সিডিএম হাসপাতালে আইসিইউ সম্বলিত এ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধন

আগের সংবাদ

সাকিব বন্দনায় শাহরুখ খান

পরের সংবাদ

স্বামীকে উৎসাহ দিতে জাপান থেকে বইমেলায়

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২১ , ৯:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২১ , ৯:১৯ অপরাহ্ণ

উমেওকা সাচীকো জাপানের নাগোইয়সা সিটিতে ওই দেশের সরকারের ডাকবিভাগে চাকুরী করেন। ৩০ বছর আগে বাংলাদেশের রাজু আহমেদের সঙ্গে পরিচয় পড়ালেখার সময়। বন্ধুত্বের সম্পর্ক গভীর প্রণয়ে গড়ালে দুজনেই হন জীবনসঙ্গী। সেই থেকে দুজনে আছেন জাপানে।

রাজু আহমেদ জাপানে কাজ করেন ডিজাইন নিয়ে। কিন্তু দেশ, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার ভালোবাসা ভুলতে পারেননি। তাই জাপানে বসেই অবসরে লিখেছেন মাতৃভূমি ও নিজ প্রেমিকা নিয়ে তিনটি বই। যার একটি (ভেসে যায় নূপুরের ধ্বনি) এবছর বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। রাজু আহমেদের এ কাজের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন স্ত্রী উমেওকা সাচীকো। নিজেও শিখেছেন বাংলা ভাষা। জেনেছেন ভাষা আন্দোলন ও অমর একুশে বই মেলা সম্পর্কে। বইমেলায় আসা হয়নি তার কখনো। কিন্তু রাজু আহমেদের সর্বশেষ বইটি বইমেলার সময় প্রকাশিত হয়েছে। তাই স্বামীকে উৎসাহ দিতে ও অমর একুশে বইমেলার টানে এবার এসেছেন বইমেলায়।

বইমেলার শেষ দিনে উমেওকা সাচীকো ভোরের কাগজের প্রতিবেদকে বলেন, বাংলা ভাষা অনেক সুন্দর ভাষা। জাপানি ভাষার চেয়ে সহজ ভাষা। আমি এবার প্রথম মেলায় এসেছি আমার হাসব্যান্ডের সঙ্গে। তার থেকে শুনেছি বাঙালিরাই একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষার জন্য শহীদ হন। তাদের স্মরণে ও ভাষা উপলক্ষ্যে অমর একুশে বইমেলার মতো বড় উৎসবে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। বইমেলায় সবাই ঘুরে ঘুরে বই কিনছে। দেখতে ভালো লাগছে।

তিনি আরও বলেন, আমার হাসব্যান্ড রাজু বাংলাকে খুব ভালোবাসে। আমিও বাংলাকে ভালোবাসি। বাংলাকে ভালোবেসে এবং আমাকে ভালোবেসে সে তিনটি বাংলা বই লিখেছে। আমি অল্প অল্প পড়তে পারি। সে আমাকে বাংলা শিখিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক আন্তরিক। সবাই অনেক আপ্যায়ণ করে। আমাকে সবাই এত বেশি খাবার পরিবেশন করে যে আমার ডায়েটে সমস্যা হয়।

রাজু আহমেদ জানান, প্রেম থেকেই বিয়ে। তারপর এত বছর আমাদের একসঙ্গে পথচলা। প্রতিবছর একবার আমরা বাংলাদেশে আসি। সাচীকোকে ঢাকার ঐতিহ্য ও আমার জন্মস্থান বিক্রমপুর ঘুরে ঘুরে দেখায়। এবার প্রথম মেলায় বই প্রকাশ হচ্ছে বলে আমাকে অনুপ্রেরণা দিতে এসেছে। তার একুশে বইমেলার প্রতি জানার আগ্রহ ছিল। আমি তাকে বাংলা শিখিয়েছি। সে বাংলাতে কথা বলতে ও লিখতে পারে। তবে এবার যদি ফেব্রুয়ারি মাসে মেলা হতো সাচীকো একুশে ফেব্রুয়ারি দিবসের উৎযাপন করতে পারত। তবে আমরা পহেলা বৈশাখ উৎযাপন করে যাব।

ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়