স্ত্রীর কাছে সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করা যায়ঃ মামুনুলের সাফাই

আগের সংবাদ

সেনাবাহিনীকে এক লাখ টিকা উপহার দিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান

পরের সংবাদ

হেফাজতের তাণ্ডবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন বাঁধা দেয়নি: প্রশ্ন বাম মোর্চার

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ১০:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ১০:২৪ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব ’৭১ এর পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় মন্তব্য করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ তাণ্ডব কেন পুলিশ বাঁধা দেয়নি সে প্রশ্ন করেছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। এর জন্য সরকার দায় এড়াতে পারে না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের ডাকা বিক্ষোভ ও হরতাল চলাকালে পুলিশি হামলায় হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতের তাণ্ডবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের প্রকৃত ঘটনা জানতে বাম জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গত ৪ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে বাম মোর্চার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

প্রতিনিধি দলে জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সাইফুল হক, আব্দুল্লা আল কাফি রতন, বাচ্চু ভুইয়া। প্রতিনিধি দলের সাথে সিপিবি জেলা নেতা শাহরিয়ার মো. ফিরোজ, সাজিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট জামাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাম নেতারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের জন্য প্রধানত হেফাজতে ইসলামই দায়ী। কিন্তু হেফাজতের তাণ্ডবের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিভিল প্রশাসন কেন নিষ্ক্রিয় ছিল? গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি সরকারকে কোনো আগাম সংবাদ দেয়নি? আগের দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পরেও কেন তাণ্ডব? ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, হাটহাজারীতে আগেও এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কেন সরকার পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বার বার ডাকার পরও সময় মতো কেন পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস আসেনি? এর জবাব সরকারকে দিতে হবে। ফলে তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার দায় সরকারও এড়াতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা মানস নন্দী, ইউসিবিএল’র কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আকবর খান, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আব্দুল আলী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নেতৃবৃন্দ ২৬-২৮ মার্চ বিক্ষোভ হরতাল চলাকালে ৫০ এর অধিক সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির উপাসনালয় ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে জড়িতদের এবং উস্কানিদাতাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করাসহ ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়