ইলিয়াস আলী নিয়ে বক্তব্য দিয়ে বিপাকে মির্জা আব্বাস, বিকেলে সংবাদ সম্মেলন

আগের সংবাদ

দুই বছরের শিরোপা খরা কাটালেন মেসিরা

পরের সংবাদ

হেফাজত নেতা মামুনুল হক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২১ , ১:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২১ , ২:০৯ অপরাহ্ণ

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে দুপরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আজ দুপুর একটার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে একটি দল মামুনুলকে গ্রেপ্তার করে। তাকে তেজগাঁওয়ের উপপুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

দুপুর দুইটার দিকে পরে তেজগাঁওয়ের ডিসি হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ২০২০ সালের ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনায়ও সে জড়িত। বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আমরা আইনগতভাবে যা যা দরকার তা করবো। আমরা তাকে নজরদারিতে রেখেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, সব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়ায় আমরা তাকে এখন গ্রেপ্তার করেছি। এখন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মামুনুল হককে প্রধান করে ৮৩ জনের নাম উল্লেখ এবং ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ৬ এপ্রিল রাতে সোনারগাঁ থানায় পুলিশ বাদি হয়ে দুটি ও একজন সাংবাদিক বাদি হয়ে একটি মামলা করেন।

রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: ভোরের কাগজ

সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মো. তবিদুর রহমান জানান, পুলিশের উপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি, রয়েল রিসোর্ট, আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার কর্মীর বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ৪১ জনের নাম উল্লেখ এবং ২৫০-৩০০জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এসআই আরিফ হাওলাদার বাদি হয়ে একটি মামলা করেন এবং এস টেলিভিশনের হাবিবুর রহমানের উপর হামলার ঘটনায় তিনি নিজেই বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দিনে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় সংঘাত-নাশকতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও দুই থেকে ৩ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন খন্দকার আরিফুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ী। রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করা এ মামলার এজাহারে এক নম্বর ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে মামুনুল হককে। মামলায় মারধর, ভাঙচুর, গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের আগে মোহাম্মদপুরের রাহমানিয়া মাদরাসা ঘিরে পুলিশের সতর্ক অবস্থান। ছবি: ভোরের কাগজ

বেশ কিছুদিন ধরেই নান কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় রয়েছেন হেফাজত ইসলামের এই নেতা। এর আগে সুনামগঞ্জের শাল্লায় একটি ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে সমালোচনা বক্তব্য রাখেন তিনি। ওই সময়ে তার সমালোচনা করে এক যুবক ফেসবুকে পোস্ট দিলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর ওই এলাকায় তার সমর্থকরা সংখ্যালঘু গ্রাম ঘেরাও করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের সময়েও তার বিরোধীতা করে মাঠে সক্রিয় ছিলেন মামুনুল হক। তার নেতৃত্বে আন্দোলনে বায়তুল মোকাররমে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় হেফাজত।

একই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালিয়ে পুড়িয়ে দেয় সরকারি স্থাপনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল, থানা, রেলস্টেশন, বাসা-বাড়ি ও দোকানপাট।

সর্বশেষে নারায়াণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ আটক হন তিনি। সেখানেও তার সমর্থকরা জড়ো হয়ে পুলিশেও ওপর হামলা ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর পর মামলা হয় তার নামে।

 

আরবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়