গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকাছাড়া মহেশখালীর হেফাজত নেতাকর্মীরা

আগের সংবাদ

করোনায় মারা গেলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আশরাফ

পরের সংবাদ

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যা

দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় নয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২১ , ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২১ , ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। রমজানে কাজের সময়সূচি সংক্ষিপ্ত করা ও বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবিতে শ্রমিকরা গত শনিবার বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে ৫ শ্রমিক নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ অর্ধশত শ্রমিক। শ্রমিকরা তাদের দাবি-দাওয়া চাইবেÑ এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে গুলি চালিয়ে হত্যা করার মতো পরিবেশ সেখানে হয়নি। সমাজে অপরাধ প্রবণতা রোধ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্যই পুলিশি ব্যবস্থার প্রবর্তন। পুলিশ হবে জনগণের রক্ষক, জনগণের বন্ধু। কিন্তু জনগণের রক্ষক যখন আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে বাঁশখালীতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চীনের তত্ত্বাবধানেই চলছে প্রকল্পের কাজ। এখানে যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তাদেরও সরাসরি তদারকি করে চীনা কর্তৃপক্ষ। এখানে বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ কাজ করছিল দীর্ঘদিন ধরে। শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একত্র হন শ্রমিকরা। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে সে দিন বাগবিতণ্ডা হয় শ্রমিকদের। একপর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এরপর শ্রমিকরা সরে যান। শনিবার একই দাবিতে শ্রমিকরা আবারো জড়ো হলে উত্তেজিত পুলিশ গুলি চালায়। এর আগে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর আবারো সংঘর্ষের ঘটনায় আরো একজন নিহত হন। গত শনিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ বলছে, উত্তেজিত শ্রমিকরা চীনা প্রকৌশলীদের ওপর হামলা চালাতে গেলে তারা গুলি করতে বাধ্য হয়। কিন্তু আহত শ্রমিকরা বলছেন, বিনা উসকানিতে তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি করেছে পুলিশ। এমতাবস্থায় পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাঁশখালীর ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতিই মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি করে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা মনে করি, এ ঘটনায় অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতে হবে। ঘটনার সঙ্গে বাইরের কোনো ইন্ধন আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে তারা। আমরা আশা করব, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যারা আহত হয়েছেন তাদেরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়