বিষধর সাপ ও তার বিষদাঁত

আগের সংবাদ

হেফাজত কাউকে ক্ষমতায় বসাবে না, নামাবেও না: বাবু নগরী

পরের সংবাদ

ইউরোপীয় ফুটবলে কালো মেঘের ঘনঘটা

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২১ , ১০:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২১ , ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

আর্থিক লাভ ও ফুটবলের উন্নয়নের দোহাই দিয়ে নতুন আরেকটি লিগ শুরু করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব। সেই চেষ্টা এবার বাস্তবে রূপ দেওয়ার খুব কাছে চলে এসেছে ইউরোপের সেরা ১২ ক্লাব। তারা ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নামে একটি প্রতিযোগিতা শুরু করার জন্য এক হয়েছে। এ ক্লাবের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও জানা গেছে। নতুন লিগের সভাপতি বানানো হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। সুপার লিগের প্রতিষ্ঠাতাও ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ফুটবলকে যে কোনো পর্যায়ে গিয়ে হলেও সাহায্য করব এবং খেলাটাকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যাব। ফুটবল একমাত্র বৈশ্বয়িক খেলা, যেখানে ভক্তসংখ্যা ৪০০ কোটির বেশি। বড় ক্লাব হিসেবে তাদের চাহিদার প্রতি সাড়া দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’

পেরেজের সহসভাপতিদের একজন জুভেন্টাস সভাপতি আন্দ্রেয়া আগনেল্লি বলেছেন, ‘আমাদের ১২টি প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবের বিশ্বজুড়ে কয়েক শত কোটি সমর্থক আছে, ট্রফিসংখ্যা ৯৯টি। এই ক্রান্তিকালে আমরা ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা সংস্কার করেছি, অদূর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে খেলাটিকে একটি টেকসই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। এতে ভক্ত থেকে অপেশাদার খেলোয়াড়রাও নিয়মিত বড় ম্যাচ দেখার মাধ্যমে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার খোরাক মেটাতে পারবেন। এক হওয়া ক্লাবগুলো হলো রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ, এসি মিলান, আর্সেনাল, চেলসি, ইন্টার মিলান, জুভেন্তাস, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহ্যাম।

এই ১২টি ক্লাবের সঙ্গে আরো তিনটি ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দিবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে ২০টি দল খেলবে লিগটিতে। ফলে বাকি আরো ৫টি দল নির্ধারিত হবে। ইংল্যান্ড থেকে সর্বোচ্চ ছয়টি ক্লাব এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কোয়ালিফাইয়ারের মাধ্যমে ১০টি করে দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলবে। প্রতি গ্রুপ থেকে সেরা তিনটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। বাকি দুটি দল প্লে অফের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। খেলাগুলো শুরু হবে আগস্ট থেকে। তবে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোতে ক্লাবগুলো নির্বিঘ্নে খেলতে পারবে।

ইউরোপের ফুটবলে কালো মেঘের ঘনঘটা। সেটা আগেই টের পেয়েছিলেন অনেকে। সবাই তো আর আর্সেন ওয়েঙ্গার নন যে ১২ বছর আগেই বলে বসবেন ‘সুপার লিগ আসছে’, কিন্তু এমন এক পরিকল্পনা যে হচ্ছে, সেটা বোঝা যাচ্ছিল গত কয়েক বছর ধরে। করোনা সংক্রমণের ধাক্কা হয়তো সেটার দেখা মিলিয়ে দিল একটু আগে ভাগেই। রবিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ইউরোপের ১২টি বড় ক্লাব জানিয়ে দিয়েছে, আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নয়, আর্থিক দিকটা সুসংহত করতে তারা এবার ইউরোপিয়ান সুপার লিগ খেলবে।

তবে কোনো বিদ্রোহ নয়, এই ১২টি ক্লাব সুপার লিগে খেলার ঘোষণা দিলেও তারা জানিয়েছে উয়েফা আর ফিফার সঙ্গে আলোচনা করেই তারা এই নতুন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। তবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা আর ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ক্লাবগুলো যদি ইউরোপীয় সুপার লিগ আয়োজন করে বা তাতে অংশ নেয়, তাহলে তারা উয়েফার সব ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অধিকার হারাবে। কেবল তা-ই নয়, এই লিগে অংশ নেওয়া কোনো ফুটবলারকে নিজ নিজ দেশের জাতীয় দল থেকেও নিষিদ্ধ করা হবে।

উয়েফা অবশ্য ফিফার মতো কোনো রাখঢাক না করেই ইউরোপীয় সুপার লিগের উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এই উদ্যোগ কিছু ক্লাব ও ব্যক্তির স্বার্থেই উদ্ভুত। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা এই সুপার লিগের উদ্যোগকে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে, ‘উয়েফা তার সব সদস্য নিয়ে এ ব্যাপারে একমত। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই অশুভ উদ্যোগ প্রতিহত করব। এটা এমন একটা উদ্যোগ, যেটি কেবল গুটি কয়েক ক্লাব ও ব্যক্তির স্বার্থে পরিচালিত। এমন একটা সময় ইউরোপীয় ফুটবলের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যখন আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বেশি করে প্রয়োজন।’

সুপার লিগ নিয়ে ১২টি ক্লাবের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিষ্ঠাতা ১২টি ক্লাব ৩.৫ বিলিয়ন ইউরো করে পাবে, করোনার আঘাত কাটিয়ে নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য।’ আরো বলা হয়, ‘বার্ষিক এই টুর্নামেন্ট ইউরোপিয়ান ফুটবলের শক্তি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী দল এখন যে প্রাইজমানি পেয়ে থাকে, তার চেয়েও সুপার লিগের দলগুলো অনেক বেশি টাকা পাবে। এর আগে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লা পারিসিয়েন’জানিয়েছিল, সুপার লিগের ‘শীর্ষ ছয় দল মৌসুমে ৩৫ কোটি ইউরো করে পাবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী দল আট কোটি ইউরোর কাছাকাছি আয়ের আশা করতে পারে।’

সুপার লিগের ক্লাবগুলো যেহেতু ঘরোয়া লিগেও অংশ নিতে চায়, তাই মৌসুমের সূচি জট পাকিয়ে যেতে পারে। ঠাসা সূচি হয়ে যাবে। আর এমন এক টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকা মানেই তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বিদায়। ঘরোয়া লিগ ও এই লিগে খেলার পর সূচিতে আর কিছু রাখা কঠিন বৈকি। তবে সুপার লিগে অংশ নেওয়া ক্লাবগুলো জানিয়ে দিয়েছে ক্লাবের নিয়মিত ম্যাচগুলোর বিরতিতে সপ্তাহান্তে এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল হবে এক ম্যাচেরই। মে মাসের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে।

ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়