মামুনুল কাণ্ড: সোনারগাঁ থানার সেই ওসি অবসরে

আগের সংবাদ

জয়তু শেখ হাসিনা

পরের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা

বিতরণ যেন ঠিকমতো হয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২১ , ১২:০২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২১ , ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত নিম্ন আয়ের প্রায় ৩৫ লাখ পরিবার এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লাখ কৃষকসহ ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৯৩০ কোটি টাকা। এ দুঃসময়ে এমন সহায়তা খুবই প্রয়োজন। লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এমতাবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দেশের শ্রমজীবী মানুষ। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সরকার নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষকে বাঁচাতে আন্তরিক ও মনোযোগী। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে সহায়তা যেন সঠিকভাবে বণ্টন করা হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গত রবিবার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী করোনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ লাখ পরিবারকে মাথাপিছু আড়াই হাজার ও ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেবেন। এছাড়া গত বছর করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩৫ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ মে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের জিটুপি পদ্ধতিতে নগদ অর্থ সহায়তাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১৪ এপ্রিল থেকে কোভিড ১৯-এর বিস্তার রোধে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক, গৃহকর্মী, মোটর শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশায় নিয়োজিতদের ফের আর্থিক সহায়তাদানের বিষয়টি বিবেচনা আনা হয়েছে। সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে থাকা এসব মানুষকে এই ক্রান্তিকালীন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে এ টাকা বিতরণে গত বছর বিভিন্ন জায়গায় নয়ছয়ের খবর পাওয়া গেছে। একই মোবাইল নম্বর ২০০ জন উপকারভোগীর নামের বিপরীতে ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনাও দেখছি। এমন খবর আমরা দেখতে চাই না। দেশে প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এ বিষয়টাকে স্বল্পকালীন চিন্তা না করে মধ্যকালীন সংকট মনে করে উদ্যোগ নিতে হবে। এখানে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্তরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ কমাতে হলে লকডাউনটাকে আরো কার্যকর করতে হবে। আমরা মনে করি, দেশের সংকটকালে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মহামারি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়ানো জরুরি। নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছ জবাবদিহিতা না থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারেও সরকারের করণীয় রয়েছে। তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি দূর করতে ভোটার আইডি কার্ড ও মুঠোফোন নম্বর কাজে সহায়ক হতে পারে। প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কাজটি করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়