কলকাতাকে জেতাতে পারেননি রাসেল-সাকিবরা

আগের সংবাদ

লামায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু

পরের সংবাদ

লকডাউনে খুলনায় নানা অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছেন সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২১ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২১ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

সারাদেশের ন্যায় খুলনায় পালিত হচ্ছে লকডাউন। তবে রবিবার (১৮ এপ্রিল) ৫ম দিনের এই লকডাউন ছিলো অনেকটাই ঢিলেঢালা। জেলা প্রশাসনেরর কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কঠোর অবস্থানে থাকলেও নানা অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে খুলনার ৬টি প্রবেশ পথসহ ৪৭টি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে । অন্যদিকে লকডাউনে সরকারি নির্দেশ না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪৫টি মামলা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর গুরত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ও বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা। খুলনার ৪টি প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বেশি থাকায় শহরে মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। কিন্তু নগরীর ছোট সড়ক, গলি ও বাজারগুলোতে ছিল মানুষের অবাধ চলাচল। যা দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, লকডাউন চলছে।
বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ক্রেতা বিক্রেতা কেউই স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না। নগরের দৌলতপুর বাজারেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে ফুটপাতের অধিকাংশ দোকান খোলা ছিল। নগরীতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম থাকলেও পুরো শহর জুড়ে ছিলো রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দখলে। অটো, ইজিবাইক এর ভাড়া ছিল আকাশছোঁয়া। প্রায় ৫গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। কাঁচা বাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খোলা রাখার অনুমতি থাকলেও তা মানছে না কেউই। বিক্রেতারা লকডাউনের সুযোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে দ্বিগুণ।

খুলনার বড় বাজার, নিউ মার্কেট কাঁচা বাজার, খালিশপুর নিউ মার্কেট বাজার, চিত্রালী সুপার মার্কেট, দৌলতপুর কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোয়া। ৫ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে প্রতিটি জিনিসের দাম। যে কারণে ক্রেতাদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে দোকানিদের।

খালিশপুর চিত্রালী কাচা বাজারের দোকানদার ইসমাঈল জানান, লকডাউন থাকায় আড়তে মাল খুবই কম। যেগুলো পাচ্ছি সেগুলো আবার বেশি দাম দিয়ে আমাদের আনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে মালের দাম একটু বেশি।

দিনমজুর আবুল হোসেন জানান, বাজারে এসেছিলাম নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। এসে দেখি সব কিছুর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে । তিনি বলেন, চাল, ডাল, তৈল, চিনিসহ শবজি বাজারও চড়া । এই সব জিনিস আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে । এই পরিস্থিতিতে আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষদের অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হবে এদিকে সরকারি নির্দেশনায় লকডাউন পালনে খুলনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছেন জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জেলা প্রশাসনের উদ্দোগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রয়েছে ৬টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিক। লকডাউনে সরকারি নির্দেশ না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪৫টি মামলা ও ১৪ হাজার টাকা জমিমানা করা হয়। এছাড়া খুলনা জেলা ও মহানগর পুলিশের উদ্দোগে ৬ প্রবেশ পথে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশিষ বাসক বলেন, কোভিড ১৯ এর আকস্মিক সংক্রমণ রোধকল্পে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ অভিযান অব্যহত রেখেছেন। এসময় সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে প্রচারণা চালানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালন না করায় মহানগরে মোট ২০টি মামলায় আট হাজার টাকা এবং ৯ উপজেলায় মোট ২৫টি মামলায় ৬ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করেন পুলিশের সদস্যরা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

খুলনা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান জানান, লকডাউন সফল করতে জেলার ২১টি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ ছাড়া ৯টি থানায় ২০টি মোবাইল টিম কাজ করছে । চেকপোষ্ট গুলোর মধ্যে রূপসার ফেরিঘাট, সেনেরবাজার, কুদির বটতলা, রূপসা ব্রিজ, রূপসা বাসস্ট্যান্ড বাজার, তেরখাদাবাজার, দিঘলিয়ার সেনহাটিবাজার, পথেরবাজার, ডুমুরিয়াবাজার, চুকনগর, শাহাপুরবাজার, চুকনগরবাজার, ফুলতলাবাজার, যুগ্মিপাশা, বটিয়াঘাটা বাজার, দারোগাভিটা, দাকোপের চালনাবাজার, পাইকগাছাবাজার, কপিলমুনি বাজার, কয়রাবাজার ও আমাদিবাজারে পুলিশ তদারকি করছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জাহাংগীর হোসেন জানান, মহানগরীর প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন স্থানে সর্বমোট ২৬টি চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চলমান বিধিনিষেধে কেএমপির ৮ থানা এলাকায় পুলিশ টহলরত রয়েছে। ডিবি পুলিশের ২টি ও ১০টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে ।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়