দুঃসময়ে জুভেন্টাসের নতুন কীর্তি

আগের সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ৬ষ্ঠ দফার ভোট শুরু

পরের সংবাদ

ঘাটতির চাপে এনবিআর

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২১ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২১ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

দেশে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার। সংক্রমণরোধে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। ইতোমধ্যে এই লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে সারাদেশের দোকানপাট থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআ) ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গত জুলাই থেকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় রাজস্বে কিছুটা গতি এসেছিল। ফের তা শ্লথ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে এনবিআর প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব বোর্ড আদায় করেছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৯৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। যদিও গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ কোটি ৭ লাখ টাকা।
এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম রাজস্ব আদায়ে সংকটে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের। সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনা মহামারি সৃষ্ট কঠোর বিধিনিষেধ। এ অবস্থান থেকে যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হয়, তাহলে বাকি তিন মাসে রাজস্ব আদায় করতে হবে আরো ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। যা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। করোনা প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট প্রতিক‚ল পরিবেশে রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে রাজস্ব বোর্ড।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, লকডাউন যে কোনো দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়। লকডাউন মাসের পর মাস চলতে দেয়া উচিত নয়। নি¤œআয়ের মানুষ চলতে পারবে না, অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে এনবিআরের রাজস্ব আদায় কমে আসবে এটাই স্বাভাবিক। অর্থনীতির চাকা না ঘুরলে রাজস্ব আসবে কিভাবে? পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এনবিআরকেও করনেট বাড়ানোর ওপর জোড় দেয়া উচিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ^ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা সংক্রমণের প্রথম ধাপে অর্থনৈতিক কর্মকাÐ কিছুটা সচল থাকায় রাজস্ব আদায়ের গতিও সচল ছিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে পরিস্থিতি কোথায় যায়, বলা মুশকিল। লকডাউনে ভোক্তা ব্যয় কমবে। এতে কমে আসবে ভ্যাট আদায়। এছাড়া যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে সহসা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা এই অর্থনীতিবিদের।

সূত্র আরো জানায়, অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আদায়ের সাময়িক হিসাবে ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এনবিআর। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির তিনটি উইং মিলে সর্বমোট ১ লাখ৭৬ হাজার ৮০৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আদায় হয়েছে ভ্যাট থেকে। এ খাতে আদায় হয়েছে ৬৭ হাজার ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর আমদানি ও রপ্তানি অর্থাৎ শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। কাস্টমসে অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আদায় হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে মার্চ পর্যন্ত আয়কর খাতে ৫৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময় এই খাতে আদায় হয়েছিল ৫২ হাজার ৮৪৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ১২ দশমিক ৫৯, ৮ দশমিক ৯৬ এবং ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

সম্প্রতি প্রাক বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম করোনাকালীন সময়ে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের প্রবৃদ্ধিকে বিভিন্ন আলোচনায় আশাব্যঞ্জক বলে দাবি করে এসেছেন। এ বিষয়ে এনবিআরের তিন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চ মাসে যতটুকু আদায় হয়েছে, সামনে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি আরো কমে যাবে। রোজার ঈদ উপলক্ষ অর্থনীতিতে বড় ধরনের লেনদেন হয়। এতে বাড়ে রাজস্ব আদায় অর্থাৎ ভ্যাট আদায় বেড়ে যায়। লকডাউনে সব কিছু আরো পিছিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ মুহূর্তে এনবিআরের বাড়তি কোনো উদ্যোগও নিতে পারছে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনের আগে এনবিআর ২৯ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে। যা চ‚ড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের ফেব্রæয়ারি মাসে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে যথাক্রমে রাজস্ব আদায় হয় ৫ হাজার ৯২৯ কোটি ৪ লাখ টাকা, ৮ হাজার ৫৬৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং ৬ হাজার ৪৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ফেব্রæয়ারি মাসে মোট ২০ হাজার ৯৩৮ কোটি ২১ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। যা এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী করেছিল। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়