ওয়াশিংটন পোস্টের বিজ্ঞাপনে কার্টুনিস্ট কিশোরের অব্যাহতি দাবি

আগের সংবাদ

মর্যাদার লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে হারিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ

পরের সংবাদ

মামুনুলের আরেক প্রেমিকা, দুই নারীকে খুঁজছে পুলিশ

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২১ , ২:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২১ , ২:২৬ পূর্বাহ্ণ

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের আরেক ‘প্রেমিকা’র সন্ধান পাওয়া গেছে । এতদিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা এই ‘তৃতীয় প্রেমিকাকে’ মামুনুলের প্রথম স্ত্রী হিসেবে ধারণা করে আসছিলেন। কিন্তু গত কয়েকদিনে একাধিক ফোনালাপ ফাঁস এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে তৃতীয় ‘প্রেমিকার’ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এখন বিভিন্ন প্রশ্নের সুরাহা করতে জিগ্যেসাবাদের জন্য এই তৃতীয় ‘প্রেমিকা’ এবং কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরাকে খুজছে পুলিশ।

সর্বশেষ জান্নাত আরা ঝর্ণার তিনটি ডায়েরি ফাঁসের পর মামুনুল হক ও জান্নাত আরার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এ পরিস্থিতিতে মামুনুলের বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারীরা তাঁর কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণাকে খুঁজছেন। ঝর্ণার বড় ছেলে আব্দুর রহমানও তাঁর মাকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। এ অবস্থায় ঝর্ণা এবং তাঁর ছেলের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ঝর্ণার হদিস পায়নি পুলিশ। এদিকে খোঁজ নিতে গিয়ে আরেক নারীর সঙ্গেও মামুনুলের যোগাযোগের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ‘তৃতীয় প্রেমিকা’র বিষয়ে তদন্ত চলছে।

মামুনুল হক সম্পর্কে ছায়া অনুসন্ধান করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট তথ্য পায়, ‘তৃতীয় প্রেমিকা’ একজন বিবাহিত নারী। তার সঙ্গে জান্নাত আরা ঝর্নার মতোই অনৈতিক সম্পর্ক ছিল মামুনুল হকের।

জানা গেছে, মামুনুল হক তৃতীয় এই নারীর সঙ্গেও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ওই নারী শিক্ষকতা করতেন একটি মহিলা মাদ্রাসায়।

অনুসন্ধান বলছে, ‘তৃতীয় প্রেমিকা’ যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন মামুনুল হক তার প্রধান উপদেষ্টা। আর মাদ্রাসার পাশেই ভাড়া বাসায় থাকতেন ওই ‘তৃতীয় প্রেমিকা’। সেই সুবাদে মাঝে মধ্যেই সেখানে যেতেন করতেন মামুনুল হক।

হেফাজত নেতা মামুনুল হক ও ওই নারীর ফাঁস হওয়া একাধিক ফোনালাপ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে তাদের অনৈতিক সম্পর্ক ও ওই শিক্ষিকার বাসায় যাতায়াতের বিষয়টি।

নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ওই ঘটনার পর ‘তৃতীয় প্রেমিকা’ সম্পর্কে কিছুটা তথ্য পাওয়া যায় একটি ফোনালাপের পর। রয়েল রিসোর্টে থাকা অবস্থায় মুফতি এনায়েতুল্লাহকে ফোন করেছিলেন মামুনুল হক। ওই ফোনালাপে মুফতি এনায়েতুল্লাহকে কথিত স্ত্রী নিয়ে রিসোর্টে যাওয়ার কথা জানালে এনায়েতুল্লাহ মামুনুল হককে জিজ্ঞেস করেন ‘কোন ভাবি, কাপাসিয়ার?’ সে সময় তিনি উত্তরে বলেন, না, খুলনার। অবশ্য এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মুফতি এনায়েতুল্লাহ।

গত ২৬ মার্চ থেকে মোদিবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই ওই নারীর বাসায় গিয়ে একান্ত সময় কাটিয়েছেন মামুনুল হক। ৪৯ সেকেন্ডের অডিওতে ওই নারীকে মামুনুল হকের মতো হুবহু একটি কণ্ঠকে বলতে শোনা যায়, ‘হ্যালো আমি আসছি।’ উত্তরে ওই নারী কণ্ঠ বলেন, ‘চলে আসছেন। গেট খোলা আছে।’

পুরুষ কণ্ঠে বলা হয়, ‘গেট খুলে আমাকে রিসিভ করার ব্যবস্থা করো। এছাড়া কেউ আছে নাকি দেখো আগে।’ সেসময় ‘আচ্ছা’ বলে ফোনের লাইন কেটে দেন ওই নারী।

ওই বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর ফাঁস হয়েছে মামুনুল হক ও ওই নারীর আরেকটি ফোনালাপ। গণমাধ্যমের হাতে আসা অডিও ফোনালাপের কথোপকথন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

পুরুষ: চলে আসছি। বুঝছো…

নারী: ঠিক আছে। শুনছি।

… …
পুরুষ: গুড নাইট। ফ্রেস-ট্রেস হয়ে নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করো। বুঝছো।

নারী: কী হইছে?

পুরুষ: ফ্রেস হইয়া নামাজ-টামাজ পরবা না?

নারী: হু।

পুরুষ: নামাজ পড়ো আর আমার জন্য দোয়া করো।

নারী: বাসায় পৌঁছে একটা মেসেজ দিয়েন।

পুরুষ: বাসায় পৌঁছে মেসেজ দেওয়ার কী আছে? বাসায় তো পৌঁছায়া গেছি।

ফাঁস হওয়া আরেকটি ফোনালাপে মামুনুল হকের মতো কণ্ঠে ওই নারীর সঙ্গে বাইরে রাত কাটানোর বিষয়েও আলাপ হয়। এছাড়া ওই নারীকে সমুদ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও মনে করিয়ে দেন ওই নারী কণ্ঠ।

ওই ফোনালাপ তুলে ধরা হলো-

নারী: আমারে নিয়ে না আপনার কই যাওয়ার কথা।

পুরুষ: কোথায়, বলো।

নারী: হু

পুরুষ: কই যাওয়ার কথা।

নারী: সমুদ্রে যাওয়ার কথা।

পুরুষ: না। সেটা তো আলাদা, আলাদা প্রোগ্রাম করতে হবে। সেটা তো আরও কয়েকদিন পরে করব ইনশাআল্লাহ।

নারী: আচ্ছা। আপনি সময় পেলে করবেন। আমি আপারে টেস্ট করায়ে, হয়তো টেস্ট শেষ হতে রাত ৮/৯টা বাইজে যাইতে পারে।

পুরুষ: ওরে বাপরে বাপ।

নারী: আল্ট্রা করে যে উনি বসে ৬টায়। ও তো একলা আসতে পারবো না এটা কয়ে লাভ নাই। বাসা পর্যন্ত। আজকে মনে হয় না (দেখা) হইবো।

পুরুষ: আচ্ছা ঠিক আছে।

নারী: আর যদি মনে করেন খুব বেশি সমস্যা তাহলে আজকে না কালকে গেলাম। কালকে শনিবার। এখন আপনার ওপর নির্ভর। আপনি তো সময় বের করা সো টাফ।

পুরুষ: সারাদিন তো কাজ-কাম। কোনো কিছু সহজ না।

নারী: এহন আপনার ইচ্ছা। আমারে যা কইবেন তাই। আমার অতো শখ নাই।

পুরুষ: আচ্ছা তুমি তোমার মতো কাজ চালাইতে থাকো। টেস্ট-মেস্ট করাও তারপর দেখি।

ফাঁস হওয়া আরও একটি ফোনালাপ:

নারী: আসসালামু আলাইকুম।

পুরুষ: ওলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ। কী অবস্থা। ঝামেলা নাকি।

নারী: না। বলেন।

পুরুষ: কথা এমনে কইতাছো ক্যান। মনে হয় যে ঘুমায় ঘুমায় কথা কইতাছো।

নারী: ঘুমায় ঘুমায় কথা বলতাছি না। ক্লাসে আছি। অফিসে বসেন। আমি আসতাছি।

পুরুষ: কেন আমি অফিসে বসবো। আমি অফিসে বসব না। আমি এখন কথা বলবো এবং যা ইচ্ছা তাই বলব।

নারী: বাড়াবাড়ি করতাছেন যে।

পুরুষ: বাড়াবাড়ি কী করছি আবার। কথা বলা মানুষের বাক স্বাধীনতা।

নারী: আপনি তো আমার বাক স্বাধীনতা হরন করছেন। পোলাপাইনের সামনে অনেক কিছু বলতে পারছি না।

পুরুষ: হা হা হা

নারী: মজা নিতাছেন।

পুরুষ: এটা ঠিক না, এটা ঠিক না। একজনকে লাইনে রাইখা আরেকজনের সঙ্গে কথা বলা। না এটা ভদ্রতা পরিপন্থী কাজ। ওনারা থাকলে এখন তো আর যাওয়া যাইবে না।

নারী: এক ঝামেলার মধ্যে এত রস আসে কোত্থেকে।

পুরুষ: আজকেই বিকালে, সন্ধ্যায় আসতাছি।

নারী: আরে নাহ।

পুরুষ: আচ্ছা ঠিক আছে তুমি জানাও।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়