ফের চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি

আগের সংবাদ

বসুরহাটে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

পরের সংবাদ

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

এপ্রিল ও মে মাসজুড়েই চলবে করোনার তাণ্ডব

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২১ , ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২১ , ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বিধ্বংসী হয়ে উঠছে করোনা ভাইরাস। সংখ্যার দিক থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু ছাড়িয়ে যাচ্ছে আগের হিসাবকে। ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ব্রাজিলের করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন (ভ্যারিয়েন্ট/স্ট্রেইন) এখন বৈশ্বিক হুমকি। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ব্রিটেন (বি.১.১.৭), দক্ষিণ আফ্রিকা (বি.১.৩৫১) ধরন শনাক্ত হয়েছে; ব্রাজিল ধরন (পি.১) শনাক্ত হয়নি। বাংলাদেশে ৬ জানুয়ারি করোনা আক্রান্ত রোগীর নমুনায় ব্রিটেন ধরনের সন্ধান পাওয়া যায়। আর ৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক খবরে জানায়, দেশে শনাক্ত করোনা ভাইরাসের ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার।

দেশে বর্তমানে করোনার যে বিধ্বংসী আচরণ, তার পেছনে এই নতুন দুই ধরনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে জনগণের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে অনীহাও আছে। তবে দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু যে বাড়বে, সেই পূর্বাভাস আগেই দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস ব্যবস্থাপনা কোর কমিটি। গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বাভাস-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে কমিটি। দেশে চলমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সেই পূর্বাভাসে বলা হয়, প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার করে নতুন রোগী শনাক্ত এবং মৃতের সংখ্যা ১০০ কিংবা এর কাছাকাছি হবে। এটি চলতি এপ্রিলজুড়ে থাকবে। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ দিকে গিয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমে আসতে পারে।

জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই) যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে করোনার একটি নতুন ধরন শনাক্ত করে, যা ডিসেম্বরের মধ্যেই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই নতুন ধরনের কারণেই ভাইরাসটির সংক্রমণ ক্ষমতা বেড়ে যায় ৭০ শতাংশ এবং গুরুতরভাবে অসুস্থ করার ক্ষমতা বেড়ে যায় ৩০-৪০ শতাংশ। এছাড়া এ ধরন দিয়ে যারা গুরুতরভাবে করোনায় আক্রান্ত হন, তাদের মধ্যে মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায় আগের চেয়ে ৬১ শতাংশ। সম্প্রতি জার্মানি, ফ্রান্সসহ পুরো ইউরোপে মহামারির দ্বিতীয় ঢেউটির কারণ এই ব্রিটেন ধরন। এই ধরনটি বাংলাদেশ, ভারতসহ প্রায় ১০৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের আরেকটি বিপজ্জনক ধরন হলো দক্ষিণ আফ্রিকার। এখন পর্যন্ত এ ধরনটি ৬৮টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়ার সক্ষমতা আছে এ ধরনের। আর তৃতীয় ভয়ংকর ধরনটি হলো ব্রাজিল ধরন। এই ধরনটির পুনঃসংক্রমণ ও দ্রুত বিস্তার ঘটানোর প্রবণতা রয়েছে। ব্রাজিল ধরন এখন পর্যন্ত ৪০টির মতো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সদস্য ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম মনে করেন দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও মৃত্যুর হার সহজে কমবে না। এর কারণ হিসেবে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ উপাচার্য ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের দেশে ইউকে এবং আফ্রিকার ধরন শনাক্ত হয়েছে। আফ্রিকার ধরনটির মানুষের দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়ার সক্ষমতা আছে। এটি একটি বড় অসুবিধা।

মৃত্যুহার কেন কমবে না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনো নাজুক। যে সময়টা সংক্রমণের হার কম ছিল এবং অনেক দিন ধরে এই কমতির ধারা অব্যাহত ছিল, তখন আমরা অনেকটা সময় পেয়েছিলাম। তখন আমাদের প্রস্তুতি নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা তা করিনি। দেশের ৩৬ জেলায় এখনো আইসিইউ ব্যবস্থা নেই। সেখানে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছে না। ফলে তারা ঢাকামুখী হচ্ছে। ঢাকায় যতটা ব্যবস্থা আছে, বাইরের রোগীরা এসে সেখানে চাপ বাড়াচ্ছে। আর আমরা এখনই জানতে পারছি হাসপাতালগুলোয় কোনো জায়গা নেই। তাই আমার মনে হয় দেশে সংক্রমণের হারটা কমলেও মৃত্যুর হারটা সহজে কমবে না।

করোনা ভাইরাস ব্যবস্থাপনা কোর কমিটির পূর্বাভাসকে সমর্থন করে মেডিকেল অ্যানথ্রোপলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. চিন্ময় দাস জানান, বিজ্ঞানসম্মত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পূর্বানুমান করার সুযোগ রোগতত্ত¡বিদ্যায় আছে। এর মধ্য দিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আফ্রিকার ধরনের কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে। ধরন বদলে ভাইরাসটি বিধ্বংসী হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হাসপাতালগুলোকে সে অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়নি। তাই মৃত্যু বেশি হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানলে, টিকা নিলে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো সক্ষম করে তুলতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ জনস্বাস্থ্যবিদ।

অণুজীববিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল বলেন, দেশে এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। আছে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্টও। তবে দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক সংক্রমণ শুরুর অন্যতম কারণ মানুষের সচেতনতার অভাব। তিনি মনে করেন, বিশ্বজুড়ে সবাই যদি ১২০ দিন এক নাগাড়ে মাস্ক ব্যবহার করে, তবে করোনা ভাইরাসের এ মহাসংকট থেকে পরিত্রাণ মিলবে। নিতে হবে করোনার টিকাও।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়