বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের যাত্রীদের ওমান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আগের সংবাদ

করোনায় শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি

পরের সংবাদ

তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ ও করণীয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২১ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২১ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় ঢেউ সব কিছু পুনরায় অনিশ্চিত করে তুলেছে। নতুন করে ক্রয়াদেশ বাতিলের শঙ্কায় রয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। এর মধ্যে গত বছরের মার্চ থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ও বাস্তবতা। ফলে স্বভাবতই দেশীয় পোশাক শিল্প মালিকদের মধ্যে নেমে এসেছে শঙ্কা ও হতাশা। গতকাল ভোরের কাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি মাসেই কমছে পোশাক রপ্তানি। মাসে এখন গড়ে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। এ হারে এগোলে অর্থবছরের বাকি চার মাসে আরো ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার যুক্ত হতে পারে। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরেও পোশাক খাতের মোট রপ্তানি দাঁড়াতে পারে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে এখনো বড় ধরনের অর্ডার স্থগিত হয়নি। তবে অর্ডার ও পোশাকের দাম দুটোই কমেছে। গত অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে গড়ে দাম কমেছে শতকরা ৫ ভাগ। এমন অবস্থা শঙ্কা বাড়ায়। দেশের অর্থনীতি খাতকে চাঙ্গা রাখতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। মহামারির মধ্যেও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা সচল রাখার স্বার্থে শিল্প-কলকারখানা, ব্যাংক-বিমা ইত্যাদি চালু রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প-কারখানার ওপর। সে ক্ষেত্রে শ্রমজীবীদের স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ যাতায়াত ও নিরাপত্তা বিধানের ওপর নিশ্চয়তা প্রদান করতে বলা হয়েছে মালিকপক্ষকে। মালিকদের নির্দেশনাগুলো পালনে ভূমিকা রাখতে হবে। ইতোপূর্বে ৬৬ দিনের লকডাউনেও কারখানাগুলো ছিল বন্ধ। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফিরে আসতে থাকে ক্রয়াদেশ। ঘুরে দাঁড়াতে থাকে পোশাক খাত। গত কয়েক মাসে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর মিলেছে পোশাক খাতে। এখন আবার হতাশার খবর দেখছি। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত। অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকের পথপরিক্রমায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাক শিল্পের কোনো বিকল্প নেই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশ থেকে যে রেমিট্যান্স আসছে তার অন্যতম খাত হলো গার্মেন্টস শিল্প। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক অর্থ আয় করছে। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। দেশের মোট রপ্তানির ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। খাতটির মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য বলছে, ২০২০ সালের এপ্রিল শেষে ১ হাজার ১৫০ কারখানার মোট ৩১৮ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়। এখন কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে আবারো ক্রয়াদেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্রয়াদেশ হ্রাস করতে থাকলে অনেক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে শ্রমিকের মজুরি নিয়মিত পরিশোধের বিষয়টি ক্রেতাদের নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি তৈরি পোশাকশিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারকে করণীয় নির্ধারণ করে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে মালিকপক্ষকেও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়