ভারতের সেনাপ্রধান এখন কক্সবাজারে

আগের সংবাদ

পিটার কানের এপ্রিল ১৯৭১

পরের সংবাদ

দরিদ্রদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা

তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছ জবাবদিহিতা থাকতে হবে

প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২১ , ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১ , ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

মহামারীর এই সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দেশের শ্রমজীবী মানুষ। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সরকার নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষকে বাঁচাতে আন্তরিক ও মনোযোগী। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ৫৭২ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ পরিবারের মধ্যে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্য বিবরণীতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে থাকা এসব মানুষকে এই ক্রান্তিকালীন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে এ টাকা বিতরণে সতর্ক থাকতে হবে। গত বছর টাকা বিতরণের তালিকা তৈরিতে বিভিন্ন জায়গায় নয়ছয়ের খবর পাওয়া গেছে। একই মোবাইল নম্বর ২০০ জন উপকারভোগীর নামের বিপরীতে ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনাও দেখছি। এমন খবর আমরা দেখতে চাই না। তথ্য অধিদপ্তর জানায়, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলার জন্য ৮৭ লাখ ৭৯ হাজার ২০৩টি কার্ড এবং ৩২৮টি পৌরসভার জন্য ১২ লাখ ৩০ হাজার ৭৪৬টি কার্ডসহ মোট ১ কোটি ৯ হাজার ৯৪৯টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ৪৫০ কোটি ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫০ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। পরিবারপ্রতি ১০ কেজি চালের সমমূল্য অর্থাৎ কার্ডপ্রতি ৪৫০ টাকা হারে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে উপজেলাগুলোর জন্য ৩৯৫ কোটি ৬ লাখ ৪১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং পৌরসভাগুলোর জন্য ৫৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ বরাদ্দ খুবই সময়োপযোগী। কিন্তু শঙ্কা থাকে ভুক্তভোগীরা সুফল পাবে কিনা? আমরা মনে করি, দেশের সংকটকালে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মহামারি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। সরকার স্বল্পমূল্যে সরকারিভাবে পণ্য সরবরাহ করতে খোলাবাজারে (ওএমএস) কার্যক্রম আরো বাড়াতে পারে। অনিয়ম রোধে ওএমএস নীতিমালায় বর্ণিত জেলা/বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর কমিটি সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করতে পারে। আমরা মনে করি, সরকার যদি দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের খাবার বিতরণ নিশ্চিত করতে পারে- তাহলে গরিব মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ জবাবদিহিতা না থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারেও সরকারের করণীয় রয়েছে। তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি দূর করতে ভোটার আইডি কার্ড ও মুঠোফোন নম্বর কাজে সহায়ক হতে পারে। প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কাজটি করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়