেষ্টা করা হবে।

কাটাখালী পৌরসভা আরডিএর অধিক্ষেত্রের ভেতরে থাকা একটি এলাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১৭ সালের ২২ জুন ও ২০০৯ সালের ৫০ (১) (গ) ধারা বলে যেসব পৌরসভা এলাকা সরকার গঠিত কোনো বিধিবদ্ধ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকাবহির্ভূত, সে সব পৌরসভা ইমারত বিধি অনুযায়ী এনওসি ও প্ল্যান দিতে পারবে। কাটাখালী পৌরসভা যেহেতু আরডিএ’র আওতাধীন। পৌরসভা কোন ভবন বা ইমারত নির্মাণে এনওসি অথবা নকশা দিতে পারবে না। ভবন নির্মাণে এনওসি ও প্লাান দেওয়ার কর্তৃপক্ষ হচ্ছে আরডিএ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন লাগোয়া ২৪ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার কাটাখালীকে ২০০২ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। ৩৬ হাজার ৭৮৫ জনসংখ্যার কাটাখালী পৌরসভায় ৬ হাজার ৪০৯টি পরিবার রয়েছে। এ হিসাবে পৌর এলাকায় ৬ হাজারের কিছু বেশি বাড়ি রয়েছে। পৌর এলাকায় দুই হাজারের বেশি একতলা বাড়ি ১ হাজার ৮৬০টি দুই তলা এবং দেড় হাজার তিন, চার, ৫-৬ তলা ভবন এবং বাকি গুলো বাড়ি টিনশেড। সেই হিসাবে এনওসি ফি থেকেই কাটাখালী পৌরসভায় বাড়ি মালিকদের কাছ থেকে অনুমান ১০০ কোটি টাকা আদায় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী ও জোন-৩ এর অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়