ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনায় বড় পতনে লেনদেন শেষ

আগের সংবাদ

করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিলেন সিইসি

পরের সংবাদ

বৃষ্টি না হওয়ায় আমের ফলন নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৩:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৩:০৯ অপরাহ্ণ

আমের জন্য যে জেলার পরিচিতি সবার কাছে তা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ। চাঁপাইনবাবগঞ্জকে কেউ কেউ বলে আমের জেলা বা আমের রাজধানী। সেই আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সব আম বাগানগুলোতে গাছের মুকুল থেকে ইতিমধ্যে থোকায় থোকায় আমের গুটি শোভা পাচ্ছে। গাছে গাছে আমের গুটি দেখা গেলেও দীর্ঘ ৫ মাস যাবত বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছে আম ব্যবসায়ীরা ও আম বাগানের মালিকরা।

উপজেলার আম ব্যবসায়ী মো. ফারুক হোসেন জানান, এ বছর আমের মুকুলের পর যে হারে থোকায় থোকায় আমের গুটি আসছে তা গত বছরের থেকে ভালই এসেছে। তবে গত বছরে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। আশায় বুক বেঁধেছিলাম হয়তো ফলন ভাল হবে।

আম বাগান মালিক মো. কাজল জানান, এবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ আমের মুকুল এসেছিলো। আর সময় মত থোকায় থোকায় গুটি আসায় আশার সঞ্চার জেগেছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমের গুটি ঝড়তে বসেছে। বেশ চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী আম গাছে পানি দিয়ে স্প্রে এবং গাছের গোড়ায় পানি দিয়ে চলেছি। খরচের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে, তদুপরি এই মুহুর্তে করার কিছুই নেই।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাসুদ হোসেন ভোরের কাগজকে জানান, এ উপজেলা ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এবং গাছের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। এখানে প্রায় ১৯ জাতের আম চাষ হয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষযোগ্য আম হচ্ছে আষিনা। এবার আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার মেট্রিকটন। যা গত বারের চেয়ে বেশি। এ উপজেলায় প্রধান অর্থকারী ফসল হওয়ায় এই আমকে ঘিরেই এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্ত বৈরী আবহাওয়া এ অঞ্চলের মানুষের মুখে যেন হাসি নেই, মলিন হয়েগেছে। তিনি আরো জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে কোন বৃষ্টি না হলে প্রায় ২০ শতাংশ আমের গুটি যেতে পারে। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে। আম চাষীদের আমরা বরন নামে এক প্রকার কীটনাশক স্প্রে ও গাছের গোড়ায় সেচ দেওয়া পরামর্শ দিয়ে আসছি। তাতে আমের গুটি ঝড়া অনেকটাই রোধ হবে।

এদিকে, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন ভোরের কাগজকে জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে এখন পর্যন্ত এ জেলায় বৃষ্টি নেই। পানির জলাধার থেকে সেচের মাধ্যমে গাছ স্প্রে করলে আমের গুটি কিছুটা রক্ষা পাবে। খরার কারণে আমের গাছ গুলো পানি শুন্য হয়ে পড়েছে, সেহেতু গাছের গোড়া একটু করে গর্ত করে পানি দিলে গাছগুলো পানি শুন্যতা থেকে রক্ষা পাবে।

এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়