হেফাজত নেতা মুফতি শরিফ উল্লাহ্কে গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

শতজনের প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রায় বর্ষবরণ

পরের সংবাদ

শুভ নববর্ষ, করোনামুক্ত হোক ধরা

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২১ , ১১:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২১ , ১২:৪০ অপরাহ্ণ

আজ প্রভাতের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন দিনের স্বপ্ন, সম্ভাবনা। সব পুরাতনকে সরিয়ে বৈশাখের রুদ্ররূপের হাত ধরে আসবে ১৪২৮ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখ। বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। তবে এবার অগ্নিস্নানে সুচি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনামুক্ত ধরারও প্রার্থনা থাকবে প্রাণে প্রাণে।

পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ দিনটিতে প্রাণের সবটুকু আবেগ ঢেলে দিয়ে মেতে উঠি আমরা প্রাণের উৎসবে। হাজারো প্রাণের মেলবন্ধন হয় এই আয়োজনে। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ এক মোহনায় মেলে। গায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার গান। রুদ্ররূপ বৈশাখকে সুরে সুরে আবাহন করি-

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ

তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক-

যাক পুরাতন স্মৃতি যাক ভুলে যাওয়া গীতি

অশ্রু বাষ্প সুদূরে মিলাক

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা

অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।

তবে বিগত বছরের মতো এবারও সুরে সুরে পহেলা বৈশাখকে আবাহানের আবেগ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা। আবেগে ভেসে যাওয়ার এই দিনেই আজ সারাদেশে শুরু হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন। তাই আজ করোনামুক্তির প্রত্যাশা নিয়ে ঘরবন্দী আবেগেই নতুন বছরকে বরণ করে নেবে বাঙালি। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়েছে এবার বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সব আয়োজন। তবে পহেলা বৈশাখের আয়োজন এবার হবে ভার্চুয়ালি। প্রতীকীভাবে আয়োজন হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। তাছাড়া টেলিভিশনে থাকবে বেশ কিছু আয়োজন। মঙ্গল শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর’।

শিল্পকর্ম: সমর মজুমদার

ছায়ানটের আয়োজন

বিগত ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ভোরে অনাগত ভবিষ্যতকে স্বাগত জানিয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানট। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন আর গেল বছর বাদে সত্য সুন্দরের গান একবারও থামেনি। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে দ্বিতীয়বারের মতো থেমে গেল ছায়ানটের বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন। গেল বছরের মতো এবারও রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান হচ্ছে না। করোনা নিয়ন্ত্রণে বর্ষবরণ আয়োজন বাতিল করেছে ছায়ানট।

বিটিভিতে ৫০ মিনিট

রমনা বটমূলের অনুষ্ঠান বাতিল করা হলেও ছায়ানটের আয়োজন তুলে ধরা হবে বিটিভিতে। সকাল ৭টা থেকে বিটিভিতে ৫০ মিনিটের আয়োজনের মধ্য দিয়েই বৈশাখের পুরো অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি তুলে ধরবে ছায়ানট। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল জানান, আমাদের পরিকল্পনা ছিল রমনার বটমূলেই জনশূন্য অবস্থায় যদি অনুষ্ঠানটা করতে পারতাম, তাহলে আমাদের মন খুব ভালো থাকত। কিন্তু বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে করে মানুষের মনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার মতো সেই আনন্দটা নাই। মাহামারীকে যেন কাটিয়ে উঠতে পারি সেইধরণের কিছু গান দিয়ে সাজিয়েছি পহেলা বৈশাখের আয়োজনকে। ভক্তি রসের গান, সকালের সুরের গান। এসব গানের মধ্য দিয়ে যাতে আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাই।
খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, বাঙালির কাছে পহেলা বৈশাখ একটা বিশাল ব্যপার। এটাকে আমরা উদযাপন করতে চাই। কিন্তু মহামারীর কারণে দুঃখজনক পরিস্থিতি পড়ে গেছি আমরা। চতুর্দিকে এতো মৃত্যু হচ্ছে। এর মধ্যে আনন্দ তো প্রকাশ করা যাবে না। একটা প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করব। যাতে করে আমরা এই মহামারী থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।
করোনার কারণে মানুষ তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সংস্কৃতিকর্মীদেরও নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। সব মিলিয়ে রমনা বটমূলে এবার অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে বিটিভিতে ৫০ মিনিটের আয়োজন রেখেছি। এর মধ্য দিয়েই বৈশাখের পুরো অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে। ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলেও (youtube.com/ChhayanautDigitalPlatform) অনুষ্ঠানটি দেখা যাবে।

দেয়ালে দেয়ালে আলপনা

পয়লা বৈশাখের চিরন্তন রূপকে তুলে ধরতে বরাবরের মতো এবারও উদ্যোগ নিয়েছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। সপ্তাহখানেক আগে থেকেই তারা চারুকলার দেয়াল রাঙিয়ে তুলেছেন। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর’ অনুসরণে উজ্জ্বল রঙয়ের পরিবর্তে ধূসর রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। আর এসব আল্পনার মধ্য দিয়েই করোনাকালিন বর্ষবরণের আয়োজন করছেন শিক্ষার্থীরা।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

আজ সকাল ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ফেসবুক পাতায় অনলাইনে সরাসরি ‘নববর্ষ বরণ ১৪২৮’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি আসাদুজ্জামান নূর, আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন লেখক, সাংবাদিক আবুল মোমেন। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শিল্পী বুলবুল ইসলাম, অদ্বিতি মহসিন, শারমিন সাথী ইসলাম ময়না ও বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, নৃত্য পরিবেশন করবে স্পন্দন, আবৃত্তি পরিবেশন করবেন আবৃত্তিশিল্পী ইকবাল খোরশেদ জাফর ও অনন্যা লাবনী পুতুল, বাউল গান পরিবেশন করবেন বাউল দেলোয়ার ও সোনিয়া।

অনুষ্ঠানটি দেখা যাবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ফেসবুক পেজে (https://www.facebook.com/liberationwarmuseum.official)।
করোনাকালের মন্দা হওয়ায় বিবর্ণ এবার পহেলা বৈশাখের সব উৎসব আয়োজন। ইলিশের বাজারে আর ধুম নেই। বৈশাখী উৎসব শুরু হতে না হতেই আড়তগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ও নেই। খেলনা ও ফুলের দোকানেও নেই কোনো ক্রেতা। পহেলা বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গ হালখাতার পাতাও এবার খোলা হবে না। গ্রাম-বাঙলার জীবনেও মেলা আর নানা উৎসবেও পড়ছে ভাটা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়