রোনালদোকেই সেরা বেছে নিলেন উসাইন বোল্ট

আগের সংবাদ

তাহসানকন্যার সাফল্যে গর্বিত সৃজিত-মিথিলা

পরের সংবাদ

মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি: ‘কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর’

প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২১ , ৯:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১ , ১১:০৭ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবারও পহেলা বৈশাখের রংটাই পাল্টে দিচ্ছে। বৈশ্বিক এই দুর্যোগে মানুষের জীবন অবরুদ্ধ। ঘরে বসেই দেশের মানুষ মোকাবেলা করছে এই মহামারীর। এবারও পহেলা বৈশাখের বাংলা ঢোলের বাজনা বাজবে বাঙালির মনে মনে। প্রাণে প্রাণ মিলবে রাস্তা বা খোলা ময়দানে নয়, যার যার বাসায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জারে। বৈশাখের উৎসব হবে বাংলার ঘরে ঘরে, নিজের মতো করে।

মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়েছে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সব আয়োজন। মঙ্গল শোভাযাত্রা কিংবা রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আর হচ্ছে না। করোনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবারও বর্ষবরণ আয়োজন বাতিল করেছে ছায়ানট। স্বাধীনতার পর দ্বিতীয়বারের মতো রমনায় ছায়ানটের অনুষ্ঠান হচ্ছে না।

তবে বর্ষবরণের এবারের আয়োজন গেল বারের মতোই সীমাবদ্ধ থাকবে। বিটিভিতে থাকবে বিশেষ আয়োজন। অবশ্য পয়লা বৈশাখের চিরন্তন রূপকে তুলে ধরতে বরাবরের মতো এবারও উদ্যোগ নিয়েছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। তারা সপ্তাহখানেক আগে থেকেই চারুকলার দেয়াল রাঙিয়ে তুলেছেন। তবে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর’ অনুসরণে উজ্জ্বল রঙয়ের পরিবর্তে ধূসর রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। আর এসব আল্পনার মধ্য দিয়েই করোনাকালিন বর্ষবরণের আয়োজন করছেন শিক্ষার্থীরা।

তবে এবার করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জনতার ঢলে মঙ্গলশোভাযাত্রার পরিবর্তে প্রতীকীভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন সীমিত করে ১০০ জনের এই ‘প্রতীকী’ মঙ্গল শোভাযাত্রার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। গেল ৭ এপ্রিল ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বলেন, চারুকলা অনুষদ চত্বরে ১০০ জনের একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ চত্বরেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এক্ষেত্রে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রাটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক সুমন কুমার বৈদ্য জানালেন, প্রতি বছর বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনের কাজ করে থাকে। এবারে তা হচ্ছে না। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী ঢাকায় অবস্থান করছে তাদের নিয়েই আল্পনার কাজ করছি আমরা। করোনার কারণে এবারের পোস্টার থেকে শুরু করে দেয়ালের আল্পনায় সাদা কালো আর ধুসরের ছোঁয়ায় ফোক মোটিফে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে এবার কোন স্ট্রাকচার হচ্ছে না।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল জানান, করোনার কারণে মানুষ তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সংস্কৃতিকর্মীদেরও নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। সব মিলিয়ে রমনা বটমূলে এবার অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে বিটিভিতে ৫০ মিনিটের আয়োজন রেখেছি। এর মধ্য দিয়েই বৈশাখের পুরো অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।

সামনে নববর্ষ। নববর্ষকে ঘিরে চারুকলার শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত আল্পনা আঁকায়। ছবি: শরীফা বুলবুল

এদিকে, চলমান করোনা ভাইরাসের ঊর্ধসংক্রমণের মধ্যে পহেলা বৈশাখে কোনো প্রকার জনসমাগম করা যাবে না বলে জানিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আ স ম হাসান আল আমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ৭ এপ্রিল এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডিজিটালি বা ভার্চুয়ালি বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইন বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, গত ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ উদযাপন সংক্রান্ত গৃহীত কর্মসূচির বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করে জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান পরিহার করে সম্ভব হলে অনলাইন বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অনুরোধ জানানো হলো। কোনো অবস্থাতেই জনসমাগম করা যাবে না।’ এই মহাদুর্যোগের মধ্যেই বৈশাখ আসায় সরকারি আদেশেই এদিন খোলামাঠে সকল আয়োজন বন্ধ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নববর্ষ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মেলা বা ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো যাবে না। এতে আরো বলা হয়, “কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ উদযাপন করা হবে। সেই সীমিত পরিসরের আয়োজন উপলক্ষে শুরু হয়েছে চারুকলার দেয়াল রাঙিয়ে তুলছেন চারুকলা শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য ছায়ানটের যাত্রা শুরু হয়েছিল পাকিস্তানি আমলের বৈরী পরিবেশে। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ছায়ানটের যে যাত্রার সূচনা, তা মূলত বাঙালির আপন সত্তাকে জাগিয়ে তুলবার, আপন সংস্কৃতিতে বাঁচবার অধিকার ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করবার জন্য। একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ ঘটাবার জন্য ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে শুরু হয় বাংলা বছরকে আবাহনের আয়োজন। সেই থেকে পাঁচ দশক ধরে বাংলা বছরের প্রথম লগ্ন পয়লা বৈশাখের প্রত্যুষে এই সংগঠন আপন সংস্কৃতির অনুষ্ঠান করে আসছে। কিন্তু গত বছরের মতো এ বছরও কোভিট থামিয়ে দিল সকল আয়োজন।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রতিবছর বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরে মানুষের অনাবিল সুখ-সমৃদ্ধি ও মঙ্গলালোক কামনা করে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে মানবতার অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত বছরও পহেলা বৈশাখে কোনো আয়োজনই হয়নি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়