মেঘনা নদীতে ফেরিতে আগুনে পুড়ল ১০ ট্রাক-পিকআপ

আগের সংবাদ

মামুনুলের পক্ষে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞার সিটি করপোরেশনগুলোতে চালু হওয়া গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হচ্ছে না। অনেকে মাস্কও ব্যবহার করছেন না। এছাড়া সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গণপরিবহন চালু রাখার সরকার নির্ধারিত শর্তও মানা হচ্ছে না। গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় গণপরিবহন চালু হলেও রাত ৯টা পর্যন্ত তা চলাচল করেছে। সরকারের বিধিনিষেধ মানাতে বাসচালকদের বাধ্য করতেও প্রশাসনের নজরদারি দৃশ্যমান ছিল না। এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরেও ঢাকা থেকে কিছু কিছু গণপরিবহন ছেড়েছে। ঢাকাতেও বাইরের গণপরিবহন প্রবেশ করেছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) দ্বিতীয় ঢেউ রোধে সরকার এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গতকাল লকডাউনের তৃতীয় দিনে সরকারি ঘোষণায় গণপরিবহন চালু হওয়ায় রাজধানীর সড়কগুলো স্বাভাবিক রূপে ফিরেছে। সিটির ভেতরেই শুধু বাস চলার কথা থাকলেও যাত্রী নিয়ে এর বাইরে থেকেও গণপরিবহন প্রবেশ করেছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে অনীহার সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও ছিল।

বুধবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সবগুলো সিটিতে চলতে শুরু করে যাত্রীবাহী বাস। সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহন চলাচল করলেও যাত্রী চাপ তেমন একটা নেই। এছাড়া প্রায় সবগুলো বাসেই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, গণপরিবহনকে তার আগের রূপে ফিরেছে। অধিকাংশ গণপরিবহন অর্ধেক যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করেছে। সকাল দশটায় ধানমন্ডি ১৫ নাম্বার বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট সময় মেনে সিটিং ও লোকাল বাসগুলো চলাচল করলেও যাত্রী তেমন নেই। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে বেশ কিছু যাত্রী দেখা গেলেও তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা ছিল না। নির্দেশনা অনুযায়ী এসব বাসে কোনো ধরনের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারও দেখা যায়নি।
এদিকে, শহরের ভেতরের সড়কগুলোতে চলাচল করা গণপরিবহনে যাত্রী চাপ কম থাকলেও মূল সড়কের বাসগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতেও দেখা গেছে। মিরপুর-১ থেকে কমলাপুরগামী আয়াত পরিবহনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে।

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী পরিবহন ও ফাঁকা রাস্তায় ধীর গতিতে পরিবহন চলাচলের কারণে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। ধানমন্ডি থেকে মিডলাইন পরিবহনে কমলাপুরগামী এক যাত্রী বলেন, টাকা বেশি নিয়েওকোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানছে না পরিবহনগুলো। তার ওপর আবার ধীর গতিতে চলাচল করছে। প্রত্যেকটা স্টপেজে কম করে হলেও দশ মিনিট অপেক্ষা করছে বাসগুলো। বিরক্তির চরম সীমা অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, অফিস ও ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্তে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকালও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে ব্যবসায়ীরা। এমনকি নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান খুলতেও দেখা গেছে।

সিটি করপোরেশনের বাইরে বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গতকাল সকালে রাজধানীতে দেখা যায় ভিন্ন পরিস্থিতি। ভোর থেকে সাভার ও ধামরাই থেকে যাত্রী নিয়ে বাস ঢোকে ঢাকায়। আবার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে এসব এলাকার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। গাবতলী গরুর হাট মোড়ে বাসগুলোকে আটকে দেয় তারা। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজলায় নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য বাস রাজধানীতে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে সিলেট, কুমিল্লা ও লাকসাম এলাকার দূরপাল্লার বাসগুলোও প্রবেশ করতে দেখা যায়। এছাড়াও বলাকা পরিবহনকেও গাজীপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছে।

বরাবরের মতোই অনেক যাত্রীদেরই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলেও গণপরিবহন চালু হওয়ায় অফিসগামীরা ছিল স্বস্তিতে। বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় মূলত স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতকারী যাত্রীদের। বাসে উঠলেই তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ১৫-২০ টাকা। এছাড়াও এসব যাত্রী পরিবহনে অনাগ্রহও দেখা গেছে বাসচালকদের।
এদিকে, গতকালও বাড়িফেরা মানুষের চাপ দেখা যায় গাবতলীতে। কয়েকজন যাত্রী জানান, গাবতলী পর্যন্ত গণপরিবহনে এসেছেন। কাজ না থাকায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। রওনা যেহেতু হয়েছেন, সেহেতু একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

আমাদের চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গতকাল সরেজমিন চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, জিইসি, টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, নিউমার্কেট ও কাজির দেউরিতে প্রায় সব গণপরিবহনে উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি। বেশিরভাগ গণপরিবহনে ছিল না কোনো হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অর্ধেক যাত্রী নেয়ার কথা থাকলে সম্পূর্ণ সিট ভর্তি করে উল্টো দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে অনেক গাড়িতে। আবার কোনো কোনো মোড়ে জটলা পাকানো অপেক্ষমাণ যাত্রী ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে অফিস ও ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্তে বুধবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও গাউছিয়া এলাকায় বিক্ষোভ করেছে ব্যবসায়ীরা। নিউমার্কেটের সামনের ফুটপাতে অনেকে দোকান খুলে বসলেও পরে পুলিশ তা উঠিয়ে দেয়। শপিংমল খোলার দাবিতে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল আর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে মানববন্ধন করে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, গতবছর করোনা মহামারির কারণে ঈদ মৌসুমে পুরোটাই ভেস্তে গেছে। এ বছরও রমজান শুরুর আগেই সরকারের বিধিনিষেধে বন্ধ হয়ে গেছে মার্কেট ও শপিংমল। এ অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও মার্কেট খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তানে ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যানারে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন দোকানদাররা। এ সময় ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মান্নান জানান, ২-১ দিনের মধ্যে দোকান খুলতে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন তারা। রাজশাহীর সাহেববাজারের কাপড়পট্টির ব্যবসায়ীরাও দোকান খোলার দাবিতে বিক্ষোভ করে। ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণার পর রোজা ও ঈদ সামনে রেখে দিনে অন্তত ৪ ঘণ্টা শপিংমল খোলা রাখার দাবি করে আসছিল রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের দোকান মালিক সমিতি।

এদিকে, গণপরিবহনের মতো অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং আবারো চালুর করার দাবি জানিয়ে রাজধানীর মগবাজার, বেইলি রোড, শ্যামলী, এয়ারপোর্ট ও তেজগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকরা। এ বিষয়ে ঢাকা রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার্স ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. এহসানুল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রতিটি মোটরযান খুলে দেয়ার পরও মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

অন্যদিকে, সংক্রমণ রোধে লকডাউন নিয়ে গতকালও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই রাস্তায় চলেছেন নাগরিকরা। রাজধানীর চকবাজার ও বংশালে মাস্ক পরায় সচেতনতা তৈরিতে মাঠে ছিল ঢাকা জেলা প্রশাসক পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। শাহবাগে মাস্ক বিতরণ করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে রমনার সহকারী কমিশনার শেখ মোহাম্মদ শামীম ভোরের কাগজকে বলেন, বাধ্য করছেন না, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তারা জনগণকে সচেতন করছেন। তাই মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানেটাইজার দিচ্ছেন তারা।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়