মহামারি ও ষড়যন্ত্র নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে

আগের সংবাদ

১২ ও ১৩ এপ্রিল কেমন থাকবে দেশ?

পরের সংবাদ

লকডাউন আসছে

সহনশীলতার পাশাপাশি কঠোর হতে হবে

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২১ , ১২:১২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২১ , ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। ঠাঁই নেই আইসিইউতে, মিলছে না সাধারণ শয্যা, অক্সিজেন সংকটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে রোগী, ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও মৃত্যু হার বাড়াচ্ছে উদ্বেগ, সেবা পাচ্ছে না অন্য জটিল রোগীরাও। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এখন ‘কঠোর লকডাউনের’ কথা ভাবছে সরকার। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ১৪ এপ্রিল থেকে এ পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি দুই সপ্তাহের লকডাউন দিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বলেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এক সপ্তাহের লকডাউনের সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানসম্মত নয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্তত টানা ১৪ দিন লকডাউন হতে হবে। কারণ করোনা ভাইরাসের সুপ্তিকাল ১৪ দিন। একজনের শরীরে এই ভাইরাস ১-১৪ দিনের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়। প্রধানমন্ত্রীও ইঙ্গিত দিয়েছেন, মানুষ বাঁচাতে সরকার আরো কঠোর উদ্যোগ নেবে। মানুষ সচেতন হলে সংক্রমণ অনেকটা হ্রাস পাবে। করোনা প্রতিরোধে একটি চমৎকার এবং সবার জন্য অবশ্য করণীয় পদ্ধতির নাম সামাজিক দূরত্ব (ঝড়পরধষ উরংঃধহপরহম)। প্রকৃতপক্ষে আমরা তা কতটুকু মেনে চলছি, তাই প্রশ্ন। গত বছর আমরা দেখেছি, নিতান্ত প্রয়োজনে তো বটেই, কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ বেরিয়ে আসছেন ঘর থেকে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ বলছেন, পেটের প্রয়োজনে বের না হয়ে উপায় নেই। অতিদরিদ্ররা দলবেঁধে সাহায্যের আশায় বসে পড়ছেন মোড়ে মোড়ে। নানা ছুতায় রাস্তায় ভিড় করছেন তরুণরা। এমনকি কেউ কেউ ঘুরতে বের হয়ে গেছেন সদলবলে। বিশেষ করে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত সর্বত্র দেখা গেছে শত শত মানুষ। রাজধানীর সড়কগুলোতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চলেছে। এমন চিত্র প্রায়ই গণমাধ্যমে উঠে আসছে। অবস্থা এমনই মানুষকে ঘরে রাখতে পারাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার এসব বিষয় মাথায় নিয়ে প্রশাসনকে আগাতে হবে। ইতোমধ্যে শ্রমজীবী ও প্রান্তিকজনের খাদ্য সহায়তাসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু নিশ্চিতকল্পে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। সরকারের গৃহীত সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের ঘরে রাখতে হলে কিছু সামাজিক কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের সহনশীলতার পাশাপাশি হতে হবে কঠোরও। আর্থিক অবস্থান অনুযায়ী জরিমানাও করা যেতে পারে। ইতোমধ্যে যেসব মানুষ গ্রামে ফিরেছেন, তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বহু উন্নত-শক্তিশালী দেশ বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় খুব সহজেই বোঝা যায়, এই ভাইরাসের সংক্রমণ কতটা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগে আমরা কেউ ঝুঁকির বাইরে নই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব। আমরাও চাই, এই দুর্যোগে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের স্বার্থে সবাই যথাসম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখব।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়