খালেদা জিয়ার ১০৪ ডিগ্রি জ্বর

আগের সংবাদ

হালাল বিবি- কঠোর লকডাউন

পরের সংবাদ

কিংবদন্তি কবরীর প্রস্থান

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২১ , ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২১ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

এবার চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা সারাহ বেগম কবরী। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় গত শুক্রবার রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার প্রস্থান অগণিত মানুষকে অশ্রুসিক্ত করেছে। আমরাও শোক প্রকাশ করছি। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। জানা গেছে, চলতি মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধশতাধিক শিল্পী। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন। আর বর্তমানে আশঙ্কাজনক আছেন আরো ২ জন। মারা গেছেন নির্মাতা সাজেদুল আউয়াল, সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ, সংগীত শিল্পী মিতা হক, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, নির্মাতা মাসুদ কায়না ও সবশেষে সারাহ বেগম কবরী। গুণী শিল্পীদের মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে প্রিয় অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষাদের সুর বেজে ওঠে। ১৯৫০ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে জন্ম হয় কবরীর। তার আসল নাম ছিল মিনা পাল। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি। কাজ করেন টেলিভিশনে। এরপর দ্রুত সময়ে যুক্ত হন চলচ্চিত্রে। বাংলা চলচ্চিত্রে কবরী এক বিস্ময় আর সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। অভিনয়ের মাধ্যমে রুপালি সুতায় কেড়েছেন দর্শকের মুগ্ধ দৃষ্টি। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের সুতরাং ছবির মধ্য দিয়ে সিনেমায় অভিষেক, ওই সময়ই নতুন নাম হয় কবরী। এরপরের দুই দশকে ‘রংবাজ’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বৌ’য়ের মতো বহু ব্যবসা সফল এবং আলোচিত সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ষাট আর সত্তরের দশকে রাজ্জাক-কবরী জুটি ছিল দারুণ জনপ্রিয়। সিনেমার পর্দায় বাংলাদেশি সাধারণ মেয়ে হিসেবে কবরীকে যেভাবে দেখা যেত, বাস্তবের গ্রামীণ নারী বা শহুরে মধ্যবিত্তের ঘরের মেয়ের চরিত্রটা ঠিক ওই রকম ছিল। অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজস্ব স্বকীয়তা ও সহজাত প্রবৃত্তি কবরীকে অন্যদের চেয়ে আলাদা অবস্থান দিয়েছে। সত্তরের দশকে কবরী বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সেই সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী পাঁচ পুত্র সন্তানের মা। তিনি রাজনীতিতে এসে সংসদ সদস্য হন, তখন থেকে তিনি সারাহ বেগম কবরী নামে পরিচিত। সিনেমায় অভিনয় ছাড়াও সিনেমা প্রযোজনা এবং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী। আমরা এই গুণীর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়