জালিয়াত চক্রের টার্গেট উচ্চ আদালত

আগের সংবাদ

বাড়তি বই ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন প্রকাশকরা

পরের সংবাদ

প্রবীণে ভারাক্রান্ত বিএনপি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

প্রবীণ নেতাদের ভারে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই বার্ধক্যে অসুস্থ এবং নিষ্ক্রিয়। বয়সের ভারে ন্যুব্জ নীতিনির্ধারকের কয়েকজন রাজনীতিতে পুরোপুরিই নিষ্ক্রিয়। অসুখে-বিসুখে তাদের সময় কাটে কখনো হাসপাতালে, কখনো বাসায়। দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বহুদিন যোগাযোগ নেই অনেকের। এমন পরিস্থিতিতে দলকে চাঙ্গা করতে নিষ্ক্রিয় নেতাদের পদ পরিবর্তন চায় বিএনপির তৃণমূল। তবে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মানজনক বিদায় কিংবা দলীয় অবস্থানে রাখার পক্ষে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা এখন রাজনীতিতে পুরোপুরি ‘অক্ষম’। এজন্য মাঠের সক্রিয় রাজনীতি থেকে তাদের বাদ দেয়ার পক্ষে দলটির তৃণমূল। তবে তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অংশীদারত্ব এবং উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চায় তৃণমূল। এজন্য তাদের সম্মানজনক বিদায় কিংবা সুবিধাজনক পদে মূল্যায়িত করে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার পরামর্শ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এমন চিন্তা-ভাবনা করছেন। সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে তিনি বলেছেন, আন্দোলনে থাকা ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের সামনে নিয়ে আসা হবে। সেক্ষেত্রে অসুস্থ ও বয়স্কদেরও ছাড় দিতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো না। একা চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরও বয়স হয়েছে। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছেন। বছরে অন্তত দুবার দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যের মধ্যে বেশির ভাগ নেতাই এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। স্থায়ী কমিটির নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠক করলেও রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন না তারা। করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণের ভয়ে কর্মসূচিতে আসেন না বয়স্ক নেতারা। যারা আসেন বেশিক্ষণ দাঁড়িয়েও থাকতে পারেন না। ১৯ সদস্যের এ কমিটির পাঁচটি পদই শূন্য।

বর্তমানে বিএনপির সবচেয়ে বয়স্ক নেতা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ৩ মাস আগেও বৈঠক কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। এখন আর বাসা থেকে বের হতে পারেন না। বার্ধক্যজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া নিজ বাসাতেই সময় কাটাচ্ছেন। দলীয় কর্মসূচিতে পুরোপুরি অনুপস্থিত। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নেই। তার একান্ত সহকারী মোকছেদুর রহমান আবির জানান, তিনি নিউরো সমস্যায় ভুগছেন।

বয়োজ্যেষ্ঠ আরেক নেতা নজরুল ইসলাম খান ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই। অসুখে-বিসুখে ভালো নেই তিনিও। দলের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে কয়েক দিন পর পরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত বছর প্রায় ২ মাস তিনি হাসপাতালে ছিলেন। আরেক নেতা ড. মঈন খান শারীরিকভাবে তেমন অসুস্থ না হলেও বয়সের কারণে সতর্কভাবে বাসায় অবস্থান করেন। দলীয় কর্মসূচিতে খুব একটা দেখা যায় না তাকে। ফুসফুসে পানি জমে টানা ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। টানা ৫ দিন আইসিইউতে থাকার পর একটু সুস্থ তিনি। এর আগেও পেটের পীড়া ও বুকের ব্যথা নিয়ে কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগে তার হার্টে অস্ত্রোপচার হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির মতো একটি বড় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এমন অবস্থা থাকা উচিত নয়। সিনিয়র নেতারা চৌকস ও বিচক্ষণ হলেও বেশির ভাগই অসুস্থ। এই দলে অনেক মেধাবী, যোগ্য, অপেক্ষাকৃত কম বয়সি নেতৃত্ব রয়েছে। তাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো উচিত। যারা শারীরিকভাবে ফিট তারাই আন্দোলনের রাজপথে লড়াইয়ের সামর্থ্য রাখে।

এ বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অভিজ্ঞতা যতই থাক, বয়োবৃদ্ধদের দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ সম্ভব না। কারণ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মাঠে থাকলেই নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে। কিন্তু স্থায়ী কমিটিতে এখন যারা আছেন তাদের অধিকাংশেরই মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সামর্থ্য নেই। এজন্য স্থায়ী কমিটিতে তরুণদের জায়গা দিতে হবে।

প্রবীণ রাজনীতিবিদদের প্রসঙ্গে বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা বলেন, তারা বিএনপির সম্পদ। তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কোনো তুলনা নেই। দল পুনর্গঠন করা হলে তাদের অবশ্যই সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে হবে। তাদের থেকে এখনো আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ নেতৃত্বকে বিএনপির হাল ধরতে হবে।

সূত্র জানায়, যত দ্রæত সম্ভব স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণের চিন্তা বিএনপির হাইকমান্ডের। ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকীয় পদগুলোতেও যোগ্য, তরুণ ও মেধাবীদের আনা হবে। সিনিয়র উপদেষ্টা পদ সৃষ্টি করে বয়স্ক ও অসুস্থ নেতাদের পদায়ন করা হতে পারে। এজন্য দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হবে।

জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, বিএনপিতে এমন একটি শক্ত নেতৃত্ব দরকার যারা টানা ১০ বছর দলকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে পারবে। সেক্ষেত্রে যারা বয়স্ক, ঠিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না তাদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করা প্রয়োজন। না হলে বিএনপি এক ধরনের নেতৃত্ব শূন্যতার মধ্য দিয়ে যাবে, দলকে চাঙ্গা করতে পারবে না।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়