কড়া নিরাপত্তায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ

আগের সংবাদ

ক্রেতাশূন্য রাজধানীর মার্কেটগুলোতে

পরের সংবাদ

ভিড়ে ঠাসা হলেও বিক্রিতে আশাভঙ্গ

প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২১ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২১ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ

শেষ ছুটির দিন ঘিরে প্রতিবছরই বইমেলায় সর্বাধিক বেচা বিক্রি হয়। গোটা মেলা চত্বর লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ায় বিক্রির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তবে এবারই প্রথম হতাশাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হলো স্টল মালিক ও প্রকাশকদের। করোনাকালীন মেলার শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ছিল প্রায় উপচেপড়া ভিড়। অনেক স্টলেই সামাজিক দূরত্ব ভেঙে বই কিনেছেন ক্রেতারা। তবে অনেক স্টলই ছিল ফাঁকা। স্টল মালিক আর প্রকাশকরা বলছেন, যেমনটি আশা করেছিলেন তেমন বেচাবিক্রি হয়নি। তবে মেলা চত্বরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই ছিলেন দর্শনার্থী।

গেল ১৮ মার্চ শুরু হওয়া অমর একুশে বইমেলা শেষ হবে ১৪ এপ্রিল। এর আগে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ছিল শেষ ছুটির দিন। স্টল মালিকরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন দিনটি ঘিরে। ক্রেতাদের ভিড় জমে উঠলে বিক্রিও হবে আশানুরূপ। ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া যাবে। তবে শেষ অবধি সে আশা পূরণ হয়নি স্টল মালিকদের। মেলার ২৩তম দিনে শুক্রবার ক্রেতা পাঠকদের ভিড় জমেছিল ঠিকই তবে মেলার দরজা বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তেই অতি অল্প সময়ের জন্য বেচাবিক্রি জমে ওঠে। আর সময় কম হওয়ায় হঠাৎ শুরু হয়েই থেমে যায় বেচাবিক্রি। কয়েকটি স্টলে বিক্রি আগের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও বেশিরভাগ স্টল মালিকদের আশাভঙ্গ হয়েছে। তারা এখন পর্দা নামার অপেক্ষায় রয়েছেন।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এর সিনিয়র কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ বললেন, হেফাজতি গল্ডগোল, করোনা, গরম, অড সময়সূচিসহ সব বিপর্যয় মেলার ওপরই এসে পড়েছে। অথচ অন্য বছর স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি হতো, শুক্রবারে ৮ লাখ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু এখন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। আশায় ছিলাম শুক্রবারে অন্তত আশানুরুপ বিক্রি হবে। কিন্তু আশা পূরণ হলো না।

স্টলে বই দেখছেন দর্শনার্থীরা।

একই সুর দেখা গেল আদিগন্ত প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মোশতাক রায়হানের কণ্ঠে। তিনি বললেন, শুরু থেকেই খারাপ অবস্থা। প্রথমত করোনা, দ্বিতীয়ত দেরিতে মেলার আয়োজন হওয়ায় মেলার এই দুর্গতি। শুক্রবারের আশায় ছিলাম। কিন্তু তাতেও গুড়েবালি পড়ল। মেলার দুর্গতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে বই কিনলে প্রকাশকরা প্রাণে বাঁচবে। এদিকে নজর না দিলে প্রকাশনা শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

আশা ভঙ্গের গল্প শোনা গেল অন্বয় প্রকাশ এর স্বত্বাধিকারী হুমায়ন কবীর ঢালীর মুখেও। বললেন, বিক্রি কি করে হবে? বইমেলায় আসা যাওয়ার রিকসা ভাড়াও উঠছে না। অসময়ে মেলার এই ফল। অথচ আজকের ছুটির দিনটার দিকে আশায় ছিলাম। কিন্তু সে আশা পূরণ হলো না। তবে লেখক স্বকৃত নোমান অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছেন, এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এর থেকে বেশি কিছু আশাও করি নি।

অন্যপ্রকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি বললেন, আজকের ছুটির দিনটার জন্য আশায় ছিলাম। কিন্তু আশানুরূপ বিক্রি হয়নি।

এদিকে, শুক্রবার মেলার ২৩তম দিনে বেশ কিছু স্টলে ভালো বিক্রি দেখা গেলেও অনেক ছোট বড় স্টল ছিল একেবারে ক্রেতাশূন্য। বিকেলে মেলায় ভিড় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন আসা ভালোমানের বইয়ের পাশাপাশি ক্রেতাদের বেশিরভাগই চিরন্তন বইয়ের দিকেই ঝুঁকেছে।

মেলার পরিসর বড় হওয়ায় অনেক স্টল একেবারেই শূন্য দেখা গেছে। তবে বেশিরভাগ স্টলে ক্রেতাদের আনাগোনা আগের চেয়ে বেড়েছে। স্টল মালিকরা গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের দিকেই তাকিয়েছিলেন। আশা করেছিলেন মেলার শেষ শুক্রবার অন্তত শেষ হাসিটা হাসতে পারবেন। শেষ হাসি নয়, কপালজুড়ে চিন্তার ভাঁজ নিয়েই ফিরতে হলো বাড়ি। কারণ যখন ক্রেতা পাঠকের ঢল তখনই মেলার গেট বন্ধ করে দেয়া হলো।

এদিকে শুক্রবারের সকালে শিশু প্রহর না থাকলেও গত শুক্রবার শিশুদের অন্তত আগাগোনা ছিল। কিন্তু মেলার শেষ শুক্রবার শিশু ক্রেতার দেখাও মেলেনি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়