আল্লামা শফী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক: তথ্যমন্ত্রী

আগের সংবাদ

লকডাউন বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে: আইজিপি

পরের সংবাদ

তিনি ছিলেন মানবতাবাদী ও সংস্কার মুক্ত মানুষ

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২১ , ৭:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২১ , ৭:০৯ অপরাহ্ণ

বাংলা একাডেমির অভিধান প্রকল্প, বিজ্ঞান বিশ্বকোষ এসব প্রকল্পে আমি উপপরিচালক হিসেবে যে উপবিভাগে ছিলাম সেখানে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। আর জামান সাহেব পুরো তিন-চারটা বিভাগ নিয়ে পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তার সঙ্গে কাজ করে আমি সব ধরণের সমর্থন পেয়েই লেখক অভিধান, চারিতাভিধান, বিজ্ঞান বিশ্বকোষ, অভিধান, ইংরেজী বাংলা ডিকশনারিসহ এসব কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। সবকিছু করতে পেরেছি। তিনি ছিলেন উদার, মানবতাবাদী এবং সংস্কার মুক্ত মানুষ।

মনে পড়ে ১৯৮০-৮১ সালের দিকে। তখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন মনজুরে মাওলা। তিনি একদিন জামান সাহেবকে ডেকে বললেন, এ বছরের একুশে ফেব্রুয়ারিতে সিনিয়র লেখক যারা তাদের নিয়ে একটা একুশের উপন্যাসের সংকলন করেন। শওকত ওসমান, সৈয়দ শামসুল হক, শওকত আলী আপনারা এদের কাছ থেকে একটা করে লেখা আনেন।

তখন মাত্র জানুয়ারি মাস, ফেব্রুয়ারিতে উপন্যাস সংকলনটা করতে হবে। কথা মতো তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করি। শওকত আলী বললেন, এতো অল্প সময়ে আমি লিখতে পারব না।

সৈয়দ শামসুল হককে বলা হলো। তিনি বললেন, আমি তো এখন লন্ডন চলে যাচ্ছি। এখন লেখা হবে না। তখন মনজুরে মওলা জামান সাহেবকে বললেন, জহির রায়হান, শওকত ওসমানের আগের যে দুয়েকটা উপন্যাস আছে সেগুলো নিন আর সেলিনা হোসেনকে দিয়ে একটা লেখান। আমি বললাম, স্যার আমি তো এটা চিন্তা করিনি। তখন আমার বয়সও কম, ভাষা আন্দোলন নিয়ে আমি কি উপন্যাস লিখব! তখন জামান সাহেব মনজুরে মওলা স্যারের রুমে বসেই আমাকে একটা আইডিয়া দিলেন। বললেন, আপনি সোমেন চন্দ এবং মুনীর চৌধুরী মিলিয়ে একটা উপন্যাস লিখুন। অর্থাৎ মুনীর চৌধুরী যে জেলে বসে কবর নাটক লিখেছেন, ভাষা আন্দোলনের সময় বন্দী হয়েছেন এসব মিলিয়ে একটা উপন্যাস। তখন আমি সেই উপন্যাসটা লিখলাম। নাম দিয়েছিলাম নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি। প্রকাশের পর এই উপন্যাসটা নিয়ে কলকাতায় বেশ আলোচিত হয়েছিল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রথম লেখা পাঠ্য হয়েছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি খুব সমাদৃতও হয়েছিল। এটা হচ্ছে জামান সাহেবের অনুপ্রেরণায় লেখা।

এ ছাড়া বাংলা একাডেমির কাজেও তিনি খুব সহযোগিতা করতেন এবং যাতে কাজগুলো সময়মত সম্পন্ন করা যায় সেজন্য বেশ সহায়তা করতেন। তিনি ছিলেন একজন ফোকলোরবিদ। ফোকলোর বিষয় নিয়ে তিনি অনেক বেশি গবেষণা করেছেন, চর্চা করেছেন এবং লিখেছেন। তার মতো করে ফোকলোর বিষয়ে কেউ লেখেননি।

তার মৃত্যুতে আমি ভীষণ মর্মাহত। তিনি চলে গেছেন এটা চিন্তাই করতে পারছি না। অথচ তিনি অসুস্থ শোনার পর থেকে আমি প্রতিদিন বাংলা একাডেমি এবং তার বাসায় খোঁজ নিতাম। অথচ আজ তিনি চলে গেলেন!

(শামসুজ্জামান খানের মৃত্যুতে ভোরের কাগজকে দেওয়া সেলিনা হোসেনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া)।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়